• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মালিহার ছোট্ট ভুবন ‘পরিপাটিসাজ বাই মালিহা’

  নিশীতা মিতু

০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৯
মালিহা মেহেরান মিথী
মালিহা মেহেরান মিথী

বিএসসি ফাইনালের শিক্ষার্থী মালিহা মেহেরান মিথী। হাতে তৈরি গয়না, হ্যান্ড পেইন্টের পোশাকের অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘পরিপাটিসাজ বাই মালিহা’র কর্ণধার তিনি। দৈনিক অধিকারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের আড্ডায় নিজের ছেলেবেলা, ব্যবসায় আসা আর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেন মালিহা- 

পড়াশোনার জন্য ব্যস্ত নগরী ঢাকায় বসবাস করলেও মালিহার জন্ম জয়পুরহাট জেলার এক গ্রামে। আর তাই নিজেকে গ্রামের মেয়ে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ‘শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক’ বিভাগে। 

ছোটবেলা থেকে পাঠ্যবইয়ের চেয়ে সৃজনশীল কাজ বেশি টানত মালিহাকে। দাদু ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ। তার ইচ্ছাতেই আঁকাআঁকি, গান শেখা, আবৃত্তি করা। মালিহার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গৃহশিক্ষক দ্বারা। একসময় প্রাতিষ্ঠানিক ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কমে গেল অন্যান্য কাজগুলো। এরপর  ২০১২ তে দাদু মারা যাবার পরে বড় ধরণের একটি ধাক্কা খান মালিহা। বন্ধ হয়ে যায় সৃজনশীল সব কাজ।  

যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন মালিহা। ২০১৭ সালে পড়াশোনার প্রয়োজনে ঢাকায় আসেন তিনি। এ শহরে একা এসে সামলে নিতে কিছুটা সময় লেগে যায় তার। মালিহা বলেন, হাতে অঢেল সময় থাকলেও কিছু চিনতাম না। ঢাকায় নিজেকে মানিয়ে নিতে, নিজের একটা অবস্থান তৈরি করতে কেটে গেছে এক বছর। যেহেতু ঢাকায় একা ছিলাম আর বন্ধুও তেমন ছিল না তখন ভার্সিটির পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগাতে কী করা যায় ভাবতে থাকি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ করা শুরু করি। এসব জায়গায় কাজ করার ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে মনোবল না হারানো, চ্যালেঞ্জিং কাজ করা আর কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো ইত্যাদি আয়ত্ত করি।

পরিপাটিসাজ বাই মালিহার কিছু পণ্য

ব্যবসায় আসার গল্প জানতে চাই মালিহার কাছে। তিনি বলেন, বাটিক, পেইন্ট, গহনা বানানো, ক্রাফটিং, সেলাই কিছুটা পারতাম বলে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিজেই বানিয়ে পরতাম। কারো জন্মদিন হলে তাদের হাতে বানানো জিনিস, কার্ড উপহার দিতাম। এমনই এক দুপুরে আমি কাঠের গহনায় আঁকাআঁকি করছিলাম। এক সিনিয়র আপু দেখে কয়েকটি গহনা কাস্টমাইজড করে বানিয়ে দিতে বললেন। তখনও আমি জানতাম না এমন কিছু করে আয় করা সম্ভব। এমনকি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, খরচ, প্যাকেজিং, মার্কেটিং- এসব সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা ছিল না। 

বড় আপু চেয়েছেন যেহেতু বানিয়ে দেই- এমনভাবেই শুরু করেছিলাম। এরপর আরও কয়েকজনের অর্ডার আসে। তারপরই আমার অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘পরিপাটিসজ বাই মালিহা’ যাত্রা শুরু করে। হাতে তৈরি গয়না, শাড়ি-পাঞ্জাবি, থ্রিপিস, প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে কাজ করেন মালিহা। 

ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিধি বৃদ্ধি করে চলছেন এই তরুণী। করোনা আসায় একটু থেমেও যেতে হয়। গ্রামে গিয়ে আটকে পড়েন লকডাউনে। যে কারণে কয়েক মাস বন্ধ ছিল কাজ। তবে পরবর্তীতে আবার সব সামলে নিয়েছেন মালিহা। বাংলাদেশের অর্ধেক জেলাসহ দেশের বাহিরে কানাডা, সৌদিতে ‘পরিপাটিসজ বাই মালিহা’র পণ্য গিয়েছে। 

বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনে একটু বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিহা। এক দিকে বি.এস.সি ফাইনাল পরীক্ষা অন্য দিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন অ্যাসিসটেন্ট চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট থেরাপিস্ট হিসেবে। তাই অনলাইনে অর্ডার নেওয়া কিছুটা স্থগিত রয়েছে। অফলাইনে টুকটাক অর্ডার নেওয়া অবশ্য চালু রেখেছেন তিনি। 

স্বপ্ন দেখতে আর স্বপ্নের পেছনে হাঁটতে ভালোবাসেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘হেরে যাবো বলে তো স্বপ্ন দেখিনি’ কথাটি আমাকে যে আশার আলো দেখিয়েছিল তা আমাকে তুলে এনেছে হতাশার হাত থেকে। স্বপ্ন দেখি আমার ছোট্ট পরিপাটিসাজ একদিন অনেক বড় হবে যার বেশিরভাগ অংশ বৃদ্ধ আর অনাথ শিশুদের জন্য ব্যয় হবে। 

মালিহার সুন্দর স্বপ্ন বাস্তব হয়ে ধরা দিক তার জীবনে। তরুণী এই উদ্যোক্তার জন্য রইল শুভকামনা। 

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhikar@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড