• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সন্তানকে বড় করছেন কোন নিয়মে?

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৯
প্যারেন্টিং
ছবি : প্রতীকী

বাবা-মা হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। নেই কোনো বাঁধাধরা রাস্তাও। একেকজন বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিজের মতো করে বড় করেন। তাদের পদ্ধতি আলাদা হয়, আলাদা হয় তাদের ধরনটাও। তারপরও বাবা-মায়ের ধরনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। আপনার সন্তানের জন্য কেমন বাবা কিংবা মা হবেন আপনি? দেখে নিন- 

অথরিটিভ প্যারেন্টিং : 

বেশিরভাগ অভিভাবকই প্যারেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটিই ব্যবহার করে থাকেন। আর এটি যে বেশ কার্যকরী সেটাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনি যদি-

● সন্তানের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমা বেঁধে দেন
● সন্তানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিযুক্ত কিছু প্রত্যাশা রাখেন
● সন্তানের কথা শোনেন
● সন্তানকে ইতিবাচক মতামত দেন 

সেক্ষেত্রে আপনাকে এই ধরনের অভিভাবক বলা যায়। এর যেমন ভালো দিক আছে, তেমনই আছে কিছু খারাপ দিকও। এক দিকে যেখানে এই ধরনের অভিভাবকের সন্তানেরা মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ থাকে, অন্য দিকে, এটি বাবা-মায়ের ওপরে বাড়তি চাপ ফেলে।

অথরিটেরিয়ান কর্তৃত্ববাদী প্যারেন্টিং : 

শুনতে অনেকটা একরকম মনে হলেও এই প্যারেন্টিং অনেকটা আলাদা। এক্ষেত্রে বাবা-মায়েরা সন্তানের ওপরে একটু বেশিই মানসিক চাপ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা-

● সন্তানকে নিজেদের কথা মানতে, নিজেদের তৈরি করা নিয়মে চলতে বাধ্য করেন। কখনো মারধরও করেন
● সন্তানের সাথে যোগাযোগ কম করেন
● সন্তানের ওপরে অতিরিক্ত প্রত্যাশা রাখেন এবং নিজেদের ইচ্ছাকে সন্তানের ওপরে চাপিয়ে দেন

এতে করে অনেক সময় সন্তানেরা বাস্তবিকভাবেই ভালো কিছু করে ফেলে। অন্য দিকে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়। কখনো কখনো নেতিবাচক অনেক কাজেও জড়িয়ে পড়ে তারা। 

অ্যাটাচমেন্ট প্যারেন্টিং : 

কখনো কাউকে বাবা-মায়ের কোলঘেঁষা হতে দেখেছেন? এর উল্টোটাও ঘটে যখন বাবা-মা সন্তানের অতিরিক্ত দেখাশোনা করেন। এক্ষেত্রে তারা-

● সন্তানের সাথে শারীরিক সংস্পর্শে বেশি থাকেন। এই যেমন- সন্তানকে সারাক্ষণ কোলে রাখা, তার সাথে ঘুমানো ইত্যাদি। 
● সন্তানের যেকোনো সমস্যায় তারা কোনো চিন্তা না করেই ছুটে যান

এতে করে সন্তানেরা বাবা-মার অনেক কাছাকাছি আসার সুযোগ পায় বটে। তবে এ ধরনের অভিভাবকের সংস্পর্শে থাকলে একজন মানুষ নিজের দায়িত্বগুলোকে বহন করতে পারদর্শী হয়ে ওঠে না। এছাড়া, তারা আত্মবিশ্বাসের অভাবেও ভুগে থাকে।

পারমিসিভ প্যারেন্টিং : 

এই ধরনের প্যারেন্টিং-এ বাবা-মা আমরা স্বাভাবিকভাবে যে ব্যাপারগুলোকে দেখি সেগুলোকে উল্টে দেন। এক্ষেত্রে- 

● তারা কোনো নিয়ম তৈরি করেন না
● সন্তানকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দেন
● সন্তানকে শাস্তি দেন না
● সন্তানের কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশাও থাকে না তাদের

অনেক বিশেষজ্ঞই এমন প্যারেন্টিংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাদের মতে, এতে করে একটি শিশু বেড়ে উঠতে, মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সক্ষম হয়। কিন্তু এর কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে। এমন প্যারেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে একটি শিশু কোনো সমস্যায় পড়লে সেটা নিয়ে কথা বলার কাউকে খুঁজে পায় না। অনেক সময় ভুল পথে, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে তারা।

ফ্রি-রেঞ্জ প্যারেন্টিং : 

এমন অভিভাবকেরা সন্তানকে ছেড়ে দেন। পৃথিবীকে দেখতে দেন। তার মানে এই নয় যে, তাদের সন্তানকে তারা পুরোপুরি ছেড়ে দেন। তারা সন্তানকে-

● মুক্ত করে দেন
● দায়িত্ব নিতে শেখান
● নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং
● স্বাধীনতা দেন

এতে করে সন্তানেরা বেড়ে উঠতে পারে আরও ভালোভাবে। তারা মানসিক অস্থিরতায় কম ভোগে এবং ধীরে ধীরে দায়িত্ব নিতে শেখে। অন্য দিকে, শিশুরা মাঝেমধ্যে কোনো সমস্যায় পড়লে সেটা দেখার মতো আশেপাশে কাউকে না পাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। 

হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং : 

এক্ষেত্রে অভিভাবকেরা সন্তানের সব ব্যাপারে কথা বলেন, জানতে চান, সিদ্ধান্ত নেন। সন্তান কী খাবে, কী করবে, কখন কোথায় যাবে- সব তাদের নখদর্পণে থাকা লাগে। এতে করে সন্তানেরা স্বাধীনতার অভাববোধ থেকে কোনো বাজে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে। আবার তাদের অনেক সমস্যার সমাধানও হয়ে যায় সহজেই।

আর সর্বশেষ প্যারেন্টিংয়ের ধরনকে বলা হয় নেগলেক্টফুল প্যারেন্টিং। প্যারেন্টিংয়ের এই ধরনটি বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যকার দূরত্বকে বাড়িয়ে দেয়। এর ইতিবাচক ফলাফল নেই বললেই চলে। আপনার জন্য ওপরের প্যারেন্টিংয়ের ধরনগুলোর মধ্যে কোন ধরনটি বেশি কার্যকরী সেটা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপনার। 

শুরুতেই যেমন বলা হয়েছে, প্যারেন্টিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট ধরন মেনে চলা যায় না। তাই ওপরের ধরনগুলো দেখে যেটা আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য ইতিবাচক বলে মনে হয়, সেটাই মেনে চলুন।

সূত্র- হেলথলাইন

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড