• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুই বোনের সাজানো ‘নুসনা’

  নিশীতা মিতু

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০২
নুসনা
নুসরাত ও নাদিয়া

চট্টগ্রামের দুই তরুণী নুসরাত ও নাদিয়া। সম্পর্কে দুই বোন। তাদের আরও একটি পরিচয় রয়েছে, আর তা হলো উদ্যোক্তা। দুই বোন মিলে সামলাচ্ছেন পোশাক ও গয়নার অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘নুসনা’। কীভাবে শুরু করলেন তারা? কীভাবে সামলাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান? সেসব নিয়েই ছোট বোন নাদিয়ার সঙ্গে আড্ডা হয় দৈনিক অধিকারের।

নাদিয়ার পুরো নাম নাদিয়া হায়দার। চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতি নিয়ে মাস্টার্স করছেন তিনি। তার ব্যবসার পার্টনার বড় বোন নুসরাত। দুজনের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ‘নুসনা’। নামটি বেশ অদ্ভুত বটে! আক্ষরিক কোনো অর্থ নেই এই শব্দের। তাই নাদিয়ার কাছেই জানতে চাইলাম নামের ব্যাপারে। তিনি জানালেন, নুসরাত আর নাদিয়া নাম দুটোর প্রথম অংশ নুস আর না মিলে নুসনা। নামে আর কাজে- দুই ক্ষেত্রেই তবে দুই বোনের বন্ধন রয়েছে বলা যায়।

কাছাকাছি বয়সী বড় বোন নুসরাত ছোটবেলা থেকে নাদিয়ার খেলার সাথী। পুরোনো সেই দিনগুলোর দুষ্টুমিষ্টি স্মৃতি যেন এখনো মনে পড়ে তার। ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করে নাদিয়া বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ভাব ছিল, আবার অনেক ঝগড়াও হতো। দুজন একই স্কুলে পড়তাম। আমাদের বাড়ি থেকে স্কুল প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ছিল। পুরোটাই ছিল কাঁচা রাস্তা, রিকশাও তেমন একটা পাওয়া যেত না। আমরা দুই বোন পুরো পথ হেঁটে হেঁটে যেতাম।

এই দেড় কিলোমিটার পথ হাঁটতে কষ্ট হলেও অনেক আনন্দের ছিল। পথে কত যে দুষ্টুমি করতাম! যেদিন বৃষ্টি হতো সেদিন ছাতা বন্ধ করে ব্যাগে রেখে আমরা ভিজতাম। পুরো পথ বৃষ্টিতে মজা করতে করতে বাড়িতে ফিরতাম। সব মিলিয়ে আমাদের ছোটবেলা বেশ মজার ছিল। সেই দিনগুলো অনেক মনে পড়ে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু করে ‘নুসনা’। হুট করেই দুই বোন মিলে সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসা করবেন। সেই ভাবনাকেই দুজন মিলে রূপ দেন বাস্তবের। শুরু হয় ব্যবসায়িক জীবনে পথচলা।

নুসনা'র কিছু পণ্য

কী রয়েছে ‘নুসনা’তে? নাদিয়া বলেন, আমরা নানা ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করি। ক্রাফটিং আইটেম, হ্যান্ডপেইন্টের পণ্য রয়েছে। এছাড়াও আছে ভারতীয় শাড়ি-গয়না, পাকিস্তানি গয়না, অর্গানিক তেল ইত্যাদি। এসবের পাশাপাশি আমরা আম্মুর বানানো নাড়ু, পিঠাও বিক্রি করে থাকি।

সব মিলিয়ে ‘নুসনা’কে একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বলা যায়। যেখানে দুই বোন সরাসরি কাজ করছেন, আবার মাও পণ্য তৈরিতে সাহায্য করছেন। নাদিয়াও জানালেন সেই কথা। বললেন, শুরু থেকেই ব্যবসায় পরিবারের পুরো উৎসাহ পেয়েছি। পরিবারের প্রতিটি সদস্যই আমাদের প্রতিনিয়ত উৎসাহ আর সাহস দিয়ে গেছেন। ব্যবসা নিয়ে এতদূর আসার পেছনে অবশ্যই পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশি।

ব্যবসা শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই করোনা সংক্রমণে কাবু হয় দেশবাসী। মহামারির সেই ছোবল পড়ে ‘নুসনা’র ওপরও। দেশের বাইরের পণ্য নিয়ে কাজ করায় বেশ ভোগান্তিতেই পড়তে হয় তাদের। নাদিয়া বলেন, এমনও হয়েছে যে অনেক অর্ডার এসেছে, কিন্তু ডেলিভারি সিস্টেম বন্ধ থাকায় আমাকে ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

ব্যবসাক্ষেত্রে ক্রেতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নাদিয়া। তিনি বলেন, ক্রেতাদের ওপরও আমাদের ব্যবসা এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে। এজন্যই হয়ত ক্রেতাকে লক্ষ্মী বলা হয়। আমি মনে করি, ক্রেতাদের সঙ্গে অবশ্যই আন্তরিক ব্যবহার করতে হবে। অনেক ক্রেতাই আছে, যারা আত্মীয় স্বজনদের কাছে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। টাকার বিনিময়েও এমন দারুণ প্রচারণা সম্ভব নয়।

দুই বোনের এই উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে যাক এমনটাই চান তারা। পণ্যের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করার স্বপ্ন দেখেন তারা।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড