• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সৈয়দ নাজমুস সাকিব

স্বপ্নের পেছনে অদম্য ছুটে চলা এক তরুণ

  নিশীতা মিতু

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২২
সৈয়দ নাজমুস সাকিব
সৈয়দ নাজমুস সাকিব

‘যার কথার চেয়ে কাজের পরিমাণ বেশি, সাফল্য তার কাছেই এসে ধরা দেয়’- বলেছিলেন বিখ্যাত লেখক ডেল কার্নেগী। তাঁর এই উক্তি সাকিব ধারণ করেন কি না তা অজানা। তবে নিজের জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি নাছোড়বান্দা বটে। বলছিলাম স্বপ্নের পথে অদম্য ছুটে চলা এক তরুণ সৈয়দ নাজমুস সাকিবের কথা। যিনি চলার পথটা সৃষ্টি করেছেন নিজেই। পরিশ্রম, মেধা আর কাজের প্রতি পাগলামিতে এই তরুণ প্রতিনিয়ত নিজেকে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন করে। অধিকারের আজকের স্বপ্নছুঁইতে জানাবো তারই পথচলার গল্প-

সাকিব পেশায় একজন শিক্ষক। অবশ্য তার নেশায় রয়েছে সিনেমা। চলচ্চিত্রপ্রেমী এই যুবক দেখেছেন অসংখ্য সিনেমা, ব্যবচ্ছেদ করেছেন সেগুলোকে। অর্থাৎ, একজন চলচ্চিত্র সমালোচক তিনি। একইসঙ্গে আবার যুক্ত রয়েছেন অভিনয়ের সঙ্গে। খুব সাধারণভাবে দেখতে গেলে এই সাকিবই একজন সন্তান, কখনোবা ভাই, কোনো ক্ষেত্রে বন্ধু, শিক্ষার্থী কিংবা সহকর্মী। একই ব্যক্তির নানা সম্বোধন, নানা পরিচয়। কীভাবে সামলান সব? কোন ক্ষেত্রেই বা তিনি কেমন? প্রশ্নের জবাব খুঁজতে চলে গেছি তার জীবনবৃক্ষের নানা ডালে। জেনেছি সাকিব সম্পর্কে অজানা নানা তথ্য, তার ব্যক্তিত্ব আর স্বপ্ন ছোঁয়ার তুমুল ইচ্ছা নিয়ে।

১৯৯২ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকার সিএমএইচে জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে বেড়ে উঠেছেন বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে। স্কুলের গণ্ডিও তাই পার হয়েছেন ঢাকা, বগুড়া, কুমিল্লা আর সাভারের চারটি ভিন্ন স্কুলে পড়ার মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আলাদা টান সাকিবের। স্কুল-কলেজে পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন বই পড়তেন। বড় হয়ে হতে চাইতেন স্পাইডারম্যান, যেন জ্যামে পড়ে থাকতে না হয়।

মা-বাবার প্রথম সন্তান সাকিব, তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। একজন সন্তান হিসেবে তিনি কেমন? মা সুলতানা রাজিয়ার কাছে সাকিব অসাধারণ। পুরোনো দিনে স্মৃতিচারণে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি ‘কোলজুড়ে সাকিবের মতো একজন সন্তানের আগমন’- এমনটাই মনে করেন মা।

ছোট সাকিব, সময়ের প্রয়োজনে বড় হয়ে গেছেন। বর্তমানে তার পরিচয়ে পরিচিত হচ্ছেন মা। এই অনুভূতি কেমন, জানতে চাই তার কাছে। মা সুলতানা বলেন, অবশ্যই ভালো অনুভূতি হয় যে আমি এমন ভালো সন্তানের মা। আমার দৃষ্টিতে আমার সন্তান অনেক ভালো মানুষ। কাজেই ভালো মানুষের মা হিসেবে আমার অনেক গর্ব হয়।

মায়ের সঙ্গে সৈয়দ নাজমুস সাকিব

সাকিব যেন অবশ্যই সব মানুষকে সম্মান করেন- এমনটাই কামনা মায়ের। সন্তানরা তো মায়ের কাছে ছোটই থাকেন, তবে কি সাকিব এখনো মাঝেমধ্যে মায়ের মার খান? জানতে চাইলে সাকিবের মা বলেন, ‘মার খাওয়ার মতো কোনো কাজই সাকিব করে না।’ খানিক বাদে স্মিত হেসে বললেন, ‘তবে হ্যাঁ এখন মারবো যদি বিয়ে না করে’।

সৈয়দ নাজমুস সাকিবের সহোদর দুই ভাই। মেজভাই সৈয়দ নাজমুস সাদাত বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থান করছেন স্কটল্যান্ডে আর ছোট ভাই সৈয়দ নাজমুস জাওয়াদ পড়ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কটা ভাই কম, বন্ধু বেশি। সমস্যা যারই হোক, তিনজন মিলে আলোচনা করে সমাধান বের করে ফেলেন তারা।

ছোটবেলায় সাকিবের যে পোশাক ছোট হয়ে যেত তা অন্য দুই ভাই পরতেন- এই ব্যাপার নিয়ে খুব মজা করতেন সাকিব। তবে এখন ঘটছে উল্টো ঘটনা। ছোট দুই ভাইয়ের যে পোশাক ছোট হয়ে যায় তা এখন পরেন বড় ভাই। মজা নেওয়ার এই সুযোগও হাতছাড়া করেন না ছোট দুজন। অর্থাৎ খুনসুটি মজাতেই সময় কাটে তিন ভাইয়ের।

বড় ভাইয়ের পথচলা বেশ কাছ থেকে দেখেছেন সাদাত। তিনি বলেন, মানুষ যে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে এতটা পরিশ্রম করতে পারে তা আমার নিজের বড় ভাইকে না দেখলে জানতাম না। পরিশ্রম করার উদাহরণ হিসেবে আমার বড় ভাই একজন আদর্শ বলা যায়।

ছোট ভাই জাওয়াদের অবশ্য মাঝেমধ্যে বড় ভাইয়ের ওপর অভিমান হয়। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে যখন দেখি ও এত কষ্ট করে মানুষের জন্য, পারিশ্রমিক ছাড়া দিন-রাত খাটে, তখন আমার আসলেই একটু অভিমান হয়।

অগ্রজ একদিন বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেতা হবেন, সিনেমা সমালোচক হিসেবে নাম করবেন এমনটাই স্বপ্ন দুই সহোদরের।

সাকিবের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু গোবিন্দ দেব আর্য। বর্তমানে তিনি হামদর্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন দুজন। রাত জেগে দেখেছেন সিনেমা, একসঙ্গে করেছেন পরীক্ষার নোট। একজন বন্ধু হিসেবে সাকিব কেমন ছিলেন জানতে চাই তার কাছে।

গোবিন্দ বলেন, বন্ধু হিসেবে সাকিব চমৎকার একজন মানুষ। ওর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো ও কখনোই কারোর ব্যক্তিগত ব্যাপারে সমালোচনা করে না। অন্যের ভালো গুণের প্রশংসা সাকিব বেশ সহজেই করতে জানে আর খারাপটা এড়িয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া গোবিন্দর সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল যে বন্ধুটি, তিনি হলেন সাকিব। তবে ১০০ মিনিটের সিনেমা শেষ করতে সময় লাগতো ১৪০/১৫০ মিনিট। ভাবছেন কী করে? প্রতিটি দৃশ্যের পর কিছু সময়ের জন্য থামতেন সাকিব। বন্ধুকে বুঝিয়ে দিতেন সেই দৃশ্যের আশপাশ, কখনো বা বোঝাতেন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কাজটা করলে আরও সুন্দর হতো। সিনেমা যে মানুষটির ধ্যান-জ্ঞান তার থেকে এমন কিছু আশা করাই স্বাভাবিক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন সাকিব। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক মাশরুর শাহিদ তাপস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন স্যারের সবচেয়ে নিখুঁত মিমিক্রি করেছেন সাকিব। এ বিষয়ে সুনাম নিয়ে কিছুটা হলেও গর্ব বোধ করেন সাকিব নিজেই। ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটাই বলেছেন তিনি কদিন আগেই।

প্রিয় শিক্ষকের বাচনভঙ্গি এখনো সাকিবের জীবনে প্রভাব ফেলে। শিক্ষক সাকিবকে যখন তার শিক্ষার্থীরা কেমন আছেন জিজ্ঞেস করেন তখন তিনি উত্তর দেন, ‘আমি তো ভালোই থাকি’। ঠিক একই উত্তর দেন শিক্ষক মাশরুর। প্রশ্ন করা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করা, একেক পর এক প্রশ্ন করে কোনো বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া- এসব তিনি শিখেছেন প্রিয় শিক্ষক থেকেই।

সাকিবের কাছে যে মাশরুর স্যার প্রিয় তা তো জানা গেল, কিন্তু অপর পাশের চিত্রপট কেমন? স্যারের কাছে ছাত্র হিসেবে কেমন ছিলেন সাকিব? তাকে নকল করার বিষয়টিও বা কেমন করে নিতেন?- প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাই স্যারের কাছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মাশরুর শাহিদের কাছে জানতে চাই ছাত্র হিসেবে সাকিবের কোন দিকটি উল্লেখযোগ্য বলে মনে হতো বা তার ভালো লাগতো? জবাবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী হিসেবে সাকিব চুপচাপ ছিল। তবে ওর যে বৈশিষ্ট্য ভালো লাগতো তা হলো ও বক্তা হিসেবে চিত্তাকর্ষক, ওর এই গুণটি দারুণ। একবার দুর্গাপূজার মণ্ডপ ঘুরনের ২/৩ ঘণ্টা ও যে কী করতে থাকল কে জানে, তবে আমরা পুরোটা সময় হাসছিলাম। অদ্ভুত!’

সাকিব যে স্যারকে মিমিক্রি বা নকল করতেন এই বিষয়টি সেই সময় স্যারের কেমন লাগতো তা জানতে চাই। উত্তরে জনাব মাশরুর বলেন, ‘শিক্ষকদের নকল করা তো হয়েই থাকে। আমাকে নকল করত, করে অনেকে। সাকিব যে করে তা আমি জেনেছি বেশ পরে। তবে কেন করত তা জানা নেই। সচরাচর ২ কারণে আমরা নকল করি- ভেঙাতে কিংবা ভাঙাতে। প্রথমটি ব্যঙ্গ করার জন্য; দ্বিতীয়টি বিশেষ কারোর যোগ্যতা ভাঙিয়ে নিজের উন্নয়নের জন্য। যেহেতু আমার জানা নেই ও আমাকে কেন নকল করত, তাই এমনটা ধরে নেয়া নিরাপদ যে ও দ্বিতীয় কারণে করত।’

এখনো প্রিয় শিক্ষকের বাচনভঙ্গি সাকিবের জীবনে অনেক প্রভাব ফেলে- এই বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রভাব যদি ভালো হয়, তাহলে ঠিক আছে; কিন্তু প্রভাব থাকুক প্রভাবক হয়ে। একজন মানুষ নিশ্চয়ই অন্যের রং জানবে, ছানবে, টানবে; কেবল অনুকরণের জন্য নয় বরং নিজের রং নিজের মতো করে তৈরি করার জন্য। সাকিব নিশ্চয়ই এখন নিজের রঙে সাকিব হবে।’

প্রশ্নের জবাব শুনেও অনুমান করা গেল, কেন সাকিবের প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় মাশরুর স্যার রয়েছেন। তিনিও ছাত্র সাকিবকে পছন্দ করেন বটে। ছাত্রের আগত ভবিষ্যত নিয়ে কামনা করে তিনি বলেন, ‘একবার সাকিব বলেছিল যে ও বাংলাদেশের তৃতীয় সাকিব হবে, তাই হোক। চোখের সামনে বেড়ে ওঠা কাউকে সেরা হতে দেখা- সেই চোখ ভেজা গর্বের সাক্ষাৎ আমাদের সাকিবের মাধ্যমেও হোক।’

মাত্র ১৮ বছর বয়সে বাবাকে হারান সাকিব। বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তাই একটু কঠিন হয়ে ধরা দেয় তার কাছে। এক দিকে নিজের স্বপ্ন, নিজের একটা পরিচয় দাঁড় করানো আর অন্য দিকে জীবন আর জীবিকার প্রয়োজন। সাকিব দিশেহারা হয়ে পড়েননি, থেমেও থাকেননি। এক পা, দুই পা করে এগিয়ে গেছেন সেই পথের রেখা ধরে যেখানে জীবিকার সন্ধানও মিলবে, স্বপ্নও নাগালে আসবে।

সিনেমার সঙ্গে সাকিবের সখ্য সেই ছোটবেলা থেকেই। প্রথম দেখা সিনেমার শেষ দৃশ্যের বৃষ্টি দেখেছিলেন। সেই দৃশ্য মস্তিষ্কে এতটাই জায়গা করে নিয়েছিল যে বাইরে রোদ থাকার পরও তার মনে বৃষ্টি ঝরছিল। ২০১২ সাল থেকেই সিনেমা নিয়ে লেখালিখি করে আসছেন সাকিব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সিনেমা বিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপ থেকে শুরু করে নানা গণমাধ্যমে লিখেছেন সিনেমা, সিনেমার মানুষ, তাদের কাজ আর জীবন নিয়ে। পাঠকরাও তার লেখা গ্রহণ করেছেন সানন্দে।

ছোটবেলায় স্পাইডারম্যান হতে চাইলেও বড় হয়ে সাকিব হলেন সিনেম্যান। পরিচিত অনেকে তাকে এই সম্বোধন করে থাকেন প্রায়ই। দুটি বই লিখেছেন এই তরুণ। বই দুটোর নাম যথাক্রমে- সিনেম্যান (২০১৭) ও সিনেমামা (২০১৯)। বইয়ের নামেই বোঝা যাচ্ছে সিনেমার সঙ্গে তার প্রেমটা কতটা প্রখর।

লেখক সাকিবের আগে যে পরিচয়টি তিনি অর্জন করেছেন তা হলো সিনেমা সমালোচক। এক্ষেত্রে সাকিবকে কাছ থেকে যতজন দেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন মুক্তার ইবনে রফিক। বর্তমানে সাকিব ও মুক্তার দুজনই যুক্ত রয়েছেন এন্টারটেইনমেন্ট কন্টেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘সিনেগল্প’র সঙ্গে।

অভিনেতা মোশাররফ করিমের সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে সৈয়দ নাজমুস সাকিব

বাস্তবজীবনে একজন যোদ্ধা সাকিব। কেমন ছিল তার শুরুর দিনগুলো? জানতে চাই সিনেগল্পের কো-ফাউন্ডার ও সিইও মুক্তারের কাছে। তিনি বলেন, সাকিব ভাই সবসময়ই চাইতেন স্পটলাইট তার ওপরেই পড়ুক। যে কোনো আয়োজন যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয় সেখানেই তিনি যেতেন। নিজের পরিচিতি তৈরি করতে কিংবা নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হতেই এই যাওয়া। মাত্র ৫০০ টাকার জন্য তিনি বিয়েতে নেচেছেন এমনটাও হয়েছে। কম বয়সে বাবা হারানো পরিবারের বড় সন্তানের জন্য অর্থ আয় করা যেমন জরুরি ছিল, তেমনি মানুষের কাছে নিজের পরিচয় সৃষ্টি করে স্বপ্নের পথে আগানোও দরকার ছিল। আর এই দুটো প্রয়োজনেই তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন।

ব্যক্তি সাকিবকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মুক্তার বলেন, ‘সাকিব ভাই খুবই নম্র-ভদ্র আর কাজপাগল একজন মানুষ। তার জীবনে কাজ ছাড়া অন্যকিছুর অস্তিত্ব নেই, কারণ কাজ না থাকার কষ্ট সাকিব ভাই ভালো জানেন। এক কথায় বলতে গেলে সৈয়দ নাজমুস সাকিব একজন সৎ ব্যক্তি। সেটা হোক কাজের প্রতি, পরিবারের প্রতি কিংবা নিজের প্রতি।’

সহকর্মী সাকিবের উদ্দেশ্যে মুক্তার বলেন, ‘আমার দেখা সেরা ৫ জন কঠোর পরিশ্রমী মানুষের একজন সাকিব ভাই। কিন্তু তাকে আসলে মাঝেমধ্যে থামতে জানতে হবে, নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে তাকে বিশ্রাম নিতে হবে। নিজের জীবনকে তিনি যথেষ্ট উপভোগ করেন। তবুও আমার অনুরোধ থাকবে তিনি যেন মাঝেমধ্যে ফ্রেমের বাইরে বের হন। হতে পারে খোলা আকাশের নিচে যাওয়া কিংবা সমুদ্রে যাওয়া, হতে পারে নিজের পছন্দের কোনো খাবার খেতে যাওয়া। মোদ্দাকথা, নিজের জন্য নিজের কিছু সময় তাকে রাখতে হবে। আর উপদেশ বলতে গেলে, সাকিব ভাইকে আস্তে আস্তে অনেক মানুষ চিনছে, চিনবে। আমি চাইবো তিনি যেন সবসময়ই পা মাটিতে রাখেন অর্থাৎ বিনয়ী থাকেন।’

২০১৮ সাল থেকে রাজধানীর পিলখানায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজির সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন সাকিব। শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় রয়েছেন তিনি। কেবল বই নয়, প্রাসঙ্গিক বিষয় যে সাকিব স্যার নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টরির সাহায্যেও বোঝান তা বেশ উপভোগ করেন তারা। সহকর্মীরাও সাকিবকে পছন্দ করেন। একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক আসলাম হোসেইন তার সম্পর্কে বলেন, ‘সহকর্মী হিসেবে সাকিব স্যার দারুণ একজন মানুষ। আমাদের সঙ্গে সবসময় হাসিমুখে কথা বলেন এবং তার ব্যবহার অত্যন্ত সন্তোষজনক।’

পর্দার সামনে আসার স্বপ্নটা বেশ আগে থেকেই বুকে লালন করেছেন সাকিব। কারো সাহায্য বা সুপারিশ নয়, নিজের যোগ্যতা দিয়েই তা করতে চেয়েছেন তিনি। সফলও হয়েছেন এ ক্ষেত্রে। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ও টিভিসিতে নিজের মুখ দেখান সাকিব। তার অভিনীত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দেয়াল, ভালো থাকার গল্প, ফিকশনধর্মী নাটক ইরিনা, টিভি নাটক চিরকাল আজ, ওয়েব ফিল্ম ট্রল, ইউটিউমার, ওয়েব সিরিজ মহানগর ইত্যাদি।

‘মিশন এক্সট্রিম’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে সৈয়দ নাজমুস সাকিব

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘মিশন এক্সট্রিম’ এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় মুখ দেখিয়েছেন সাকিব। চলচ্চিত্রটির ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথমবার হিসেবে কতটুকু দিতে পেরেছেন সাকিব? জানতে চাই মিশন এক্সট্রিম চলচ্চিত্রের পরিচালক সানি সারওয়ারের কাছে। তিনি বলেন, ‘বড় পর্দায় তার চরিত্রের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করেছে সে।’

অভিনয়ের ব্যাপারে সাকিবের আগ্রহ বেশ জোরালো উল্লেখ করে সানি সারওয়ার বলেন, ‘চলচ্চিত্র নিয়ে সাকিবের যে ভাবনা, দুর্বলতা আর আবেগ তা তাকে একদিন এই পথে অনেকদূর নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

কাজে ডুবে থাকা সাকিব নিজের চেষ্টাতেই এক এক করে ছুঁয়েছেন নিজের স্বপ্ন। ‘একদিন কাজ করতে করতে শিশিরের মতো টুপ করে ঝরে যাবো’- এমনটা বলেন সাকিব। তবে পরিশ্রমী এই তরুণ নিজের স্বপ্নের আকাশে নক্ষত্র হয়ে জ্বলবেন অগণিত বছর- এই কামনাই করেন তার সুপরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আজ এই তরুণের জন্মদিন। তার জন্মদিনে দৈনিক অধিকারের পক্ষ থেকে রইল শুভেচ্ছা।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড