• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কেবল সাফল্য নয়, সন্তানের ব্যর্থতায়ও পাশে থাকুন

০৩ জুলাই ২০১৯, ১১:২৭
সন্তান
ছবি : প্রতীকী

আজকাল শিশুর বয়স ৩ পেরুলেই তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় স্কুলের সঙ্গে। সেসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখন থেকে তোমার প্রতিযোগিতা শিখতে হবে। সফল হতে হবে, প্রথম হতে হবে, অন্যকে টেক্কা দিয়ে সামনে আগাতে হবে। জীবন্য সাফল্য প্রয়োজন। কিন্তু স্কুলের পাঠ্য প্রতিটি বিষয় কিংবা জীবনের সব ক্ষেত্রেই শতভাগ নম্বর পাওয়াই কি জীবনের লক্ষ্য?

কোনো একটি বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরেই খবরে আসে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার সংবাদ। মা-বাবার আশা পূরণ করতে না পেরে, আত্মীয়স্বজনদের কটু কথা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়ে উঠেছে শিশু কিশোররা। আপনি কি প্রতিনিয়ত আপনার সন্তানকে প্রথম হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন? পরবর্তী খবরে তাকে নিয়ে কোনো খারাপ খবর ছাপতে দেখলে আঁতকে উঠবেন না তো?  

জীবনে সাফল্য জরুরি- 

যেকোনো ব্যক্তির জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বেশ জরুরি। কিন্তু তাই বলে কি তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম হতে হবে? স্কুলের পুঁথিগত পাঠ থেকে শুরু করে নাচ, গান, খেলা, আঁকাআঁকি— সব ক্ষেত্রেই সন্তানকে এক নম্বরে রাখতে কঠিনে অনুশাসনে রাখেন অনেক মা-বাবা। ঘুম থেকে উঠেই স্কুল, তারপর কোচিং, সঙ্গে নাচ, গান কিংবা আঁকার ক্লাস— সবকিছুই চলে বাধ্যতামূলকভাবে। তাকে প্রতিনিয়ত বন্ধুদের উদাহরণ দিয়ে বলা হয় কেন সেও সেরকম হতে পারছে না। আর এসবের ফলে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মানসিক চাপে শিশু কিশোররা ভুলে যায় নিজের অস্তিত্ব। 

আপনার সন্তানকে শেষ কবে তার মতো বুঝতে চেষ্টা করেছেন? সব পরীক্ষায় এ প্লাস পাওয়াই জীবনের সব নয়। প্রথাগত পড়াশোনার বাইরে রয়েছে একটা জীবন। আঁকাআঁকি, নাচ, গান, খেলাধুলা, ফটোগ্রাফির মতো বিষয়ে দক্ষ হয়েও সুন্দর ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। পড়ার বইয়ের বাইরে আপনার সন্তান কোনো বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে তাতে গুরুত্ব দিন। ভালো গান গাইতে জানলে সে ভবিষ্যতে অসাধারণ একজন গায়ক হতে পারে। জোর করে তাকে ডাক্তার বানানোর চেষ্টায় মশগুল হয়ে যাবেন না। এতে সে না হবে ভালো ডাক্তার, না হবে ভালো গায়ক। 

ব্যর্থতাও থাকা উচিত- 

জীবনের ছোট ছোট ব্যর্থতাকে পাশ কাটিয়েই একজন মানুষ সাফল্য ছোঁয়। ছোট থেকে শিশুকে ব্যর্থতার সম্মুখীন হওয়া শেখাতে হবে। সেসঙ্গে শেখাতে হবে কীভাবে সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য নিজেকে তৈরি করবে। আর এসব শিশু শিখবে আপনার কাছ থেকেই। 

ব্যর্থ না হলে মানুষ সাফল্যের কদর করতে শেখে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, ‘সন্তানকে কেবল নিজের সফলতার গল্প না বলে ব্যর্থতার গল্পও শোনান। আপনার কাছে ব্যর্থতার গল্প শুনেও সেও নিজের ব্যর্থতার কথা বলতে সাহস পাবে। ফলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ থাকবে। প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের কিছু ক্ষেত্রে সফল, কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ। সেটি তাকে বোঝাতে ও শেখাতে হবে।’

মা-বাবা হিসেবে আপনার করণীয়- 

অভিভাবক হিসেবে আপনার আদর ও শাসনের সহাবস্থানে থাকা জরুরি। শুধুই আদর যেমন করা উচিত নয় তেমনি সারাক্ষণ শাসন করলে ভালো ফল আসে না। সন্তান ভুল করলে তাকে হালকা শাসন করতে পারেন। তবে বকাবকি করে থেমে গেলেই চলবে না। তার ভুল কোথায়? কেন ভুল করেছে? কী করলে ঠিক হতো?— সেগুলোও বুঝিয়ে বলতে হবে। 

আপনার সন্তানকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশুন। ভুল করলে তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝান যে সে ভুল করেছে। এরপর সিদ্ধান্তের ভার তার ওপর ছেড়ে দিন। এতে শাসনও হবে, তাকে শেখানোও হবে। 

শিশু কিশোরদের অভিমান হয় ছোটখাটো কারণেই। আপনার কাছে যা তুচ্ছ, তার কাছেই তা হয়তো অনেক বড় কিছু। হয়তো সন্তান আপনার কাছে স্কুলের নতুন ব্যাগ কিনে দেওয়ার বায়না করল। আপনি পারবেন না জানিয়ে দিলেন। তার ভাবনা থেকে সে ভাববে মা-বাবা তাকে ভালোবাসে না। অথচ আপনি যদি তাকে আর্থিক অবস্থা বা জিনিস অপচয় না করা সম্পর্কে বোঝান তবে সে বুঝতে পারবে হুট করে কিছু চাইতে হয় না। 

সন্তানের ব্যর্থতায় আপনার করণীয়- 

কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সন্তান হেরে গাল ফুলিয়ে আছে? তাকে বোঝান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই বড়। পরেরবার আরও ভালো যেন করে সেই উপদেশ দিন। একই বিষয়ে একাধিকবার ব্যর্থ হলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসুন। তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই নয়। প্রথমে তাকে ব্যর্থতা মানিয়ে নিতে দিন। এরপর সমাধানের পথ খুঁজুন। 

সবসময় প্রথম হওয়া শিশু হুট করে দ্বিতীয় বা তৃতীয় হলে নিজেই অপমানবোধ করে। তাকে অন্যদের সামনে ছোট না করে তার কাঁধে ভরসার হাত রাখুন। পরেরবার আবার ভালো করবে সেই ভরসা দিন। 

মা-বাবা হিসেবে সন্তানের মনের খবর রাখা জরুরি আপনার। ওর সফলতায় যেমন গর্ব করবেন তেমনি ব্যর্থতায় পাশে থাকুন। জীবনের একটি পর্যায় ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়। শিশুকে তার মতো করে বুঝুন, তার ভুল বুঝিয়ে দিন। সফলতা আসবেই। 

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড