• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যে ৭ টি বিষয় গোপন রাখা উচিত!

  লাইফস্টাইল ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৪
৭ টি বিষয় গোপন রাখা উচিত
ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করে কোনো কাজে সাফল্য লাভ করা সহজ কথা নয়। আর সাফল্য লাভ করতে হলে অবশ্যই আপনার মনের ভেতরে থাকা গোপন কিছু সিদ্ধান্ত বা কথাকে সামলে রাখতে হবে। সবার সামনে সব কিছু বলে দেওয়াটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ না। কারণ কথায় আছে, ‘দেয়ালের ও কান আছে’। তাই সেই কান থেকে কথা এপাশ ওপাশ হয়ে গেলে সাফল্য দেখা নাও দিতে পারে। 

পারিবারিক বিষয় কিংবা ব্যক্তিগত, কিংবা আপনার ডায়েটের পরিকল্পনা, এসব ব্যাপারের সিদ্ধান্ত সকলের কাছে প্রকাশ না করাই ভালো। কারণ দুনিয়ার সব মানুষ আপনাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য জন্ম নেয়নি। উৎসাহ দেওয়ার থেকে আপনার ক্ষতি করার লোকের অভাব হবেনা। আর ব্যক্তিগত তথ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এর ব্যাপারেও অনেকে ওৎ পেতে থাকে। তাই সাবধান!

চলুন জেনে নেই অন্যদের হাতের নাগাল থেকে যে ৭টি বিষয় গোপন রাখবেন।

১. ভবিষ্যত পরিকল্পনা: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি তা আপনি আপনার বন্ধুদেরকে জানাতেই পারেন। এমনটি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই করে থাকে। আশা থাকে বন্ধুদের পাশে পাওয়া যাবে, তারা সহযোগিতা করবে। কিন্তু সবসময়ই যে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন এমন ভাবনা মন থেকে মুছে ফেলাটাই ভালো। কেউ কেউ আপনাকে আপনার লক্ষ্য থেকে পিছনে টেনে আনতে চাইবে, কেউ নেতিবাচক কথা বলবে। কেউবা বলেই বসবে আরে তোমাকে দিয়ে এ কাজ হবেনা। এ অনেক কঠিন কাজ। শেষমেশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে সাহস আর আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিলেন সেটাও হারাবেন। 

২. বন্ধুদের গোপন তথ্য: বন্ধু মানেই সুখ দুঃখের ভাগীদার। তার সাথে মন খুলে সব কথা বলা যায়। কষ্টের কথা, আনন্দের কথা, পাওয়া না পাওয়ার কথা, সব কিছুই। তবে বন্ধুটি বিশ্বাস করে যে গোপন কথা আপনাকে বলেছে সেটাকে কনের কোন কুঠুরিতে বন্ধ করে রাখাটাই মঙ্গলজনক।

উদাহরণস্বরুপঃ আপনার কোন বন্ধু আপনাকে তার সম্পর্কের ব্যাপারে কিছু গোপন কথা জানিয়েছে কিংবা আপনার কোন বান্ধবী কোন চাকরির নিমন্ত্রণ পেয়েছে, এই কথাগুলো গোপন রাখাই শ্রেয়। কখনোই তার এই কথা অন্যদের জানাবেন না বা আলোচনা করবেন না। এতে বন্ধুত্বের সম্পর্কে চিড় ধরতে এক পলক সময় ও লাগবেনা। সেই সাথে বন্ধুর কাছে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাটাও হারাবেন। কারও সম্পর্কে কোনো কথা শোনার পর তার সত্যতা যাচাই না করে সেই কথা নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করবেন না বা সবাইকে বলে বেড়াবেন না যে ও এমন কাজ করেছে। 

৩. পারিবারিক সমস্যা: পরিবার একেবারেই আলাদা। পরিবারের গুরুত্ব সবার ঊর্ধ্বে। সঙ্গিনীর সাথে ঝগড়া হয়েছে? কিংবা ডিভোর্সের জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে এমন সব কথা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধতা থাকাটা ভালো। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে অন্যের সাথে কথা বললে পারতপক্ষে সাময়িক সময়ের জন্য সমবেদনা বা সহানুভূতি মিললেও আপনি সেই ব্যক্তির কাছে দুর্বল হয়ে গেলেন। পারিবারিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা মূলত এর মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আপনার সঙ্গীর সবকিছু আপনার ভালো নাই লাগতে পারে। বা আপনি তার কোন কাজে বিরক্ত। সেটা নিজেদের মধ্যেই রাখুন। বাইরের মানুষের সামনে সে বিষয়কে প্রকাশ করলে আপনার সঙ্গীকে হেনস্তার শিকার হতে হবে। 

৪. ব্যক্তিগত জীবন : ব্যক্তি জীবনে চলার পথে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে আপনার সম্পর্কের কথা ভাগাভাগি করতেই পারেন। কোন বিশেষ মুহূর্ত কাটানোর কথাও আলোচনা করতে পারেন। এতে আপনার সঙ্গী খুশি হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা অতিমাত্রায় আলোচনা করাটা ভালো কাজ না। এটি আপনাদের দুজনের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা ও অন্তরঙ্গ সম্পর্কের মধ্যে লাগাম টেনে ধরবে। 

৫. দানশীলতার অভ্যাস : আর সবার মত আপনি নিষ্ঠুর নন। আপনি দানবীর। অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট আপনাকে কাদায়। আর আপনি আপনার সাধ্যমত তাদের সাহায্যে কাজ করে যান, তাদের মুখে হাসি ফুটাতে চান। কিন্তু আপনার এই মানব প্রেম মূলক কাজের কথা সবাইকে বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা এটা তাদের দায়িত্বজ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মানুষ ভাববে আপনি লোক দেখানোর জন্য এই কাজ করছেন। তাই নিজের জনসেবামূলক কাজকে বেশিমাত্রায় প্রকাশ না করাটাই ভালো।

৬. অর্থনৈতিক অবস্থা : অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে এই নিয়ম। আপনার জীবনের চলার পথে আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা, আপনার টাকা-পয়সার পরিমাণ কিংবা ব্যাংকে আপনার জমাকৃত সম্পদের পরিমাণ অন্যের কাছে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। অর্থনৈতিক সমতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়না। 

আপনি যদি আপনার বন্ধুদের মধ্যে আপনার অর্থ উপার্জন নিয়ে আলোচনা শুরু করে দেন তাহলে সেটা শেষ পর্যন্ত কে কত বেশী টাকা ইনকাম করতে পারে এমন প্রতিযোগিতায় নেমে যাবে। আর এর ফলাফল হিসেবে বন্ধুরা আপনার অর্থ উপার্জন এর জন্য হিংসা করবে। ফলে বন্ধুত্বের সম্পর্কটাও হারাবে। এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে চাইলে আপনার অর্থ উপার্জন ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। মঙ্গল সর্বজনে।

৭. জীবনযাপন : একেকজন মানুষের জীবনযাপনের ধরণ একেকরকম। নিজের জীবন নিয়ে সবারই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। আর সেটা যদি সবাই জেনে যায় তাহলে আপনার জীবনযাপন তখন অন্যের হাতে চলে যাবে।  ধরুন আপনি সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন করতে চান এবং সেই সাথে আপনি আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে চান।

আরও পড়ুন : করোনার সত্য-মিথ্যা

কিন্তু আপনি যদি আপনার এই পরিকল্পনা নিয়ে সবার সাথে আলোচনায় বসেন তাহলে সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন কখোনই সম্ভব হবেনা। জনসম্মুখে যদি আপনি এটি নিয়ে উচ্চমাত্রায় আলোচনা করেন তাহলে সেটা এমন সব লোকের মনোযোগের কারণ হবে যারা আপনার সুস্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত নয়। আর তাদের কারণে হয়তো আপনার সুস্থ থাকার রাস্তাটাও বদলে যেতে পারে।

আরও একটি বিষয় যেটি নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকাটা বেশী মাত্রায় জরুরি। আর সেটি হল ধর্মীয় বিশ্বাস। এটি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এ সংক্রান্ত যে কোনো আলোচনা অশান্ত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাবধান থাকুন। কারণ কথায় আছে ‘সাবধানের মাইর নাই’।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড