• বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাদিয়ার ‘সৃজন’

উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তি যখন শাশুড়ির উৎসাহ

২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:৩৬
সৃজন
সৃজনের কর্ণধার সাদিয়া আফ্রিন মারিয়া

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী সাদিয়া আফ্রিন মারিয়া। বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিকসে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন তিনি। সদ্য বিয়ের পিঁড়িতেও বসেছেন। সৃজনশীল কাজ বেশ প্রিয় সাদিয়ার। বিয়ের পর নিজের ভালোলাগার কাজ থেকে দূরে নয় বরং আরও কাছে এসেছেন তিনি। শাশুড়ির উৎসাহে চালিয়ে যাচ্ছেন হাতে তৈরি গয়নার অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সৃজন’।

চাঁদপুর জেলার বাবুরহাটের মেয়ে সাদিয়া। বই পড়া, আঁকাআঁকি করে কাটিয়েছেন শৈশব। এর মধ্যে রং আর তুলি নিয়ে সময় কাটাতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তিনি। ক্রাফটিং এর প্রতি আগ্রহ থাকায় আর আঁকাআঁকি ভালো লাগায় একসময় ভাবলেন নিত্যদিনের ব্যবহার্য গয়না নিয়ে কাজ করবেন, যেসব গয়নায় থাকবে আঁকিবুঁকির কাজ।

হ্যান্ড পেইন্টের গয়না আর হাতে তৈরি গয়না নিয়ে কাজ করেন সাদিয়া। গয়না নিয়ে কাজ করার কথা মাথায় এলো কী করে? জানতে চাই তার কাছে। সাদিয়া বলেন, ২০১৯ সালের এপ্রিলে ভার্সিটির বৈশাখী মেলায় কাঁচা হাতে বানানো বেশ কিছু গয়না নিয়ে অংশগ্রহণ করলাম। একইসঙ্গে প্রচুর আনন্দ আর উত্তেজনা কাজ করছিল নিজের ভেতর সেদিন। মানুষজন এসে গয়না দেখে খুব পছন্দ করল, শিক্ষকরা বেশ প্রশংসা করল। খুবই অবাক হয়ে দিন শেষে লক্ষ্য করলাম আমার ৯০ শতাংশ গয়না বিক্রি হয়ে গিয়েছে। মানুষ ভালোবেসে আমাকে গ্রহণ করেছে, আমার কাঁচা হাতে করা কাজকে ভালোবেসেছে এটা দেখে আমি সেদিন প্রচণ্ড খুশি হয়েছিলাম।

সাদিয়া জানালেন সেই মেলাতেই অনেকে জানতে চেয়েছিল কোনো অনলাইন পেজ আছে কি না। তখনই অনলাইন ব্যবসার কথা মাথায় আসে। ফেসবুকে পেজ খোলার কথা চিন্তা করলেও সাহসে কুলাচ্ছিল না। এরই মাঝে এক বন্ধুকে ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের লোগো আঁকা চাবির রিং উপহার দেওয়ার পর সে ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়। সেখান থেকে একজন জানায় তাকেও অমন একটি চাবির রিং বানিয়ে দিতে।

প্রচুর আগ্রহ নিয়ে সেই কাজটি করে ঢাকার বাইরে কুরিয়ার করলেন। পরদিন যাত্রা শুরু হলো ফেসবুক পেজের। একজন থেকে দুজন, দুজন থেকে চারজন— এভাবেই যাত্রা শুরু করলো সাদিয়ার সৃজন।

সৃজনের কিছু পণ্য

কী কী পাওয়া যায় সৃজনে? প্রশ্নের জবাবে সাদিয়া বলেন, শুরুর দিকে আমি কাঠের বেইজে চালাতাম রং তুলির খেলা। আমার ভালোবাসা আর শখের ছবি ফুটিয়ে তুলতাম কাঠের বেইজে, তৈরি হতো গয়না। এরপর ধীরে ধীরে মেটাল গয়নার দিকে ঝুঁকলাম। হাতে তৈরি গয়নাই মূলত সৃজনের মূল পণ্য ছিল। এখন গয়নায় কিছু ভিন্নতা এনেছি। সিলভার জুয়েলারি, ট্রেডিশনাল গয়না আর এন্টিক গয়না নিয়ে কাজ করছি এখন।

নিজে ছাত্রী বলে, অন্য শিক্ষার্থীদের কথাও ভাবেন সাদিয়া। আর তাই সৃজনের পণ্যগুলোর দাম এমনভাবে নির্ধারণ করেন যেন ক্রেতা এসে অল্প কিছু হলেও কিনতে পারেন। একেবারে খালি হাতে যেন কাউকে ফিরতে না হয়।

২০১৯ সালে ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে পরিবারের তেমন কোনো উৎসাহ পাননি সাদিয়া। নিজে টিউশন করিয়ে, সেখান থেকে কিছু টাকা জমিয়ে সৃজনের যাত্রা শুরু করেন। মাঝে করোনা আসায় ঢাকার বাইরে থাকায় বেশ কিছুদিন বন্ধ রাখতে হয় কাজ। এরই মধ্যে চলতি বছরের মার্চে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। এখন আবার আনন্দে নিজের কাজ করছেন সাদিয়া।

বিয়ের পর সাধারণত নারীরা সৃজনশীল কাজ থামিয়ে দেয়, সাদিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। কৌতূহল তো কাজ করছিল বটে। সাদিয়াও তা বুঝতে পারলেন বোধহয়। মিষ্টি হেসে বললেন, বিয়ের পর আমার স্বামী আর শাশুড়ি মা আমাকে এই বিষয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছে। করোনার জন্য দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা কাজে ফিরতেও আমার সাহস হচ্ছিল না। বিয়ের পর মা আমাকে বারবার বলেছেন, ‘হাল ছেড়ো না, যে কাজটা শুরু করেছো, যে কাজটা করতে তোমার ভালো লাগে সেটা করো। দেখবে মানুষও তোমাকে ভালোবেসে তোমার কাজ গ্রহণ করবে।’ মূলত মায়ের অনুপ্রেরণায় আমি আবার আমার কাজে ফিরেছি। আমার স্বামীও আমাকে এই ব্যাপারে খুব সাহায্য করছে। আর বলবো বন্ধুদের কথা। তাদের অনুপ্রেরণাও শক্তি যোগায় সবসময়।

কাজ থামিয়ে দিয়ে ইচ্ছে করেনি কখনো? জানতে চাইলে সাদিয়া বলেন, করোনার প্রভাবে যখন দীর্ঘ একটা বিরতি ছিল তখন মনে হয়েছিল আর বোধহয় আমি আমার কাজে ফিরতে পারবো না। এরপর মায়ের (শাশুড়ি) উৎসাহ পেয়ে নিজেকে বুঝিয়েছি আসলেই নিজের কাজকে নিজে ভালোবাসলে বাকি সবাইও ভালোবেসে গ্রহণ করবে। সত্যিই আমি এখন তার ফল পাচ্ছি। আবার ফিরে এসে আমি অনেকের ভালোবাসা পাচ্ছি, সবাই গ্রহণ করে নিয়েছে আমার কাজকে। সেই সঙ্গে কাজে কিছু ভিন্নতাও এনেছি।

ভবিষ্যতে নিজের পেশা হিসেবে ব্যবসাকেই বেছে নিতে চান সাদিয়া। গয়নার পাশাপাশি শাড়ি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। হয়তো খুব শিগগিরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। সাদিয়ার স্বপ্ন বেঁচে থাকুক সবার ভালোবাসা আর শাশুড়ির উৎসাহে— এই প্রত্যাশায় আড্ডা শেষ করলাম।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhikar@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড