• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

সিঁদুর : সাধ্যের মাঝে সেরা পোশাক


২০ মে ২০১৯, ১১:৫২
সিঁদুর
'সিঁদুর' এর কর্ণধার আফছানা মীর শিথী

 বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা খুব পরিচিত একটি বিষয়। স্বল্প মূলধনে, ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা থাকায় অনেক নারীই ঝুঁকছেন এদিকে। আবার কম সময়ে, কম ঝামেলায় কেনাকাটা করা যায় বলে অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই। 

কিন্তু আজ থেকে ৪/৫ বছর আগেও প্রেক্ষাপট এমন ছিল না। তখন গুটিকয়েক মানুষ অনলাইন ব্যবসায় নামেন। যাদের মূল লক্ষ্য ছিল কম পরিশ্রমে ক্রেতার হাতে পছন্দের পণ্য তুলে দেওয়া। সে সময়েরই একজন সাহসী উদ্যোক্তা আফছানা মীর শিথী। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু করেন নিজের অনলাইনভিত্তিক পোশাকের প্রতিষ্ঠান ‘সিঁদুর’ এর যাত্রা। 

বর্তমানে অনেক নারীরই পছন্দের অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘সিঁদুর’। হাতের নাগালে দাম আর ভালো মানের পণ্য এই দুই হলো সিঁদুরের বৈশিষ্ট্য। তবে এ অবস্থানে হুট করেই আসা হয়নি। অনেক ত্যাগ, ধৈর্য আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই ক্রেতাদের মনে জায়গা করে নেয় ‘সিঁদুর’। প্রায় ৬ বছরের যাত্রা পথ নিয়েই কিছুটা সময় গল্প হয় ‘সিঁদুর’ এর কর্ণধার শিথীর সঙ্গে। 

শিথীর কাছে জানতে চাই একদম শুরুর দিকের কথা। তিনি বলেন, ‘আমি যখন পেইজ খুলি তখন আমি বাদে হাতে গোনা কয়েকটি নামকরা পেইজ ছিল। তারা দেখতাম খুব লাভ রেখে ছবি দেয় পেইজে। কিন্তু সেসব পোশাক আমি চাইলেই তাদের চেয়ে কমে দিতে পারি কারণ আমার তখন ইন্ডিয়া তে একজন বন্ধু ছিল, একজন আন্টিও ছিল। 

 

এছাড়া ড্রেসের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকে শৌখিন হওয়ার কারণে কিছু হোলসেলারের সাথে পরিচয়ও ছিল। আর আমি নিজে ডিজাইন করে ড্রেস পরলেও বান্ধুবিরা, পাড়া প্রতিবেশিরা বাহ বাহ দিত, প্রশংসা করত।  সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসায় আসার ভাবনা। একদিন কিছু ক্যাটালগ ড্রেস আর নিজের ডিজাইন করা দুই তিনটি ড্রেসের ছবি পেইজ খুলে আপলোড করি।’

শিথী তখন বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ভাবনা ছিল, ঈদে ৩/৪টা ড্রেস বিক্রি হলেও হাত খরচ ৫০০/৬০০ টাকা আসবে। একজন ছাত্রীর জন্য এটাই অনেক। দশম শ্রেণী থেকেই টিউশনি করতেন শিথী, সেসঙ্গে করতেন আউট সোর্সিংও। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বেকারই ছিলেন। আর তাই নিজে কিছু করা এবং হাত খরচ আয় করার কথা ভেবেই সিঁদুরের যাত্রা শুরু করেন। 

অন্য পাঁচ/দশটা পেজের তুলনায় সিঁদুরের নামটা বেশ ভিন্ন। জানতে চাই শিথীর কাছে, এই নামকরণের গল্প। শিথী জানান, অনলাইন প্রতিষ্ঠান খোলার সময় এমন নাম খুঁজছিলেন যা তার নামের সঙ্গে মেলে আবার মেয়েদের সাজসজ্জার অংশ। সবকিছু মিলিয়ে এক বন্ধু নাম দিলেন ‘সিঁদুর’। তবে এই নামের কারণে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় শিথীকে। নাম সিঁদুর কেন? হিন্দুদের সাজসজ্জার কিছু দিয়ে পেইজ হবে কেন, এই নামে ব্যবসা চলবে না- এমন অনেক কথাই শুনতে হয় তাকে। তবে নিন্দুকের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ‘সিঁদুর’ প্রথম সপ্তাহেই ২০টির বেশি পোশাক বিক্রি করে। 

কী কী রয়েছে সিঁদুরে? শিথী জানান, মেয়েদের যাবতীয় জিনিস সবই রয়েছে সিঁদুরে। তবে ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে সেলোয়ার কামিজ ও শাড়ি। এছাড়াও এখানে পাবেন কাপল ড্রেস, শিশুদের পোশাক, ছেলেদের পাঞ্জাবী ইত্যাদি। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি সিঁদুর হোলসেলও দিয়ে থাকে। আর তাই দাম থাকে হাতের নাগালে। 

তবে চলার পথ অতটা মসৃণ ছিল না শিথীর। প্রতিষ্ঠান একটু বড় হতেই একই ব্যবসায় রয়েছে এমন গুঁটি কয়েক মানুষ নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করতে শুরু করলো। আইডি হ্যাক, ইনবক্সে বাজে কথা, সাইবার বুলিং এমন অনেক কিছুর শিকার হলাম। এইতো কিছুদিন আগেও আইডি, গ্রুপ হ্যাক হয়েছিলো। পেইজ হ্যাক হওয়ার আগে উদ্ধার করা গেছে। সব প্রতিকূলতা সঙ্গী করেই ‘সিঁদুর’ এগিয়ে চলেছে ক্রেতাদের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে। 

কাছের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিথী বলেন, ‘আব্বু, আম্মুর দোয়া আর কাছের কিছু বন্ধুদের সাপোর্টে এত দূর আশা।  সিঁদুরের শুরু থেকে মিনহাজ এবং মিশু ছিল আমার পাশে। আর এখন মারুফ কাজ করছে আমার সাথে। ইনশাআল্লাহ দুজন মিলে আগামীতে আরও ভাল কিছু করব।’ 

সিঁদুর নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন শিথী। ছোট কোনো শোরুম দেওয়ার ইচ্ছে না থাকায় সুযোগ ও সাধ্য থাকলেও তা দিচ্ছে না। অনলাইনে একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই বর্তমানে সিঁদুরের লক্ষ্য। একদিন বাংলাদেশের টপ ব্র্যান্ড হিসেবেই ‘সিঁদুর’ এর শোরুম থাকবে এমনটা স্বপ্ন শিথীর। 

সিঁদুর এর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক- Shidur 

সিঁদুর এর ফেসবুক গ্রুপের লিঙ্ক- Shidur :) (only for girls)

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড