• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঈদ বাজার : ভিড় থাকলেও বিক্রি কম

  সৈয়দ মিজান ২৩ মে ২০১৯, ১৯:২৪

ঈদ বাজার
এখনো ততটা জমে উঠেনি ঈদ বাজার। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

খুব বেশি দেরি নেই ঈদ আসতে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদ নিয়ে নানান আয়োজন। ঈদের কেনাকাটা আগেভাগেই সেরে ফেলছেন অনেকে। রমজান মাস তার উপর প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাই দেখা গেল ভিড় ঠেলে দোকানে দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরাও সাজিয়েছেন নানান আয়োজনের পসরা। রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু ঈদের বাজার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোন কোন বাজারে প্রচুর ক্রেতার উপস্থিতি, বেচা কেনাও ভালো। আবার কোন কোন বাজার ঘুরে দেখা গেছে একদমই ক্রেতা সমাগম শূন্য বাজার।

ঢাকার বেশিরভাগ বাজারেই দেখা গেল প্রচণ্ড ভিড়। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটি, গাউসিয়া, নিউমার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্স, রাপা প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্ক সহ বেশিরভাগ জনপ্রিয় মার্কেটগুলোতেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেল চোখ পড়ার মতোই। ভিড় থাকলেও বেচা বিক্রি কম বলে জানালেন অধিকাংশ ক্রেতা। 
রাজধানী চাঁদনি চক মার্কেট ঘুরে দেখা গেল মেয়েদের থ্রি পিসের প্রচুর চাহিদা এ বছর। কথা হলো আরিশা ফেব্রিক্স এর শাহীন ব্যাপারীর সাথে। তিনি জানালেন, “অন্যান্য বছরের চেয়ে এই বছর বেচা বিক্রি অনেক কম। বেশিরভাগ নিয়মিত ক্রেতা এবার ভারিতে গিয়ে কেনাকাটা করছেন। তাছাড়া অনলাইনেও প্রচুর বিক্রি বেড়ে গেছে। অনেকেই ভিড় মাড়িয়ে এখানে আসছেন না।”

ঈদ বাজার

পছন্দের পোশাক বাছাই করছেন ক্রেতারা। (ছবি : দৈনিক অধিকার) 

চাঁদনি চকের আরেক ব্যবসায়ী সোহরাব আলীও জানালেন একই রকম তথ্য। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর বিক্রি অনেক কমে গেছে এমনটাই দাবি করলে তিনি। এ বছর বেশ নতুন নতুন ডিজাইনের থ্রি পিস এসেছে চাঁদনি চকের শো রুমগুলোতে। ক্রেতারাও বেছে বেছে নিজের পছন্দমতো পোশাকটি কিনছেন। কথা হলো কয়েকজন ক্রেতার সাথে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা তানিয়া এসেছেন কয়েকজন বান্ধবীকে সাথে করে ঈদের কেনাকাটা করতে। তিনি জানালেন, “এখান থেকে পোশাক কিনতে ভালো লাগে। অনেক পোশাক দেখে নিজের জন্য সেরাটা বেছে নিতে পারার আলাদা একটা আনন্দ আছে।” 

একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষার্থী রূপা ফারজানা বললেন, “এবারের ঈদে পোশাকের দাম গতবছরের থেকে খুব একটা বাড়েনি। এটা ভালো।” চাঁদনি চক মার্কেটে একেকটি থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে শুরু করে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে বেশিরভাগ দোকানীই জানালেন দাম সাধ্যের মধ্যে থাকলেও গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি কিছুটা কমই। নিউমার্কেটেও দেখা গেল একই চিত্র। বিশেষ করে মেয়ে এবং শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেল নিউমার্কেট এলাকায়।

ঈদ বাজার

এভাবেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। (ছবি : দৈনিক অধিকার) 

নিজের মনের মতো পোশাক পরতে অনেকেই ব্লক এবং হ্যান্ড পেইন্টিং এর কাজ করে নেন নিজের পছন্দ মতো। নিউ মার্কেটের ব্লক কারিগরদের তাই দম ফেলার ফুসরত নেই। বিভিন্ন ডিজাইন আর রঙের কাজ করছেন ব্লক ডিজাইনাররা। ক্রেতারা নিজের সামনেই দেখছেন নিজের ঈদের পোশাকটি তৈরি হতে।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মার্কেট আজিজ সুপার মার্কেটের বেশিরভাগ শো রুমে তরুণ বয়সীদের জন্য পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সারি সারি দোকান থাকলেও ক্রেতাহীন সময় পাড় করছেন বসে বসে। কথা হলো খেয়া ক্র্যাফট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহাম্মদ মানিকের সাথে। তিনি জানালেন, “অন্যান্য বছর এই সময়ে দম ফেলার ফুসরত মিলতো না। আর এখন একদমই ক্রেতা নেই। বসে বসে অলস সময় পার করতে হচ্ছে।”

আজিজ সুপার মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানেই একই চিত্র বিরাজ করছে। নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে বসে আছেন দোকানীরা। কিন্তু পুরো মার্কেট ঘুরে অল্প কয়েকজন ক্রেতার দেখা মিললো। মেঠোপথ এর কর্মচারী সিফাত জানালেন, “ আজিজ মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা তরুণ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদেরই বেশি পছন্দ থাকে এখানকার পোশাকের প্রতি। এবার একটু আগেভাগে বিভিন্ন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড় চলে গেছে অনেকে। এটারও কিছুটা প্রভাব পড়েছে এবারের কেনাকাটায়।”

ঈদ বাজার

এমব্রয়ডারি এবং ব্লক কারিগররা পাড় করছেন ব্যস্ত সময়। (ছবি : দৈনিক অধিকার) 

ক্রেতা সমাগম না থাকলেও আজিজ সুপার মার্কেটে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের সমাহার দেখা গেল। পাঞ্জাবি এবং কামিজের মধ্যে নানান বৈচিত্র্য এসেছে এবার। রঙের দিক থেকে গরমকে মাথায় রেখে হালকা রঙকে প্রাধান্য দিয়েছেন ডিজাইনাররা। দামও আছে সাধ্যের মধ্যেই। পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৭০০-১২৫০ টাকায়। টিশার্ট ২২০-৭০০টাকায়। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৬৫০-১৬০০ টাকায়। শাড়ি ১০০০ টাকা থেকে শুরু। তবে কিছু কিছু দোকানে আরও কমদামেও পাওয়া যাচ্ছে।  নন্দন কুটির এর হীরা আহমেদ জানালেন, “ অন্যান্য বছর যেমন দাম থাকে এবারও প্রায় একই দামেই পোশাক এনেছি বাজারে। কিন্তু ক্রেতা আসছে না।”

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, “অনলাইন বিজনেস একটি বড় কারণ। অনেক বেশি অনলাইন মার্কেটিং এর ফলে তরুণরা ভিড় মাড়াতে মার্কেটে আসতে চান না। তারা ঘরে বসেই সেরে ফেলেন কেনাকাটা।” একইরকম কারণ উল্লেখ করলেন নিত্য উপহারের কর্মচারী রানা। তিনি বললেন, “অনলাইনে এখন বেশি কেনাকাটা হয়। সময় এবং পরিশ্রম কমাতে বেশিরভাগ তরুণ অনলাইন থেকে পণ্য কেনা শুরু করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের এবারের ঈদ বাজারে।”

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে ভিন্নতা নিয়ে এসেছে মুয়াদ। কৃষ্ণকলি, মুক্তা, নন্দন কুটির, দেশাল এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নানা অফার যুক্ত করলেও ঈদের ভরা মৌসুমেও খাঁ খাঁ করছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী এই মার্কেটটি।

ওডি/এসএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড