• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

মৌপানি কেকারি : কেকের গায়ে জীবনের ছোঁয়া

১৪ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩০
মৌপানি কেকারি
‘মৌপানি কেকারি’র তৈরি কিছু কেক 

টেবিলের ওপর সাজানো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’। পাশেই এক ঝুড়ি শিউলি। বইয়ের পাতা উল্টাতে গেলেই চমকে উঠবেন আপনি। কারণ এতক্ষণ যেটিকে বই ভাবছিলেন সেটি আসলে একটি কেক। এমনই নিখুঁত কেক তৈরির কারিগর একজন সাধারণ নারী। 

এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্ত আছেন অনলাইন ব্যবসায়ের সাথে। গৃহিণী থেকে বেকারির ব্যবসায় আসা সিরাজুম মুনিরার সঙ্গে কথা হয় তার কাজ ও ব্যবসায় আসার গল্প নিয়ে। পড়াশোনা চলাকালীন সময়েই বিয়ে হয়ে যায় মুনিরার। প্রাণ রসায়ন নিয়ে পড়াশোনা করলেও বিয়ের পর ব্যস্ত হয়ে যান সংসার আর সন্তানদের নিয়ে। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে অতটা ভাবা হয়নি। 

কেক

‘মৌপানি কেকারি’র তৈরি কিছু কেক 

 

বেকিং করা নেশাটা তার বেশ পুরোনো। মুনিরা বলেন, ‘আমার একমাত্র নেশা ও ভালো লাগা হলো বেকিং। অনেক আগে থেকেই বেকিং এর কাজ করতাম। বাচ্চাদের জন্মদিনের কেক, ডেজার্ট, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন সবার জন্য কেক বানিয়ে দিতাম। আমার বানানো কেক খেয়ে সবাই প্রশংসা করতো, উৎসাহ দিতো।’

স্বামীর চাকরির সূত্রে ঢাকার বাইরে থাকতে পরিবার নিয়ে। তখন বেকিং সামগ্রী বা আধুনিক কেক রেসিপির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রতুলতা ছিল না। বছর তিনেক আগে আসেন ঢাকায়। তখন সংসারের প্রয়োজনে আর নিজের পরিচয়ের কথা ভেবে কেক ডেকোরেটিংয়ের কিছু কোর্স করে ফেলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু করেন অনলাইন বেকারি শপ ‘মৌপানি কেকারি’ এর যাত্রা। 

সাধারণ বেকারি শপগুলোর চাইতে নামটা কিছুটা ভিন্ন। আগ্রহ নিয়ে জানতে চাই এর পেছনে কোনো গল্প রয়েছে কি না। মুনিরা জানান, তার তিন সন্তানের নাম মৌমিতা, পারমিতা ও নিহাল। তাদের তিনজনের নামের অদ্যাক্ষর থেকেই “মৌপানি” শব্দটি এসেছে। তিন সন্তানকে জড়ানো নামেই নিজের পরিচয় হোক- এমনই ইচ্ছা অসাধারণ কেক বানানো এই সাধারণ গৃহিণীর। 

যেকোনো ব্যবসাতে কিছু অনুভূতি থাকে। মুনিরার কাছে জানতে চাই তার অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘এই ব্যবসাতে আসার পর অনেক ভালো লাগার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি কিছু কষ্টের অনুভূতিও জমেছে। যখন শুনি আমার বানানো কেক দেখে কারোর প্রিয় মানুষ কেঁদে দিয়েছে কিংবা কাটতেই চাইছে না, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আবার যখন কোনো ক্লায়েন্ট কেক খেয়ে প্রশংসা করে, কাজের সুনাম করে তখন খুব ভালো লাগে।’

কেক

‘মৌপানি কেকারি’র তৈরি কিছু কেক 

 

আসলেই মুনিরার তৈরি কেকগুলো প্রশংসার দাবি রাখে। এই কেকগুলোতে কখনো তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন প্রিয় বইয়ের প্রচ্ছদ, কখনো বা কেকের নাম করে ছড়িয়ে দিয়েছেন শিউলি কিংবা কদম। বিভিন্ন পেশাকেও ফুটিয়ে তুলেছেন ক্রিম আর মডেলিং চকলেটের মাধ্যমে। এ যেন শিল্প আর প্রতিভার মেলবন্ধন। কিন্তু সবসময় কি ভালো অভিজ্ঞতা হয়? নাকি কখনো খারাপ লাগার গল্পও জমা হয়? 

মুনিরা বলেন, ‘একেকটা কেক বানাতে অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয়। কেননা সব ঘরের কাজ শেষ করে রাত জেগে কেকের কাজ করতে হয়। অনেকেই কেকের দাম নিয়ে কথা বলেন, কেউবা ডেলিভারি চার্জ নিয়ে। আবার অনেক সময় সকালে অর্ডার দিলে বিকেলে কেন পাবো না এমন প্রশ্নও করেন কেউ কেউ। এমন প্রশ্নগুলো খানিকটা কষ্ট দেয়, বিব্রত হই খুব।’

‘মৌপানি কেকারি’তে রয়েছে কাস্টমাইজড কেক, ডেজার্ট ইত্যাদি। কেকের ডিজাইন, ওজন ও ফ্লেভার-এই তিনটি বিষয় বিবেচনা করে প্রতিটি কেকের দাম নির্ধারণ করা হয়। একটি অর্ডার নেবার পর অর্ধেক পেমেন্ট এডভান্স বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয়, বাকি অর্ধেক নেওয়া হয় ডেলিভারির সময়।

শখের বশে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে ব্যবসাটি মুনিরার কাছে সন্তানতূল্য। নিজের কাজগুলো সবার ভালো লাগুক, মানুষ ভালোবেসে ‘মৌপানি কেকারি’র কেক গ্রহণ করুক এমনটাও চাওয়া তার। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড