• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিনা পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে সফল উদ্যোক্তা জেনি

০৬ জুলাই ২০১৯, ১২:৪৪
ইনারস্ট্রিংস
ইনারস্ট্রিংসের কর্ণধার 'ইসরাত জেনি'

মেয়ে মানুষ কি আর ছেলের জায়গা নিতে পারে? ছেলেরা ব্যবসা করতে পারে, ইনকাম করে মা-বাবাকে সাহায্য করতে পারে, সংসারের দায়িত্ব নিতে পারে— এই কথাগুলো আমাদের সমাজে খুব স্বাভাবিক কিছু কথা। তবে এই কথাগুলোকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বর্তমানে মেয়েরাই সামলাচ্ছে অন্দরমহল সে সঙ্গে ব্যবসা। নিজেদের দক্ষতা আর বুদ্ধি দিয়ে জয় করছে সমাজে সব প্ল্যাটফর্ম। 

একজন তরুণ উদ্যোক্তা ইসরাত জেনি। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “ইনারস্ট্রিংস (ইন ইয়োর বাজেট)” এর কর্ণধার তিনি। জেনিকে অবশ্য উপরের কথাগুলো শুনতে হয়নি। নিজে থেকে কিছু করার অদম্য শক্তিই তাকে ব্যবসা জগতে নিয়ে আসে। ব্যবসা আর নিজের কিছু কথা নিয়ে আড্ডা হয় তার সাথে। 

জেনির অনলাইন বিজনেসে সূচনা ২০১৭ সালে। জেনি বলেন, ‘এমনটা বলবো না যে শখ থেকে ব্যবসায় আসা। আসলে ছোটবেলা থেকে আমার চাকরি করার কোনো ইচ্ছা ছিল না। বাবা ব্যবসায়ী বিধায় সবসময় চাইতাম ব্যবসাই করবো। তবে নিতান্তই প্রয়োজন থেকে ব্যবসার শুরু।’

কী সেই প্রয়োজন? জানতে চাইলে জেনি বলেন, ‘নিজে থেকে কিছু করার তাগিদ থেকেই ব্যবসা শুরু করি আমি। আব্বুর ছেলে হয়ে দেখাবো, পরিবারে সাহায্য করতো পারবো, নিজের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ বহন করতে পারবো, সেসঙ্গে নিজের চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারবো। এসব ভাবনা থেকেই ব্যবসার শুরু।’ 

ব্যবসার শুরুর দিকে সবারই কোনো না কোনো গল্প থাকে। বিশেষ করে এ গল্পগুলো হয়ে থাকে মূলধনকে কেন্দ্র করে। জেনির কাছে জানতে চাই কত টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন? খানিকটা হেসে জেনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার গল্পটা আর ১০ জন থেকে খানিকটা ভিন্ন বোধহয়। কারণ এক টাকাও মূলধন না নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম আমি।’

শুনে খানিকটা অবাকই হতে হয় বটে। কোনো মূলধন ছাড়া ব্যবসা। কীভাবে সম্ভব? জেনি জানান, ভার্সিটির এক বন্ধু দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করত। তার কাছে জানতে চান কীভাবে কী করবেন। বন্ধুটি জেনিকে পরামর্শ দেন তার থেকে পাইকারি দরে পণ্য নেওয়ার জন্য। 

রাজী হন জেনি। বন্ধু থেকে পণ্যের ছবি তুলে কাস্টমারদের থেকে অর্ডার নেওয়া শুরু করেন। সে সঙ্গে কিছু টাকা অগ্রিমও নেন। সেই টাকা আবার বন্ধুটিকে দিয়ে বাকি টাকা পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় দেন। এভাবেই ব্যবসার সূচনা হয়। 

ইনারস্ট্রিংস

ইনারস্ট্রিংস এর কিছু পণ্য 

প্রথম দিকে পণ্যগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা লাভ রাখতেন জেনি। এর ফলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তার প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মূল্য কম ছিল। যার ফলে অল্প সময়েই অনেক ক্রেতা পেলেন তিনি। বাধ সাধলো ডেলিভারিতে। পরবর্তীতে একটি ডেলিভারি কোম্পানির সাথে চুক্তি করে নেন জেনি। 

সবকিছুই ঠিকঠাকই চলছিল। হুট করেই সেই বন্ধু অজানা কারণে পণ্য দেওয়া বন্ধ করে দিলো। প্রায় মাস দুয়েক ব্যবসা বন্ধ ছিল। তারপর আবার নতুন সাপ্লায়ারের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করলেন। শুরুতে কেবল চায়না থেকে পণ্য আনতেন জেনি। 

এরপর নামমাত্র পরিচিত এক ব্যক্তির সাহায্যে ইন্ডিয়া থেকেও পণ্য আনা শুরু করলেন। সেই ব্যক্তিও টাকা মেরে দিলো। ভুল থেকে শিক্ষা নিলেন জেনি। পাকিস্তান, চায়না আর ভারত থেকে নিজেই পণ্য আনা শুরু করলেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। 

“ইনারস্ট্রিংস” এর শুরুর নাম ছিল ‘ইন ইয়োর বাজেট’। কারণ এখানে সবকিছুই মিলে সাধ্যের মধ্যে। সম্প্রতি নারীদের অন্তর্বাস যুক্ত করার পর বেশ ভালো সাড়া পান জেনি। এরপর পেজের নাম বদলে ইনারস্ট্রিংস রাখেন। 

ইনারস্ট্রিংস

ইনারস্ট্রিংস এর কিছু পণ্য 

কী রয়েছে ইনারস্ট্রিংসে? জেনি জানান, এখানকার মূল পণ্য হলো ভারতীয় পোশাক, শাড়ি, গয়না। বিয়ের জন্য বিশেষ কিছু পোশাক আর গয়নাও রয়েছে। সেসঙ্গে রয়েছে পাকিস্তানের ব্র্যান্ডেড পোশাক ও বিয়ের পোশাক। চায়নার প্রায় সবরকমের পণ্যই রয়েছে এখানে। তবে বর্তমানে ইনারস্ট্রিংসের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভালোমানের আর অসাধারণ ডিজাইনের নারীদের বিভিন্ন অন্তর্বাস। 

প্রতিটি ব্যবসাতেই কিছু ভালো লাগা, মন্দ লাগার স্মৃতি থাকে। জেনির এমন কোনো স্মৃতি আছে কিনা জানতে চাই। তিনি বলেন, ‘গুটিকয়েক ক্রেতা প্রায়ই কষ্ট দেন। তাদের আচরণে বেশ আঘাত লাগে, নিজেকে প্রতারক মনে হয়। কিন্তু এসব মনে রাখি না। কারণ আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই আমাকে বোনের মতো ভালোবাসে। তাই অনেক ভালোলাগার স্মৃতি রয়েছে। 

ইনারস্ট্রিংস

ইনারস্ট্রিংস এর কিছু পণ্য 

সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন নিজের টাকা দিয়ে ভার্সিটির ফি দিতে যাই, পরিবারে কিছু সাহায্য করি, মা-বাবাকে নিজের অর্জিত টাকায় কিছু উপহার দিতে পারি। ঈদে যখন অ্যাকাউন্টে ৬ সংখ্যার অর্থ জমা হয়েছিল তখনো বেশ আনন্দ হয়েছিল।’

এতদিন ধরে কেবল বিদেশি পণ্য নিয়ে কাজ করলেও এবার দেশি কাপড়, দেশি ব্র্যান্ড ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে ইনারস্ট্রিংস। মূলত ক্রেতাদের চাহিদার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া। খুব তাড়াতাড়ি তাই ক্রেতারা বিদেশি পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় পোশাক পাবেন এখানে। 

মা-বাবার দোয়া সঙ্গী করে ইনারস্ট্রিংস নিয়ে অনেকদূর পথ পাড়ি দিতে চান জেনি। তার জন্য ‘দৈনিক অধিকার’ এর পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা। 

‘ইনারস্ট্রিংস’ এর ফেসবুক পেজ লিঙ্ক- InnerStrings

‘ইনারস্ট্রিংস’ এর ফেসবুক গ্রুপ লিঙ্ক- InnerStrings [In Your Budget]

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড