• শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ২৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ত্বকের নানারকম ক্যানসার চেনার সহজ উপায়

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:০৮
ত্বক
ত্বকের ক্যানসার মোট তিনটি কারণে বেশি হয় (ছবি- ইন্টারনেট)

বিগত কয়েক যুগ ধরে ক্যানসার মানুষের জন্য বেশ ভয়ের একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চেষ্টায়ও এই রোগটিকে একেবারে দূর করতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। তবে হ্যাঁ, ব্রেস্ট ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার এবং জরায়ুর ক্যানসার ইত্যাদির বেলায় আগে থেকেই লক্ষণ দেখতে পেলে সেটার চিকিৎসা করে রোগীদের পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু সেটা শুধু প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগকে খুঁজে বের করতে পারলে তবেই সম্ভব। 

কীভাবে বুঝবেন আপনার ক্যানসার আছে কি না? বেশ সহজ। বিশেষ করে, ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর ভিন্ন ভিন্ন ধরনগুলো চিহ্নিত করার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ত্বকের ক্যানসারের রকম

ত্বকের ক্যানসার মোট তিনটি কারণে বেশি হয়। সেগুলো হলো- বাসাল সেল সারকিনোমা, স্কোয়ামোস সেল সারকিনোমা এবং মেলানোমা। এদের প্রত্যেকটিরই কিছু ব্যাপার মিলে যায়। আর সেগুলো হলো- 

● আলট্রাভায়োলেট রশ্মিতে অনেক বেশি সময় থাকলে ত্বকে এই উপাদান তৈরি হয়। 

● ত্বকের আরও কিছু ব্যাপারের সাথে এদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই যেমন- সাদা ত্বক হওয়া, ত্বক পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

● এদের প্রত্যেকটির দ্বারা তৈরি হওয়া ক্যানসার খুব দ্রুত এবং একেবারের মতো ঠিক হয়ে যায়।

তবে হ্যাঁ, এদের প্রত্যেকেই আমাদের ত্বকের ভিন্ন ভিন্ন কোষে জন্ম নেওয়ায় এবং গঠন ভিন্ন হওয়ায় অনেকগুলো ভিন্নতাও দেখা দেয়। আর এই ভিন্নতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকাশ পায় ক্যানসারের লক্ষণে।

বাসাল সেল সারকিনোমা

প্রায় ৮০ শতাংশ ক্যানসারের কারণ হিসেবে বাসাল সেল সারকিনোমাকে দায়ী করা হয়। আমাদের ত্বকের সবচাইতে বাইরের অংশ হলো এপিডেরমিস। আর বাসাল সেল হলো এই এপিডেরমিসের একটি কোষ। এই কোষ প্রতিনিয়ত বিভক্ত হয়, নতুন কোষ হিসেবে স্কোয়ামোস সেল তৈরি করে। 

আমাদের শরীরের যে অংশগুলো বেশিরভাগ সময় সূর্যের আলোর নিচে থাকে, এই যেমন- ঘাড়, হাত, পা ইত্যাদি, সেখানেই বাসাল সেল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই কোষের ক্যানসার খুব ধীরে ছড়ায়। তবে একবার ছড়িয়ে গেলে এটি অন্যসব কোষকেও প্রভাবিত করে। 

লক্ষণ

● হলদেটে, ফ্যাকাসে, সমতল দাগ
● ত্বকে লালচে এবং চুলকানিযুক্ত স্থান
● লালচে, সাদাটে ফুসকুড়ি, চারপাশে গোলাপি বা নীলচে দাগযুক্ত
● ক্ষত সারতে না চাওয়া

সমাধান কী?

ত্বকের এই ক্যানসার সারিয়ে তোলার জন্য নানারকম সার্জারি ও থেরাপি রয়েছে। ইলেক্ট্রো সার্জারি, মশ সার্জারি, লেজার সার্জারি এবং নানাবিধ ওষুধের ব্যাপারে এক্ষেত্রে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন চিকিৎসক।

স্কোয়ামোস সেল সারকিনোমা 

ত্বকের ক্যানসারে ভুগছেন এমন মোট ২০ শতাংশ রোগীর ক্যানসারের পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করে স্কোয়ামোস সেল সারকিনোমা। ঠোঁট, নাক, কান, চামড়া- শরীরের যে অংশগুলো সূর্যের আলোতে উন্মুক্ত থাকে, সেখানেই এই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

চামড়ার ভাঁজ, সূর্যে পুড়ে যাওয়া চামড়া ইত্যাদি সমস্যাগুলো ত্বকের এই স্থানগুলোতেই বেশি দেখা যায়। আগে কোনো প্রদাহ দেখা দিয়েছে, ত্বকের এমন সব স্থানে এই স্কোয়ামোস ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় এই ক্যানসার ত্বকের ভেতরের অংশে জন্ম নেয় ও ছড়ায়।

এই কারণে মানুষের মধ্যে মৃত্যুর পরিমাণটাও সবচাইতে বেশি দেখা যায়।

লক্ষণ

● কোনো মানুষের মধ্যে একটিনিক বা সোলার কেরাটোসেস, একটিনিক ক্যালিটিস, লিউক্লোপ্লাকিয়া এবং বোয়েন্স ডিজিজে যারা ভুগেছেন তাদের মধ্যে এই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই পুরনো কোনো ক্ষতের ওপরে নতুন ক্ষত হতে দেখা যায়।
● ছোট্ট, নরম ফোঁড়া
● যৌনাঙ্গে পানিভর্তি ফোলা অংশ
● মুখে লালচে ক্ষত
● ঠোঁটের উপরে শুষ্ক চামড়া বেশি বেশি তৈরি হওয়া

সমাধান কী?

স্কোয়ামোসের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা পদ্ধতি অনেকটা বাসাল ক্যানসারের মতোই। এ ক্ষেত্রেও একই সার্জারি বা ওষুধ সেবনের মাধ্যমে একেবারেই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন আপনি। তবে হ্যাঁ, এজন্য প্রয়োজন যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের সাথে কথা বলা।

মেলানোমা

মেলানোমা ক্যানসার হওয়ার ক্ষেত্রে খুব কম কাজ করে। অন্য দুই ধরনের কোষের সাথে তুলনা করলে এই উপাদানটি মাত্র ১ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর পেছনে অবদান রাখে। ত্বকের ওপরে কোনো রঙিন ছোট্ট ফোটাকে ভিত্তি করে এই মেলানোমা কাজ করে। যেটা বেশিরভাগ সময়ই ছোট্ট তিল বা আঁচিল হিসেবে থাকে। তবে, এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষতিকর প্রভাব রাখে না আমাদের শরীরে।

লক্ষণ

● ক্ষত না সারতে চাওয়া
● চুলকানি ও ব্যথা
● তিল বা আঁচিলের আকার বদলে যাওয়া

সমাধান কী?

রেডিয়েশন থেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে বা সার্জারির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত অংশটিকে বাদ দিয়ে মেলানোমা ক্যানসারের চিকিৎসা করা সম্ভব।

ভয় পাচ্ছেন? ভয়ের কিছুই নেই। বরং উপরের কথাগুলো ভালোভাবে মাথায় রাখুন। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের রশ্মি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। একই সঙ্গে, বাইরে বের হওয়ার সময় ত্বকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শিশুদের ত্বক অনেক বেশি দুর্বল থাকে। তাই তাকে সরাসরি সূর্যের নিচে না এনে কিছু ওমের ব্যবস্থা করুন। 

সব মিলিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা ক্যানসার থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই, সতর্ক থেকে এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে পথ চলুন। এতে করে ক্যানসার প্রতিরোধ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে পড়বে।

সূত্র- এভরিডেহেলথ

ওডি/এনএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড