• বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এনির তৈরি ঘরোয়া খাবারের ‘ফুড ভ্যান’

  নিশীতা মিতু

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫৫
তাজিয়া আক্তার এনি
তাজিয়া আক্তার এনি

দুরন্ত এক শৈশব কাটানো নারী তাজিয়া আক্তার এনি। চঞ্চলতাকে সঙ্গী করে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বড় নওপাড়া গ্রামে শৈশব কাটিয়েছেন তিনি। বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে। ঘরে তৈরি খাবারের প্রতিষ্ঠান ‘ফুড ভ্যান’ এর কর্ণধার তিনি। দৈনিক অধিকারের সাথে স্বল্পকালীন আড্ডায় জানা হয় তার ছেলেবেলা, ব্যবসায় আসা আর আগামী দিনের স্বপ্ন নিয়ে।

ছেলেবেলায় বেশ চঞ্চল ছিলেন এনি। নিজেই জানালেন সে কথা। বললেন, গ্রামে বড় হয়েছি আমি। গাছে উঠা, সাঁতার না জেনেও মাছ ধরতে নেমে যাওয়া, ডাঙ্গুলি কিংবা গোল্লাছুট খেলা, সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে এই গ্রাম থেকে ওই গ্রামে ঘুরে বেড়ানো- এই ছিল আমার কাজ।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামে ছিলেন এনি। এরপর নদীভাঙনের কারণে ঢাকায় চলে আসা। স্কুলজীবনের বাকিটা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব ঢাকাতেই। গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর বড় পরিবর্তন হয়। ইচ্ছে থাকলেও কমে আসে চঞ্চলতার পরিমাণ। ধীরে ধীরে জীবনেও আসতে থাকে পরিবর্তন। অন্যদের দেখাদেখি সেসময় হাতের কাজ করা, ব্লকের কাজ করার প্রতি আগ্রহ জন্মে। আত্মীয়-স্বজনদের প্রয়োজনে কাজ করতে পারাটাই তার কাছে ছিল আনন্দের।

বর্তমানে সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ নিয়ে অনলাইন ব্যবসায় যুক্ত আছেন এনি। কীভাবে এই ক্ষেত্রে আসা? জানতে চাই তার কাছে। এনি বলেন, প্রথমে একজন পার্টনারের সঙ্গে মেয়েদের পোশাকের ব্যবসা শুরু করি কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন থেকে ফাস্ট ফুডের ওপর একটি কোর্স করি। কিন্তু খাবার নিয়ে কাজ করলে মানুষ কী বলবে এই ভেবে কিছুটা লজ্জা লাগছিল।

এরপর ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ফেসবুকে উদ্যোক্তা সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপে যুক্ত হই। সেখানে নিয়মিত লিখতাম আমার কাজ নিয়ে। আমার লেখা দেখে এক ভাবী খুব উৎসাহ দিলেন। আমার ঘরে তৈরি লাচ্ছা সেমাইয়ের ছবি দেখে অর্ডার করলেন। সেই বছর ঈদে আমি প্রায় ২০ কেজি লাচ্ছা সেমাই এর অর্ডার পাই। এভাবেই মূলত পথ চলার শুরু হয়।

ফুড ভ্যানের কিছু পণ্য

২০২০ সালের শুরুর দিকে যাত্রা শুরু করে ফুড ভ্যান। কী কী পাওয়া যায় এখানে? জানতে চাইলে এনি বলেন- আমি ফ্রোজেন ফুড, লাচ্ছা সেমাই, পিঠা, পায়েস, রেডি ফুড নিয়ে কাজ করছি। প্রথমে বিভিন্ন ধরনের ফ্রোজেন ফুড দিয়ে শুরু করেছিলাম। এরপর যোগ হয় সেমাই আর পোলাও-রোস্টের সেট মেন্যু। এছাড়াও শীতের সময় ক্রেতাদের জন্য আয়োজন করি বিভিন্ন ধরনের পিঠা। গ্রাহক চাহিদায় এগিয়ে রয়েছে পাটিসাপটা, দুধ চিতই, নারকের পুলি, নকশী পিঠা ইত্যাদি।

এসবের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড খাবারও তৈরি করে থাকেন এনি। কিছুদিন আগে এক ক্রেতার জন্য তৈরি করেছেন পিঠার ডালা। সম্পূর্ণ ক্রেতার পছন্দে তৈরি হয়েছে সেটি।

করোনার মধ্যে যাত্রা শুরু করে ফুড ভ্যান। লকডাউনের মধ্যে যখন মানুষ ঘরবন্দি হয়ে গিয়েছিল তখন তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করেন এনি। তিনি জানান, লকডাউনের সময় ফ্রোজেন খাবারের বেশ চাহিদা তৈরি হয়। তাই কাজ করেও আনন্দ পেয়েছেন তিনি।

ক্রেতার সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক এনির। খাবারের ব্যাপারে ক্রেতার পছন্দ, অনুরোধ বা উপদেশ মানতে চেষ্টা করেন তিনি। ফলে গ্রাহক ঠিক যেমন খাবার চাইছেন, তেমন খাবারই পান।

কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন এনি। দুই সন্তানের জননী হলেও তারা কাজের সময় মাকে বিরক্ত করে না। স্বামীও যতটা পারেন সাহায্য করে। কাজের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি সহযোগিতা পান তিনি শাশুড়ির কাছ থেকে। এনি বলেন, আমার শাশুড়ি মা আমাকে অনেক সাপোর্ট করেন। ঘরের কাজ থেকে শুরু করে আমার উদ্যোগে যতটা সম্ভব সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতের পিঠায় কীভাবে ঐতিহ্যের স্বাদ ঠিক রাখবো সে ব্যাপারে তিনি সবসময় সহযোগিতা করেন।

ব্যবসা করতে গিয়ে বেশি ভালো অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হয়েছেন এনি। করোনার সময় এমন অনেক অর্ডার এসেছিল যাদের পরিবারের মানুষ করোনায় আক্রান্ত বলে ঘরে রান্না সম্ভব হচ্ছে না। এমন মানুষগুলোর দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকতে পারাকে ভাগ্যের মনে করেন তিনি।

অন্যদের জন্য কাজ করে যেতে চান এনি। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চান নিজের কাজের মাধ্যমে।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: odhikaronline@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড