• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

‘খাটি’ আচার বানিয়েই কেয়া মনির আত্মতৃপ্তি

নিশীতা মিতু  
১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৩

নাজমা আক্তার কেয়া
খাটির কর্ণধার 'নাজমা আক্তার কেয়া'

একটু বৃষ্টি হলেই মাথায় আসে খিচুড়ির কথা। বৃষ্টির সঙ্গে তার সম্পর্ক যেন খুব গভীর। খিচুড়ির কথা বললেই বলতে হয় আচারের কথা। ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে একটুখানি পছন্দের আচার। ইশ! শুনেই যেন জিভে জল এসে যায়। 

অনেকেই আচার বানানোর সময় পান না কিংবা ঠিক উপায় জানেন না বানানোর। তাই বাজার থেকে কেনা আচারই তাদের শেষ ভরসা। কিন্তু এ আচারে স্বাদ যেন পুরোপুরি মেলে না। ভাবুন তো এক টুকরো আমের কিংবা চালতার আচার মুখে দিয়েই মনের অজান্তে বলে উঠলেন, “ওমা! এ যেন মায়ের হাতের আচার”! 

ঠিকই ধরেছেন, আজ যার গল্প বলতে যাচ্ছি তিনি মায়ের হাতে বানানো আচারের স্বাদের খাটি আচারই পৌঁছে দিচ্ছেন সবার কাছে। বলছিলাম আচারের অনলাইন প্রতিষ্ঠান “খাটি দ্যা পিউর ফুড” এর কর্ণধার নাজমা আক্তার কেয়ার কথা। 

বর্তমান যুগে অনেক নারীই অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেউ পোশাকের ব্যবসা করছেন, কেউবা গয়নার কারুকাজ নিয়ে ব্যস্ত। অনেকে আবার ঘর সাজানোর নানা সামগ্রীও বিক্রি করেন। কিন্তু আচার? আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলাম কেয়ার কাছে। শুনতে চাইলাম শুরুর দিকের গল্প। 

কেয়া বলেন, ‘পরিবারের সবার বেশ আদরের আমি। আমাকে কেয়া মনি বলে ডাকে। পড়াশোনা করেছি ডেন্টালে। কিন্তু মন কেন যেন সবসময় ক্রিয়েটিভ কিছুর দিকে টানে। নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই ৪/৫ বছর আগে ঘরোয়াভাবে ব্যবসায় আসে। ২০১৬ সাল থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করি অফিসিয়াল পেইজের।’

খাটি

খাটির আচার 

 

আচার নিয়ে ব্যবসা কেন?— জানতে চাইলাম তার কাছে। বললেন, ‘বিয়ের পর স্বামীর আচারের প্রতি আগ্রহ দেখে তার জন্য প্রায়ই আচার বানাতাম। তারপর প্রতিবেশী, আত্মীয়, বান্ধবীদেরও দিতাম। তারা খেয়ে খুব প্রশংসা করত। সবসময় নিজে কিছু করতে চাইতাম। তাই আচার সম্পূর্ণ নিজের রেসিপিতেই তৈরি করতাম। 

সবসময় ভাবতাম, সৃজনশীল কিছু করবো যা মানুষের কাজে লাগবে, উপকারে আসবে। একদিন মনে হলো আমি মানুষের হাতে হাতে এই আচার পৌঁছে দেই না কেন? যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু হলো চেষ্টা। কীভাবে কী করা যায় ভেবে পেইজ খুলে ফেললাম। নাম দিলাম খাটি। 

আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম এমন নামকরণের কারণ কী? কেয়া জানালেন, তিনি চান তার যত্ন আর ভালোবাসা মিশ্রিত খাটি পণ্য মানুষের হাতে তুলে দিতে। যেন তারা খাবার টেবিলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে আর বলতে পারে এ খাবার আসলেই খাটি।  

খাটি

খাটির আচার

 

এভাবেই নেশা থেকে পেশাদার আচার বানানোর কারিগর হয়ে গেলেন কেয়া। নিজের আত্মতৃপ্তির কথা বলতে গিয়ে বললেন, ‘বিভিন্ন গ্রুপে কেউ আচারের খোঁজে পোস্ট দিলে ‘খাটি’র নাম থাকে সবার ওপর। সবাই আচারের প্রশংসা করে। আচার বানিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এগুলো আমাকে মারাত্মকভাবে অনুপ্রাণিত করে। কেউ যখন আচার খাওয়ার পর ইনবক্সে জানায় ‘এত মজার আচার আগে কখনও খাইনি’ তখন বেশ ভালো লাগে।’

খাটির আচারের গ্রাহক চাহিদা অনেক। তাই প্রথমদিকে শুধু ঢাকাতে দিলেও এখন পুরো বাংলাদেশেই আচার ডেলিভারি করা হয়। প্রবাসী গ্রাহকরা ছুটিতে দেশে আসলে অনেক আচার নিয়ে যান। 

আচার বানানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কেয়া বলেন, ‘আচার বানানো অনেক ধৈর্যের কাজ। অনেক কষ্ট হয় মাঝে মাঝে। কিন্তু সবার ভালোবাসার কাছে হার মানে কষ্ট। সেসঙ্গে আমার স্বামীর প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। সে আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলেই আমি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি।’

খাটিতে প্রায় সব ধরনের সিজনাল ফলের আচারই পাবেন। যেমন- আম, জলপাই, চালতা, তেতুল, বরই, রসুন, নাগা মরিচ, কাচা মরিচ, আলুবোখারা,  রসুন, আমড়া, বালাচাও ইত্যাদি। এখন সেসঙ্গে পিঠাও পাবেন এখানে। আর সব পণ্যের দামও হবে হাতের নাগালে। 

একদিন অনলাইনের গণ্ডি পেরিয়ে খাটির আচারের একটি শোরুম থাকবে, খাটিকে সবাই একনামে চিনবে—এমনটাই কামনা কেয়ার। 

খাটির ফেসবুক পেজের লিঙ্ক : খাটি : Khati the pure food

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড