• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জটিল এক বৈবাহিক সম্পর্কে আছেন আপনি!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

১১ জুলাই ২০১৯, ১৫:১১
অ্যাবিউসিভ রিলেশন
ছবি : প্রতীকী

অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ বলতে কী বোঝায়? অনেকেই ভেবে থাকেন, সম্পর্কে যদি কেউ কারো শরীরে হাত তুলে, সেটাকে অ্যাবিউসিভ সম্পর্ক বলা যায়। মূলত, অ্যাবিউসিভ খুব নেতিবাচক একটি শব্দ। এটির আক্ষরিক বাংলা ‘অবমাননাকর’। এই অবমাননা শারীরিকভাবে হতে পারে, মানসিকভাবে হতে পারে। হতে পারে যৌন সম্পর্কেও ভিত্তিতেও। 

একটি সম্পর্কের নেতিবাচক উৎস ঠিক কোথায় সেটা খুঁজে বের করাটা মুশকিল। কোন সম্পর্কে থাকাকালীন সময়ে আপনি যদি সবটা সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, খারাপ থাকেন, নিজেকে সবসময় অবহেলিত আর তুচ্ছ মনে হয় তাহলে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন ঠিক কীভাবে আপনি অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপে আছেন। চলুন, দেখে নেওয়া যাক অ্যাবিউসিভ রিলেশনের রকমগুলো- 

মানসিক ও আবেগ সংক্রান্ত অ্যাবিউসিভ রিলেশন- 

এই ধরণের সম্পর্কে মানসিকভাবে সবসময় নিজেকে ছোট ও তুচ্ছ মনে হতে পারে আপনার। আপনার সঙ্গী সবার সামনে খুব ভালো ব্যবহার করলেও হয়তো একান্তে বাজে ব্যবহার করছেন আপনার সাথে কিংবা পাত্তা দিচ্ছেন না। 

সবসময় সন্দেহ করা, অভিযোগ করা, শারীরিকভাবে নির্যাতন না করলেও কথা ও ব্যবহারে বাজে আচরণ করা- এমন ব্যাপারগুলোও থাকতে পারে এই ধরণের সম্পর্কে। ফলে আপনার নিজেকে মানুষ হিসেবে তুচ্ছ, হতাশ এবং অযোগ্য মনে হতে পারে। নিজেকে এমন সম্পর্কে আপনি শুধু প্রতিনিয়ত দ্বিধান্বিত হিসেবেই খুঁজে পাবেন আপনি। 

শারীরিক নির্যাতন- 

এই ব্যাপারটি খুব পরিষ্কার। এক্ষেত্রে সঙ্গী শারীরিকভাবে বাজে ব্যবহার করে থাকেন। সেটা হতে পারে মারধর করা। আবার নানারকম জিনিসপাতি ছুড়ে মারাটাও শারীরিক অ্যাবিউজের উদাহরণ হতে পারে।

যৌন নির্যাতন- 

আপনারা হয়তো একে অন্যকে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু তারপরেও আপনার সঙ্গী যৌন সম্পর্কে অ্যাবিউসিভ হতে পারেন। যৌন সম্পর্কের সময় জোর করা, সঙ্গীকে মানুষ না ভেবে বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা- এমন নানারকম ভাবেই যৌন নির্যাতন করা হয়ে থাকে।

সন্তানকে ব্যবহার করা-

আপনার সঙ্গী কি কথায় কথায় আপনাকে সন্তানের ব্যাপারে ভয় দেখান? এমনটা হতেই পারে যে, খুব সাধারণ কোন একটা ঝামেলা চলছে, হুট করে আপনাকে আপনার সঙ্গী ভয় দেখালো যে কোন একটি কাজ তার মনমতো না করলে আপনার সন্তানকে তিনি দূরে নিয়ে যাবেন। আর এই ভয় বারবার যদি আপনার দেখানো হয়, আপনি যদি আপনার সঙ্গীর অনুচিত কাজগুলোকেও শুধু সন্তানের ভয়েও করতে বাধ্য হন, তাহলে আপনি অ্যাবিউজড হচ্ছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।

অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা- 

অ্যাবিউসিভ রিলেশনে অনেকেই নিজের সঙ্গী কোথায় কাজ করবেন, কেন কাজ করবেন বা আদৌ কাজ করবেন কিনা- এই সব ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান। এমনকি, খরচ ও অর্থনৈতিক ব্যাপারকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা অনেক বেশি। 

সবার থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া-

অ্যাবিউসিভ সঙ্গীরা নিজেদের সঙ্গীকে অনেকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তিনি কার সাথে মিশবেন, পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন কিনা, কোথায় যাবেন, কী খাবেন, কখন বাসা থেকে বের হবেন, ফোনে কার সাথে কথা বলবেন- এই সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা। এতে করে শুধু যে আপনি নিজের মতো করে জীবন পরিচালিত করতে পারবেন না তা নয়, একইসাথে আপনার চারপাশের সবার থেকে, আপনার পরিবারের কাছ থেকেও আলাদা হয়ে যাবেন।

নিয়মিত হুমকি দেওয়া- 

অ্যাবিউসিভ সঙ্গীরা অন্যদের ওপরে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সবসময় হুমকি দিয়ে থাকেন। নিজের ব্যাপারে ভয় দেখিয়ে, সঙ্গীর পছন্দের কোন জিনিস বা মানুষের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে এমনটা করে থাকেন তারা। এমন অবস্থায় আপনি সারাক্ষণ ভয়, হতাশা আর উদ্বিগ্নতার মধ্যে থাকবেন। 

আপনার সাথে কি এমনটাই হচ্ছে? ওপরে উল্লিখিত যেকোন রকমের অবস্থাতেই আপনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারেন। আর এক্ষেত্রে ভালোবাসা অনেকটা থাকলেও এমন সম্পর্ক আপনার জন্য ক্ষতিকর। 

তাই, চেষ্টা করুন সঙ্গীকে বুঝিয়ে তাকে এই অ্যাবিউসিভ আচরণ থেকে বের করে আনতে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসারও চেষ্টা করুন। কারণ, একটা সময় গিয়ে এই পুরো ব্যাপারটির নেতিবাচক প্রভাব যেমন আপনার উপরে পড়বে, তেমনি আপনার চারপাশের মানুষ এবং সঙ্গীর উপরেও পড়বে। 

সূত্র- ওয়েবএমডি

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড