• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

প্রিয় নারী, খুশি থাকুন সবসময়

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৮

মার্জিয়া মোস্তফা মাথিন
নিজের জন্য হলেও খুশি থাকুন (মডেল : মার্জিয়া মোস্তফা মাথিন)

নিজেকে খুশি দেখতে চান? একজন নারী জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দেন নিজের চারপাশের মানুষ, পরিবার আর কাছের সবাইকে ভালো রাখার কাজে। কিন্তু, নিজেকে খানিকটা সময় দেওয়ারও তো দরকার আছে, তাই না? আপনি হয়তো ভাবছেন, নিজেকে তো অনেকটা সময় দেওয়া হয়। বাড়তি কোনো সময় কীভাবে দেওয়া সম্ভব? এই সময়টুকু কিন্তু আপনার পড়াশোনা বা কাজের জন্য দিতে বলা হচ্ছে না। 

আপনি খানিকটা সময় বের করুন নিজেকে নিয়ে ভাবার জন্য। নিজের যত্নের জন্য, নিজেকে ভালোবাসার জন্য। কখনো কি নিজেকে খুশি রাখার কথা ভেবেছেন? খুশি আপনার প্রাপ্য। আর খুশি থাকতে এই কৌশলগুলো অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবে।

মানসিক চাপ রুখে দেওয়ার উপায় খুঁজুন- 

আপনি হয়তো অনেক সফল। কিন্তু আপনার মানসিক চাপ যদি উদ্বিগ্নতা, শারীরিক নানা সমস্যা, হতাশার কারণ হয়ে দাড়ায়, তাহলে এই সফলতা আপনাকে কখনোই খুশি এনে দিতে পারবে না। তাই, চেষ্টা করুন নিজের মানসিক চাপকে কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে। কাজ করুন, ব্যস্ত থাকুন। তবে অবশ্যই মানসিক চাপ নিয়ে নয়। 

ডায়েটকে না বলুন- 

আপনি হয়তো ডায়েট মেনে চলছেল। তবে, এতে যে কোনো কাজ আসলেই হবে তার কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই ডায়েট প্ল্যান কাজ করে না। আর আপনি যদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওজন কমিয়ে আনতে সফলও হয়ে যান, সেক্ষেত্রেও পরবর্তীতে সেটা আরধ অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

এটা খাবার নয়, আপনার শারীরিক অবস্থার কারণেও হতে পারে। তাই, কড়া কোনো ডায়েট না মেনে চলে খাবার গ্রহনের ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্ক হোন। চেষ্টা কিরুন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেশি বাছাই করতে। তাতে করে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন।

ধূমপান থেকে দূরে থাকুন- 

আপনার একটি বাজে অভ্যাস আছে, এটি আপনি জানেন। আপনার এই অভ্যাসটি আপনাকে শারীরিকভাবে প্রভাবিত করছে। আপনার চারপাশের মানুষগুলোও শারীরিক নানা সমস্যায় পড়তে পারে আপনার অভ্যাসের কারণে। এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে কীভাবে আপনি খুশি থাকবেন?

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব তো আছেই। একইসাথে এই চিন্তাগুলো ব্যাপারটিকে আপনার জন্য আরও বেশি খারাপ করে তোলে। তাই, ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। 

পরিবার পরিকল্পনা দ্রুত করে ফেলুন- 

আপনি কবে বিয়ে করতে চান, কয়টি সন্তান নিতে চান- এ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে যান। আর নির্দিষ্ট সময় পর পরিবার পরিকল্পনাটাও করে ফেলুন। এটি আপনাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি স্থির হতে এবং খুশি থাকতে সাহায্য করবে। 

মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখুন- 

আপনার শরীর যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি মনও। তাই, মানসিক কোনো সমস্যাকে অবহেলা করবেন না। আপনি যদি মানসিকভাবে সুস্থ না বোধ করেন তাহলে সেটা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। সমস্যা কখন মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাবে সেটা কেউই বলতে পারে না। তাই, সময় থাকতেই পদক্ষেপ নিন। 

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন- 

আপনি যদি আপনার চারপাশের মানুষের সাথে না মেশেন এবং কিছু নিয়ে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত না রাখেন, সেক্ষেত্র পরবর্তীতে এটি আপনার উপরে বাজে প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের সাথে কথা বললে আপনি উচ্ছল থাকবেন। 

আর মস্তিষ্ককে কাজে ব্যস্ত রাখলে নিজেকে প্রয়োজনীয় মনে হবে আপনার। স্মৃতিশক্তিও আরও ভালো হবে। তাই, মানুষ বা কাজ নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অবশ্য খানিকটা সময় নিজেকে অবসর সময়টাও কাটাতে দিন। 

রোদে হাঁটুন- 

দিনের আলো ও রোদ আমাদের শরীরে ইতিবাচক প্রভাব রাখে। তাই রোদের মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে করে আপনার স্বাস্থ্য ভালো হবে। একইসাথে, আপনার মনও ভালো হয়ে উঠবে। অবশ্য, এ সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

নিজের জন্য ভাবা, নিজেকে ভালোবাসার মতো ভালো ব্যাপার আর কিছু নেই। তাই নিজের যত্ন নিন, ভালোবাসুন। দেখবেন, আরো অনেকের মতো আপনিও খুশি থাকছেন সবসময়!

সূত্র : মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল। 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড