• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পরিবারের সবার সহযোগিতায় সাজানো ফাল্গুনীর ‘নিম্বল’

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৩৪
নাজমুন নাহার ফাল্গুনী
নাজমুন নাহার ফাল্গুনী

কেবল অর্থের প্রয়োজনে নয়, নিজস্ব একটা পরিচয় গড়তে অনেক নারীই যুক্ত হন অনলাইন ব্যবসায়ে। এমনই একজন নারী নাজমুন নাহার ফাল্গুনী। নারীদের দেশি বিদেশি পোশাক, গয়না, প্রসাধনীর অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘নিম্বল’ এর কর্ণধার তিনি। দৈনিক অধিকারের সাথে স্বল্প সময় আড্ডা হয় এই নারী উদ্যোক্তার। জানা যায় তার ব্যবসায়ে আসার গল্প থেকে শুরু করে অনেককিছু-

ফাল্গুনীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সবই ঢাকায়। দাদা বাড়ি, নানা বাড়িও এই রাজধানীতে। দাদা বাড়ির বড় আর নানা বাড়ির ছোট কন্যার ছোট সন্তান হিসেবে সবার আদর ভালোবাসায় বড় হয়েছেন তিনি। ছেলেবেলার সোনালি দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফাল্গুনী বলেন, ছোটবেলার মজার স্মৃতিগুলোর মধ্যে আমার জন্মদিনের স্মৃতি অন্যতম। প্রতিবছর ঘরোয়া আয়োজনে দিনটি পালন করা হতো। একান্নবর্তী পরিবার হওয়ায় ছোট আয়োজনেও অনুষ্ঠান হতো অনেক বড়। সবাই সেজেগুঁজে আসতো, আমি নতুন পোশাক পরতাম। সেদিন অনেক উপহার পেতাম। এই স্মৃতিগুলো প্রায়ই মনে পড়ে। খুব মূল্যবান এসব স্মৃতি।

ছোটবেলায় ফাল্গুনীর প্রিয় কাজ ছিল গান গাওয়া। নিয়মিত গান শিখতেন। টিভিতেও অনেকবার গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার।

বর্তমানে সংসার সামলানোর পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা সামলাচ্ছেন ফাল্গুনী। ব্যবসায় আসার গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অনার্স পড়াকালীন আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে দুই কন্যা সন্তানের মা হই। আমার মা আর স্বামীর সহযোগিতায় অনার্স, মাস্টার্স পাস করি। ছোট দুই সন্তান রেখে চাকরি করাটা আমার কাছে অনেক কঠিন মনে হচ্ছিল। তবে নিজে কিছু একটা করার চিন্তা ছিল আমার। সেই চিন্তা থেকেই আমার অনলাইন ব্যবসায় শুরু।

ফাল্গুনীর অনলাইন প্রতিষ্ঠানের নাম ‘নিম্বল’। একটু ভিন্নরকম নাম বটে। এই নাম কেন, এর অর্থই বা কী- জানতে চাই তার কাছে। ফাল্গুনী বলেন, নিম্বল শব্দের অর্থ চঞ্চল/দ্রুতগামী। সময় উপযোগী পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী আমার পণ্যে ভিন্নতা আনা হয়। নিম্বলের শাব্দিক অর্থ আমার ব্যবসায়িক উদ্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে এই নামকরণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে নিম্বল। এখানে রয়েছে শাড়ি, থ্রি পিস (দেশি-বিদেশি), শাল, গয়না ইত্যাদি। এছাড়াও সরাসরি ইংল্যান্ড থেকে আনা বডি অ্যান্ড হেয়ার কেয়ার পণ্য, বেবি কসমেটিক্সও পাওয়া যায়।

নিম্বলের কিছু পণ্য

কাজের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে ফাল্গুনী। বললেন, আমার কাজের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ক্রেতাকে ভালো মানের পণ্য প্রদান করা। যে ধরনের পণ্য আমি বা আমার পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করতে পারব সে ধরনের পণ্যই আমি ক্রেতার জন্য নির্বাচন করি। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে আমি অনেক বেশি সচেতন থাকি। রং ফর্সা করা কোনো পণ্য বা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক কোনো পণ্য আমি কখনোই বিক্রি করি না।

তিনি আরও বলেন, পণ্যের গুণগত মান আমি নিজে যাচাই করে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেই। কসমেটিক্স আইটেম যেহেতু সব অরিজিনাল তাই আমার রিপিট কাস্টমার অনেক বেশি আলহামদুলিল্লাহ। শাড়ি, থ্রি-পিসের বেলাতেও আমার রিপিট কাস্টমার অনেক।

ব্যবসা শুরুর কয়েক মাস পরেই সঙ্গী হয় করোনা মহামারি। প্রথমদিকে ব্যবসায় খুব খারাপ দিন গিয়েছিল। লকডাউন, নানা বিধিনিষেধের কারণে বিদেশ থেকে প্রসাধনী আনা বন্ধ ছিল। স্টকে থাকা পোশাক আর প্রসাধনীই তখন বিক্রি করেন তিনি। পরবর্তীতে অবশ্য এই পরিস্থিতি সামলে উঠেন ফাল্গুনী।

ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার সঙ্গে সমন্বয় থাকাটা অনেক জরুরি বলে মনে করেন ফাল্গুনী। তিনি বলেন, ক্রেতার সঙ্গে একজন বিক্রেতা যত ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে সে বিক্রেতার বিক্রি তত ভালো হবে। আল্লাহর রহমতে আমার এমন কিছু ক্রেতা আছেন যারা আমার ওপর অনেক বেশি ভরসা করেন। কিছু পণ্য তারা আমার কাছে চাইলে তাদের যদি বলি স্টকে নেই পরবর্তীতে আনতে কিছুদিন সময় লাগবে, তাও তারা আমার পরবর্তী স্টকের জন্য অপেক্ষা করেন। তাদের বিশ্বাস যে আমি তাদের কখনোই খারাপ পণ্য দিবো না। এমনকি অনেকে তাদের পরিচিতদের সুপারিশ করেন নিম্বল থেকে কেনাকাটা করার জন্য।

পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতায় ব্যবসা করছেন ফাল্গুনী। পণ্যের সোর্স খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেন তার স্বামী। ফাল্গুনী বলেন, আমি যখন পণ্যের ছবি তুলি তখন আমার দুই কন্যা আমাকে অনেক সাহায্য করে। ব্যবসা শুরু করার পর প্রথম ক্রেতা হয় আমার বোন। এখনও বাবার বাড়ি, শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা আমার থেকে কেনাকাটা করেন। ব্যবসাক্ষেত্রে এটি আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। এছাড়াও অনেকে আইডিয়া দিয়ে সাহায্য করে।

ক্রেতা যখন আসল আর নকলের ফারাক বুঝে না তখন কিছুটা খারাপই লাগে ফাল্গুনীর। মাঝেমধ্যে বুঝাতে গিয়ে হতাশ হয়ে যান। তাই বলে থেমে যান না। ক্রেতাকে আসল আর নকলের পার্থক্য বোঝানোর দায়িত্ব বিক্রেতার- এমনটাই মনে করেন তিনি।

এক সময় নিম্বল আশেপাশের পরিচিত অপরিচিত সবার মনে জায়গা করে নেবে- এমন স্বপ্নই দেখেন ফাল্গুনী। নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিম্বলকে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড