• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আত্মরক্ষার যে পদ্ধতিগুলো আপনার জন্য ক্ষতিকর!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:১৭
আত্মরক্ষা
ছবি : প্রতীকী

জেনে কিংবা না জেনে অনেকসময় আত্মরক্ষার জন্য এমন অনেক কাজ করি আমরা যেগুলো পরবর্তীতে ভালো তো নয়ই, উল্টো খারাপ ফলাফল নিয়ে আসে। বিশেষ করে, এমন কোনো পরিস্থিতি এলে তাড়াহুড়োয় আত্মরক্ষার জন্য এমন অনেক উপায়ই অবলম্বন করে থাকেন অনেকে। চলুন, আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা এমন কিছু ছোট্ট, অথচ ক্ষতিকর কাজের ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক-

আঙুলের ফাঁকে চাবি রাখা-

অনেকেই আঙুলের ফাঁকে চাবি রাখেন। এতে করে রাস্তায় চলার সময় হুট করে কোনো আঘাত এলে তার প্রতিউত্তরটা খুব ভালোভাবেই দেওয়া যায়। কিন্তু, আত্মরক্ষার এই পদ্ধতিটি কিন্তু মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। এতে করে আপনি নিজেই আহত হবেন। এর চাইতে প্রতিটি আঙুলের ফাঁকে চাবি না রেখে বুড়ো আঙ্গুল ও তর্জনীর সাহায্যে চাবি ধরে রাখুন। এতে করে প্রতিপক্ষের আঘাত ফিরিয়ে দেওয়া যাবে, আবার আপনারও কোনো সমস্যা হবে না।

প্রথমেই দৌড়াবেন না-

অনেকেই আত্মরক্ষার জন্য প্রথমেই দৌড়াতে শুরু করেন। এই উপায়টি যে ভুল তা নয়। তবে অনেকসময় দৌড়াতে গেলে গতি ধীর হয়ে যায়, পেছনের মানুষটির সাথে দৌড়ানো সম্ভব হয় না। এছাড়া পিছনে ঠিক কী অবস্থা সেটাও জানা যায় না। দৌড়ালে সেটা আক্রমণকারীকে আরও অনেক হিংস্র করে তুলতে পারে। এই সবগুলোই কিন্তু আপনার জন্য উপকারের চাইতে অপকার বেশি নিয়ে আসতে পারে। তাই এমন কোনো সমস্যা হলে দৌড়ান, তবে সেটাও ভেবেচিন্তে।

খুব বেশি কথা নয়- 

চলচ্চিত্রে নিশ্চয় দেখেছেন অপরাধীর সাথে কথা বলতে বলতে একটা সময় তাকে শান্ত করে ফেলার পদ্ধতি। এই পদ্ধতি কিন্তু খুব একটা কাজের নয়। অনেক সময় আপনি যদি অতিরিক্ত কথা বলেন, সেটি অপরাধীকে আরও বেশি মানসিকভাবে অস্থির করে দিতে পারে। এর ফলটাও হয়ে পড়ে আরও ভয়াবহ।

অনলাইনের শিক্ষা সব নয়-

অনেকেই অনলাইনে আত্মরক্ষার অনেকগুলো পদ্ধতি শিখে বাস্তবে এমন পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত ভেবে থাকেন। বাস্তবে অনলাইন ভিডিওর মানুষগুলোর মতো একইভাবে আপনার সামনের মানুষটি আচরণ নাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দরকার পড়ে বাস্তব কিছু শিক্ষার। তাই, শুধু অনলাইনের আত্মরক্ষার শিক্ষার উপরে নির্ভর না করার চেষ্টা করুন।

নিজের ইচ্ছানুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া-

মনে করুন, আপনার সামনের অপরাধীটি আপনাকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছেন। কিন্তু আপনি আপনার হাতের ব্যাগটি ফেলে দৌড়ানোর চেষ্টা করলেন। এটি কিন্তু তাকে মোটেও শান্ত করবে না। অনেকসময় অপরাধী মানুষটি আপনার ব্যাগ চাইলেও এর চাইতে বেশি চান যেন আপনি তার কথাগুলো মেনে চলেন। 

যদি এর অন্যথা হয় তাহলে সেটি তাকে রাগিয়ে দিতে পারে এবং হঠকারী কোনো কাজ করতে বাধ্য করতে পারে। তাই চেষ্টা করুন যতটা সময় পর্যন্ত সম্ভব সামনের মানুষটির কথাগুলো মেনে চলার।

সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা-

আপনাকে যিনি আক্রমণ করেছেন তিনি কি একজন পুরুষ? যদি তাই হয়, তাহলে অনেকেরই মাথায়, বিশেষ করে নারীদের মাথায় পুরুষের সংবেদনশীল শারীরিক অংশে আঘাত করার চিন্তা আসতে পারে। হ্যাঁ, আপনার এই কাজটি সামনের মানুষটিকে আঘাত করবে। বেশ কিছু সময় ব্যথাও দেবে। 

কিন্তু একইসাথে এটাও ভেবে রাখা ভালো যে, প্রতিটি পুরুষই এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। নিজেকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারটাও তার জন্য সহজাত। তাই আপনার এই কাজটি তাকে আরও বেশি রাগিয়ে তুলতে পারে। পরবর্তী আক্রমণকে বাধা দেওয়ার মতো কৌশল জানা না থাকলে এই কাজটি হুট করে ঝোঁকের মাথায় করে বসবেন না।

আক্রমণ যেকোনো সময় যে কারো কাছ থেকে আসতে পারে। তবে চেষ্টা করুন এই ব্যাপারটি নিয়ে আগে থেকেই নিজেকে তৈরি রাখতে। এমন কোনো সমস্যা তৈরি হলে ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। সাহায্যের জন্য চিৎকার না করে ‘আগুন’ বলে চিৎকার করুন। এতে করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বেশি সহজ হবে। ছোটখাটো কিছু কৌশল আর আত্মরক্ষার শিক্ষা আপনাকে এক্ষেত্রে অবশ্যই সাহায্য করবে।

সূত্র : ব্রাইটসাইড

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড