• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাধ্যের মধ্যে সেরা পণ্য : জেনির ‘ইন ইওর বাজেট’

  নিশীতা মিতু

৩১ মার্চ ২০২২, ০৯:২৬
ইসরাত জেনি
ইসরাত জেনি

সমবয়সীদের তুলনায় ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু বেশিই সচেতন ছিলেন ইসরাত জেনি। নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন সবসময়। আর সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করেন এই তরুণী। নিজের অদম্য চেষ্টায় আর কঠোর পরিশ্রমে ইতোমধ্যে সফল উদ্যোক্তার তকমা গায়ে মেখেছেন তিনি। নারীদের পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘ইন ইওর বাজেট’ এর কর্ণধার জেনি। উদ্যোক্তা এই নারীর সঙ্গে স্বল্প সময় আড্ডা হয় দৈনিক অধিকারের।

ঢাকার মেয়ে জেনি। জন্ম ১৯৯৪ সালে। ছোটবেলায় বেশ শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন জেনি। মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় সবসময় তাদের আদরে থাকতেন। শৈশবের বন্ধুর সংখ্যাও তাই খুব কম। নিজের মতো থাকতে ভালোবাসতেন। একাই খেলাধুলা করতেন। তবে সেসময় একজন ভালো সঙ্গী ছিল তার। তিনি হচ্ছেন জেনির দাদী।

বর্তমানে পুরোদস্তুর ব্যবসা করছেন জেনি। এ সম্পর্ক তিনি বলে, ব্যবসা এমন একটি ক্ষেত্র যে এখানের ব্যস্ততা সামলে অন্য কোনো পেশায় তাকানোর সময়ও হয়ে উঠে না।

পারিবারিকভাবে জেনির পরিবারের সবাই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই বাবা, চাচা, মামাদের ব্যবসা করতে দেখে বড় হয়েছে তিনি। পরিবারের কাউকে সেভাবে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে দেখেননি। অর্থাৎ ব্যবসা বিষয়টি জেনির রক্তেই রয়েছে। তাছাড়া ৯-৫টার চাকরি জীবনও তাকে কখনো টানেনি। তাই, কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যবসাকে।

‘ইন ইউর বাজেট’ এর যাত্রা শুরু ২০১৮ সালে। ব্যবসা শুরুর গল্প বলতে গিয়ে জেনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আমি দেরিতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করি। তখন চারপাশের প্রতিযোগিতা দেখে মনে হচ্ছিল যে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পেতে পেতে এই প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। সুযোগও কমে যাবে। তখন থেকেই মাথায় ব্যবসার ভুত ভর করল। ভাবলাম এখন যদি কিছু শুরু করি তাহলে ভার্সিটি শেষ হতে হতে হয়তো আমি আরও দুজনের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারবো। এই ভাবনা থেকেই ব্যবসা শুরু করা।

বর্তমানে নারীদের সব ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করছেন জেনি। ইন ইউর বাজেটে রয়েছে সেলোয়ার কামিজ, কুর্তি, শাড়ি, জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি। এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

কাজের ব্যাপারে বেশ নাক উঁচু স্বভাবের মেয়ে জেনি। ভেন্ডর ১০টি পণ্য পাঠালেও দেখা যায় যাচাই বাছাই শেষে ৬টি রাখা হয়। আর তাই একই ধরনের পণ্য নিয়ে অনেকে কাজ করলেও জেনির ক্রেতাদের কাছে তিনিই বিশ্বস্ত। প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ইউ ইউর বাজেট’। বাংলায় যাকে বলা যায় সাধ্যের মধ্যে। পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন জেনি। এমন দাম রাখেন যেন ক্রেতার কখনো মনে না হয় যে তিনি ঠকে গেছেন। ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে সেরা পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

করোনা কেমন প্রভাব ফেলেছে ব্যবসায়? জানতে চাওয়া হলে জেনি বলেন, সত্যি বলতে সেই সময়টার কথা আর মনেও করতে চাই না। যেকোনো ব্যবসায়ীর জন্যই বোধহয় ওই সময়টা একটা শিক্ষা হয়ে থাকার কথা। ৬ মাস চোখে অন্ধকার দেখছিলাম মনে হয়। ঈদকে সামনে রেখে অনেক টাকার পণ্য অর্ডার করি। সেটা পৌঁছানোর আগেই শুরু হয় লকডাউন।

এ দিকে, অনেক ক্রেতার কাছ থেকেই অ্যাডভান্স নিয়েছিলাম। তাদের অনেকেরই আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়। টাকা ফেরত চান কেউ কেউ। কিন্তু আমি টাকা ইনভেস্ট করে ফেলেছি অন্য দিকে। পণ্য হাতে পাওয়ারও কোনো রাস্তা নেই। এভাবেই টানা ৬ মাস কেটে গেল। লাভ্যাংশ এমনকি সঞ্চয়ও শেষ হয়ে আসছিল। ভেবেছিলাম আবার ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর রহমত আর ক্রেতাদের ভরসায় আবার গুছিয়ে নিতে পেরেছি।

ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার সঙ্গে সমন্বয়কে কেমন চোখে দেখেন? প্রশ্নের জবাবে জেনি বলেন, আমাদের প্রতদিন ৪০-৫০ জন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। একেকজন একেক রকম। বিশ্বাস করুন, ব্যাপারটা আসলে ততটা সোজা নয়। সবার সঙ্গে মিলিয়ে চলার চেষ্টা করি। তবুও দিন শেষে প্রায়ই হোঁচট খেতে হয়। সময় যেমনই হোক, ক্রেতাকে কখনো বুঝতে দেওয়া যায় না এপাশে কেমন পরিস্থিতিতে আছি। তবে সত্যি বলতে, বেশিরভাগ সময়েই ক্রেতাদের সাপোর্ট পেয়েছি।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে জেনি বলে, কাউকে নতুন করে উদ্যোক্তা হতে দেখলে নিজের শুরুর সময়ের কথা মনে পড়ে যায়। অল্পবয়সী কাউকে যখন নিজের ভিত শক্ত করতে দেখি তখন কী যে ভালো লাগে! তবে একটি অনুরোধ করতে চাই। যে কাজ ভালো লাগে, ভালোবাসেন, যে কাজে ধারণা আছে- তা নিয়েই কাজ করুন। অমুক এই ব্যবসা করে খুব লাভবান হয়েছে তাই আমাকেও এটা করতে হবে- এমনটা করবেন না। তার হয়তো সেই বিষয়ে ভালো জ্ঞান রয়েছে। আপনার নাও থাকতে পারে।

ভবিষ্যতে নিজের উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে দেখতে চান জেনি। অনলাইন থেকে অফলাইনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হোক- সেটিও চান এই তরুণ উদ্যোক্তা।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড