• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইভেন্ট প্ল্যানার দম্পতি ফারিয়া-জিয়ামের পথ চলা

  নিশীতা মিতু

১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩১
ইভেন্ট প্ল্যানার
সন্তান কোলে ফারিয়া-জিয়াম দম্পতি

বর্তমানে বিয়ে, জন্মদিন বা গেট টুগেদারের কথা বললেই উঠে আসে ইভেন্ট প্ল্যানারের কথা। একটি আয়োজনকে সুন্দর করে সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন তারা। এমনই একটি ইভেন্ট প্ল্যানার দম্পতি ফারিয়া বিনতে শামস শাওরীন এবং তার স্বামী জিয়াম। অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘ইলেশন ইভেন্ট সলিউশন’ এর কর্ণধার তারা। কীভাবে এমন কাজে আসলেন, কী নিয়ে কাজ করেন এসব নিয়ে দৈনিক অধিকারের সঙ্গে কথা হয় ফারিয়ার-

ছোটবেলা থেকেই ক্রাফটিং এর প্রতি ঝোঁক ছিল ফারিয়ার। কারো বাসায় হাতে তৈরি কিছু দেখলেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন কীভাবে তা তৈরি করা হয়েছে। ফারিয়া বলেন, তখনতো ইন্টারনেট ছিল না তাই সবার কাছ থেকেই শিখতে চাইতাম। প্রথম অনুপ্রেরণা ছিলেন মা। কারণ মার অনেক বেশি ঝোঁক ছিল এসবের প্রতি। ব্লক বাটিক থেকে শুরু করে, ক্রিস্টালের শোপিস, ড্রাই ফ্লাওয়ারের কাজ, বিয়ের স্টেজ, ডালা ফ্রুট কার্ভিং পর্যন্ত করতো মা। কিন্তু সুযোগ বা সহযোগিতার অভাবে মা কখনো ব্যবসার পর্যায়ে যেতে পারেননি।

বাবাও কম ক্রিয়েটিভ ছিলেন না। আমার ফিডারের বোতলের একটা কার্টুন কপি করে বাবা আমার জন্মদিনের কার্ড থেকে শুরু করে, ডেকোরেশন পর্যন্ত ওই থিমে করেছিলেন। সেই সময় এমন থিম নির্ভর ডেকোরেশনের ভাবনা হয়তো খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছেন।

ফারিয়ার বাবা পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী। বাবার মতো তিনিও তাই হতে চাইতেন। স্কুলে ‘বড় হয়ে কী হতে চাও’ প্রশ্নের জবাবে তাই বলতেন ‘বিজনেস পারসন’ হতে চাই। প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া শিশুর মুখে এমন কঠিন কথা আর স্বপ্নের কথা শুনে অনেকেই অবাক হতেন।

অনুষ্ঠানে ঘর সাজানোর দায়িত্ব ছোটবেলা থেকেই পালন করে আসছেন ফারিয়া। স্কুলের ক্লাস পার্টিতে কীভাবে ক্লাস সাজানো হবে সেই দায়িত্ব পড়তো তার ঘাড়ে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষ্ঠানের ডেকোরেশন করেছেন তিনি নিজের মতো করে।

ফারিয়ার পথ চলাটা ঠিক তার একার নয়, এই পথ চলায় বহুদিনের সঙ্গী হয়ে তার পাশে আছেন স্বামী জিয়াম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে স্বামীর সঙ্গে পরিচয় হয় ফারিয়ার। তিনি বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা একদম একরকম। ও শুরু থেকেই আমার মতো সৃজনশীল। কিন্তু আমার থেকে ও চতুর বেশি, ওর ভাবনার তীক্ষ্ণতাও বেশ ভালো। তাই ওর থেকে অনেক কিছুই শিখতাম আমি। পারিবারিক বা ইউনিভার্সিটির সব অনুষ্ঠানে আয়োজন করার দায়িত্ব ওর ঘাড়ে পড়ত। আর আমার মতো জিয়ামও একদমই চাকরির বিপক্ষে ছিল। একসময় আমরা ঠিক করি যে বাহিরের কাউকে আমাদের লাগবে না, আমরা দুইজনই পার্টনার হবো। আর যেই কাজে সবসময় শখ করে সারাজীবন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, ওইটাকেই ব্যবসা হিসেবে বেছে নিব। কারণ শখের কাজে আয় যাই হোক ভালোলাগা থাকে অনেক বেশি, বিরক্তিও আসে না। এভাবেই আমাদের পথ চলা শুরু।

ইলেশন ইভেন্ট সলিউশনের কিছু কাজ

২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ‘ইলেশন ইভেন্ট সলিউশন’ যাত্রা শুরু করে। কদিন বাদেই ৭ বছরে পা রাখবে ফারিয়া আর জিয়ামের এই প্রতিষ্ঠান। মূলত বিয়ে, জন্মদিন, পার্টি, গেট টুগেদার ইত্যাদি আয়োজনের ইভেন্ট প্ল্যানিং করার কাজ করে থাকেন তারা। সেসঙ্গে রয়েছে নিকাহ পেন, রিং ট্রে, বিয়ের আয়না, ডালাকুলা, পার্টি আইটেম, পেপার ক্রাফট আইটেম, হাতে বানানো পার্টি আইটেমসহ হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নিকাহ পেন আর কাবিনের কলমে নতুনত্ব আনার কাজটা ফারিয়াই করেন বলে জানান তিনি।

ক্রেতা কেন আকৃষ্ট হন ইলেশন ইভেন্ট সলিউশনের প্রতি? জবাবে ফারিয়া বলেন, আমরা কোনো কাজ সাধারণত পুনরাবৃত্তি করি না। কিছুটা হলেও নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করি। এতে প্রতিটি গ্রাহক অনন্য বা ভিন্ন সেবা পেয়ে থাকেন। ইভেন্টের কাজে অনেক হাতে বানানো জিনিস থাকে যেগুলো আমি নিজ হাতেই তৈরি করি। আমি আর জিয়াম দুজনেই খুঁতখুঁতে স্বভাবের হওয়ায় একদম পার্ফেক্ট না হওয়া অব্দি থামি না। এতে আমরা গ্রাহককে সেরাটা দিতে পারি বলে মনে করি।

করোনা বেশ বাজে প্রভাব ফেলে ফারিয়া আর জিয়ামের ব্যবসায়। সব ব্যবসা একটু একটু করে চললেও ইভেন্ট প্ল্যানিং একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো মার্চ ২০২০ থেকে আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত। পুঁজি যা জমিয়েছিলেন তা সব খরচ হয়ে যায় সংসারের খরচ আর চিকিৎসায়। এমনকি নিজের সন্তানের জন্মদিনও পালন করতে পারেননি যেখানে শত শত শিশুর জন্মদিনের আয়োজন করেছেন।

গ্রাহকের সঙ্গে সমন্বয়কে কীভাবে দেখেন? জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন, একজন গ্রাহকের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকা ব্যাবসার মূল মন্ত্র বলে আমি মনে করি। কারণ, টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন করিয়ে যতো না কাজ পেয়েছি, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি পেয়েছি একজন গ্রাহকের সুপারিশে। তারা আমাদের কাজে আর ব্যাবহারে এতোটাই সন্তুষ্ট হয়েছেন যে বারবার তাদের নিজেদের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে, তাদের আত্নীয়, বন্ধু-বান্ধব, এমনকি তাদের গ্রাহকদের কাজও আমাদেরকে দিয়ে করিয়েছেন। শুরু থেকে তারা আমাদের সাথে আছেন। আলহামদুলিল্লাহ তাদের কখনো নিরাশ করিনি। এখনো তারা সব জায়গায় আমাদের সুপারিশ করেন।

পাশাপাশি খারাপ অভিজ্ঞতাও অনেক অনেক কিছু শিখিয়েছে। এমনও হয়েছে গ্রাহক আমাদের ভাড়া দেওয়া জিনিস চুরি করে নিয়ে গেছে, চাইলেও ফেরত দেয়নি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের পেমেন্ট করেনি। বাকি সবাই ডেকোরেশন পছন্দ করলেও টাকা না দেওয়ার উসিলায় মিথ্যা দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।

সব মিলিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা আছে। যেখানে কিছু গ্রাহক আদর করে সবার আগে খেতে বসাতো, সেখানে অনেকে খাবারের বিলও নিয়েছে। তবে এগুলো থেকেও আস্তে আস্তে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আমাদের নীতিগুলোও তাই আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বানানো।

কাজ করতে গিয়ে অনেকবার থেমে যেতে চেয়েছিলেন ফারিয়া-জিয়াম দম্পতি। তবে একজন ভেঙে পড়লে আরেকজন সাহস যুগিয়েছেন, এভাবেই পার করেছেন খারাপ সময়গুলো। ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাহিরের দেশগুলোতেও বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কাজগুলো দেখাতে চান তারা।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhikar@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড