• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জীবনে বহুবার ভেঙে গিয়েও সফল উদ্যোক্তা ফারাহ্

১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৮
ফারাহ্‌'স ওয়ার্ল্ড
নিজের ডিজাইন করা জামদানি শাড়িতে ‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ এর কর্ণধার সামিয়া ফারাহ্‌

টিভির পর্দায় সিনেমা দেখে অনেকেই কাঁদেন, অনেকে হাসেন। সিনেমার গল্প হয়তো ছুঁয়ে যায় হৃদয়। নিজেকে অনুভব করেন সেই পরিস্থিতিতে। আবার কখনো কখনো জীবনের গল্প হার মানায় পর্দার গল্পকে। সাজানো পৃথিবী চুরমার হয়ে যায় মুহূর্তে। জীবন এসে স্তব্ধ হয়ে যায় কোনো এক পরিস্থিতিতে। তারপর কেউ কেউ নিজের মনের সবটুকু শক্তি দিয়ে আবারও উঠে দাঁড়ায়। গুছিয়ে নেয় নিজের জীবন নতুন করে। এমনই এক সংগ্রামী নারী সামিয়া ফারাহ্। 

‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ নামের পোশাক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফারাহ্। বর্তমানে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী তিনি। তবে চলার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না ফারাহ্‌। বহুবার ভেঙে চুরে নতুন করে গড়েছেন তিনি নিজেকে। দৃঢ় মানসিক মনোবলের এই নারীর গল্প ঘিরেই আমাদের আজকের আয়োজন- 

কথায় বলে, ‘সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়েছে’। এই কথাটা মিলে যায় ফারাহ্‌র সঙ্গে। উচ্চবিত্ত পরিবারের প্রথম শিশু। নানা বাড়ি, দাদা বাড়ি সবখানেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু তিনি। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বাবা ও সুগৃহিণী মায়ের মেয়ে ফারাহ্‌র মাস্টার্স অব্দি জীবন ছিল রূপকথার। পরিবারের ভালোবাসায় মাখামাখি হয়ে বেড়ে উঠেছেন তিনি। 

পরিবারের অন্য সদস্যবৃন্দও যুক্ত ছিলেন সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে খুব ভালো সব পদে। আর তাই ব্যবসা কিংবা এই সংক্রান্ত কিছুর সঙ্গে পারিবারিক পরিচয় ছিল না কারোরই। ছোটবেলা থেকেই ফারাহ্ জানতেন, বড় হয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তা না হলে নিদেনপক্ষে শিক্ষক বা ব্যাংকার এর মধ্যেই ক্যারিয়ার গড়তে হবে। 

অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছিলেন ফারাহ্। মাস্টার্সের ফলাফল পাওয়ার আগেই কর্মজীবন শুরু করেন ধানমন্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। সেসঙ্গে চলছিল বিসিএসের প্রস্তুতি। আর পরিবার খুঁজছিলেন সুপাত্র। 

কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেল তার। পাত্র নামকরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে কর্মরত। শ্বশুরবাড়ি বনানী হওয়াতে স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেন ফারাহ্। তবে বিসিএসের প্রস্তুতি চলতেই থাকল। এরই মধ্যে চাকরি পেয়ে গেলেন স্ট্যান্ডার্ড চ্যাটার্ড ব্যাংকে। মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে চাকরির শখ ছিল, সেটি পূরণ হলো। কিন্তু বিধিবাম। অতিরিক্ত রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়ির মানুষজন চাকরির বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করলেন না। 

এরই মধ্যে ফারাহ্ অনুভব করতে পারলেন নতুন কেউ আসতে যাচ্ছে এই পৃথিবীতে। চাকরি ছেড়ে দিলেন। অনাগত সন্তানের কথা ভেবে নিজেকে মানিয়ে নিলেন তিনি। পুত্র সন্তানের জননী হলেন ফারাহ্। তাকে নিয়েই কেটে যাচ্ছিল দিন রাত্রি। 

ফারাহ্ বলেন, ‘আমার স্বামী প্রচণ্ড রাশভারী, স্বল্পভাষী, ব্যস্ত মানুষ। ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এক ধরনের বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করলাম। আমি বরাবরই শান্ত, নির্বিবাদ মানুষ। সহজে নিজের কোনো সমস্যার কথা কাউকে বলি না। 

আমার অবস্থা বুঝতে পারল একমাত্র ছোট বোন। সে ই পরামর্শ দিল ডিজাইনিং নিয়ে কাজ শুরু করতে। ছোট বেলা থেকেই ছিলাম ফ্যাশন সচেতন। রেডিমেড কাপড় পরতে চাইতাম না। চাঁদনী চক থেকে নিজে গজ কাপড় কিনে নানানরকম ডিজাইন দিয়ে ড্রেস বানাতাম। আমার পরনের জামা অন্য কারো সাথে মিলতে পারবে না। সেটা অবশ্যই হতে হবে ইউনিক। ডিজাইনার্স ক্লদিংয়ে ছিল অদ্ভুত আগ্রহ। স্বভাবতই সেগুলো একটু বেশি দামি হতো। ২/৩টা জামার টাকা জমিয়ে সেগুলো কিনতাম। 

ছোটবোনের পরামর্শে একটা ডায়েরিতে ডিজাইনের স্কেচিং শুরু করলাম। আমার অনেক শখের মধ্যে একটা ছিল পত্রিকা জমানো। দেশ বিদেশের নানান রকমের ম্যাগাজিন। সেগুলো আইডিয়া পেতে খুব কাজে দিল। আমার ছেলে তাহযীব আনোয়ার আরনান খুব রাত জাগত। সেই সময়টাও কাজে লাগালাম।’

নিজের জমানো ৫ হাজার টাকা হাতে আল্লাহর নামে কাজ শুরু করলেন ফারাহ্। সবসময় নিজের মধ্যে একটা ভাবনা কাজ করত তার। আর তা হলো যাই করুক তা হবে নিজের টাকায়, নিজের চেষ্টায়। সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে লোকাল মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কাপড় কিনলেন। খুঁজে বের করলেন অভিজ্ঞ কারিগর। বেশি কিছু পোশাক তৈরি করে ফেললেন। পরিবার আর বন্ধুদের মাঝে দারুণ সাড়া মিললও। খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেল সব পোশাক। নতুন করে উৎসাহ পেলেন তিনি। 

নিজের দক্ষতাকে আরেকটু ঝালিয়ে নিতে চাইলেন তিনি। ফারাহ্ বলেন, ‘ভাবলাম ডিজাইনিংয়ে যেহেতু কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, একটা ডিপ্লোমা কোর্স করে ফেলি। ভর্তি হলাম ধানমন্ডির রেডিয়েন্ট ফ্যাশন ইন্সটিটিউটে। শুরু করলাম খুব আগ্রহ নিয়ে। প্রথম পরীক্ষায় প্রথম স্থান।  

কিন্তু আবারও বিধিবাম। একদিন আমি ক্লাসে থাকা অবস্থায় ছেলের জ্বর আসলো। ফোন সাইলেন্ট করা থাকায় শ্বশুরের ফোন শুনতে পেলাম না। উনি আমার আম্মুকে ফোন করে অভিযোগ করলেন। সেদিনের পর আর যাইনি। অভিমান হলো খুব। রেডিয়েন্টের চেয়ারম্যান নাসরিন ম্যাম খুব মন খারাপ করলেন। আজও কোথাও দেখা হলে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন।

কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখলাম। ছেড়েই দিতাম হয়তো। আবারও ছোট বোন তার সুচিন্তিত পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে আসলো। বলল, "যতটুকু শিখেছো সেটা দিয়েই শুরু করো। তোমার ফ্যাশন সেন্স তো গড গিফটেড।" আবারও কাজ শুরু করলাম। আবারও খুব ভালো সাড়া পেতে শুরু করলাম।’

২০১০ সালে সেই ছোট বোনই ফারাহ্‌কে একটি ফেসবুক পেইজ খুলে দেন। তার আগ অব্দি কেবল পরিচিত মানুষরা ক্রেতা থাকলেও পেইজ খোলার পর ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকল। ছেলের সঙ্গে বড় হতে থাকল ব্যবসাও। 

দেশ থেকে শুরু করে দেশের বাইরে থেকে প্রচুর অর্ডার পাওয়া শুরু করলেন ফারাহ্। কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তিনি। কিন্তু তার এই ব্যস্ততা আশেপাশের মানুষগুলো চোখে ভালো ঠেকল না। স্বামী সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাও কেন তাকে ব্যবসা করতে হবে? কেন তার এত টাকার লোভ? কেন বাসায় বসে আরাম করছে না। শুধুই সংসারে মন দিচ্ছে না? এমন অনেক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে থাকলেন তিনি।  

ফারাহ্ বলেন, ‘এসব শুনে আমি শক্ত হয়েই রইলাম। আমিও একটা মানুষ। আমারও নিজের একটা পরিচয় দরকার আছে। আমার মধ্যে সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। আমি কেন বসে থাকব? আর যেখানে শুধু কাপড় কালেকশান বাদে বাকি সব কাজই আমি বাসায় বসেই করতে পারছি, তাহলে সমস্যা কোথায়? অবশ্যই আমি সংসারকে বেশি প্রাধান্য দিয়েই আমার কাজ সামলাচ্ছিলাম। 

কিছুদিন পর অনেক যুদ্ধ করে বাসার নিচে একটা শোরুম দিলাম। একটা মেয়ে রাখলাম। ভালোই চলছিল সবকিছু। দিনগুলো মন্দ ছিল না।’

‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড‘

‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ এর কিছু পোশাক

ফারাহ্‌র সংগ্রামী জীবনের গল্প হয়তো এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু তেমনটা হলো না। বরং এখান থেকে যেন তার জীবনের গল্প নতুন মোড় নিল। বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো ফারাহ্‌র সাজানো সংসারে। একের পর এক বিপর্যয় এসে ভিড় জমাল তার দুয়ারে। হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুত হলেন স্বামী। জানতে পারলেন তিনি মাদকাসক্ত। তার মাথার ওপর ৭০ লাখ টাকার লোনের বোঝা।  

ফারাহ্ বলেন, এত টাকা উনি কী করেছেন কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না। এক মাসের মাথায় আমার ছবির মতো সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেল। লোন পরিশোধের জন্য চাপ আসতে থাকল। দুটো গাড়িই বিক্রি করে দেওয়া হলো। আমার যত জমানো টাকা, যত গহনা সব দেওয়া হলো। আমার আব্বু,আম্মু, বোন, মামা, নানা, নানু সবাই যার যার সাধ্যমতো সাহায্য করলেন। কিন্তু ৭০ লাখ টাকা তো মুখের কথা নয়। 

আমার শ্বশুর ঢাকায় উনার জমি বিক্রি করে দিলেন। এর মধ্যেই আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। রিহ্যাবে দেওয়া হলো তাকে। শুরু হলো আরেক অনিশ্চিত জীবন। আমি আমার ছেলে নিয়ে আব্বু আম্মুর কাছে চলে আসলাম। বীভৎস দিন পার করেছি। যেই আমি সারাজীবন প্রাডো চড়ে চলাফেরা করেছি সেই আমি তখন লেগুনাতে করে উনার জন্য খাবার নিয়ে যেতাম। দুই বছরে উনাকে ৪/৫ বার রিহ্যাবে দেওয়া হলো।  

প্রতিমাসে খরচ ছিল এক লাখ বিশ হাজার। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হলেন না। বাসাতে যখন থাকতেন সারাক্ষণ মানসিক অত্যাচার করতেন, বাজে সন্দেহ, আজেবাজে কথা, ঠিকমতো ঔষধ খেতেন না, কিছু বললেই আত্মহত্যার হুমকি। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। ছেলেটাও চোখের সামনে এগুলো দেখছিল যেটা আমি চাইতাম না।’

স্বামীর অত্যাচার একদিন খুব বাজে পর্যায়ে চলে গেল। তিনি পুরো বাসার সব কাঁচের জিনিস ভেঙে ফেললেন, সেসঙ্গে শুরু হলো চিৎকার চেঁচামেচি। শ্বশুর আর ভাসুর আসলেন এবং তাকে নিয়ে গেলেন। 

আইনত আলাদা থাকতে শুরু করলেন ফারাহ্। স্বামীকে আবারও রিহ্যাবে দেওয়া হলো। অবশ্য তিনি বলেছিলেন, স্বামী যদি এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হন তবে আবার নতুন করে সব শুরু করবেন তিনি। 

একা জীবন শুরু হলো তার। চাকরির চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মনমতো কিছুই মিলছিল না। যেগুলো পাচ্ছিলেন সেগুলো দিয়ে ছেলের পড়ার খরচ আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে তার ছোট মামী তাকে ব্যবসা শুরু করতে বললেন। পুঁজির জন্য বেশকিছু টাকাও ধার দিলেন। 

নতুন করে আবার ব্যবসা শুরু করলেন ফারাহ্। তবে এবার শখ নয় বরং রুজিরোজগার। এবার আরও বেশি মনোযোগী, প্রফেশনাল। তার ব্যবসার মূলধন ছিল সততা আর ভালো ব্যবহার। আর তাই দ্রুতই ক্রেতা পেয়ে যেতে শুরু করলেন তিনি। 

মা ছেলের ছোট্ট সংসার চলতে থাকল। ছোট ছেলেটাও মাকে সাহায্য করতে শুরু করল। নিজে নিজে খেয়ে নেওয়া, নিজের ব্যাগ গোছানো, সবকিছুই নিজে করত সে। ছুটির দিনগুলোতে মা আর ছেলে মিলে চলে যেতেন সিনেমা দেখতে কিংবা কিছু খেতে। 

বছর পার হলো, স্বামী আর সুস্থ হলেন না। নিজের শক্ত মনে শেষ পেরেক ঠুকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলেন তিনি। শ্বশুর বাড়ি থেকে জানানো হলো সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব তারা নেবেন না। মেনে নিলেন। ছেলের সঙ্গে থাকবে তাতেই খুশি ফারাহ্। 

আত্মীয়স্বজনরা দ্বিতীয় বিয়েকে সমাধান মনে করলেও দ্বিমত পোষণ করেন তিনি। একক মা হয়ে কঠিন জীবন শুরু করলেন ফারাহ্। আশেপাশের মানুষের শত কথা সহ্য করে গেলেন। নিজের নীতি, আদর্শ আর সততাকে সঙ্গী করে আগামীর পথে আগাতে শুরু করলেন আপন মনে। 

নিজের সততার পুরস্কারও মিলেছে অবশ্য। বর্তমানে জামদানি, মসলিন থেকে শুরু করে ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্টের ভিন্নধর্মী পোশাক বলতে অনেকেই ‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ কে চেনেন। সুপরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান এটি। 

বর্তমানে পৃথিবীর ১১টি দেশে যাচ্ছে ফারাহ্‌র ডিজাইন করা পোশাক। একদিন হয়তো ফ্যাশন স্টুডিও হবে তার। এমনই স্বপ্ন দেখেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানকে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের তালিকায় দেখতে চান তিনি। 

সংগ্রামী এই নারীরাই হোক আমাদের অনুপ্রেরণা। দৈনিক অধিকারের পক্ষ থেকে ‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ এর জন্য রইল শুভকামনা। 

‘ফারাহ্’স ওয়ার্ল্ড’ এর ফেসবুক পেজ লিঙ্ক- Farah's World

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড