• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পড়াশোনায় শিশুর অমনোযোগিতা, অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয়

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৫৬
শিশু
ছবি : প্রতীকী

একমাত্র কন্যা সুরাইয়াকে এবার স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন সোহানা কামাল। কিন্তু মেয়ে যে কিছুতেই পড়তে চায় না। বলে কয়ে পড়াতে বসালেও খেলার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। কখনও বা শুরু করে কান্নাকাটি। ছোট্ট বাচ্চাকে যে কী করে স্কুলের পড়া পড়াবেন ভেবেই পান না সোহানা। 

ছোট্ট শিশুরা পড়াশোনার চাইতে খেলায় বেশি মনোযোগী হয়। এটিই স্বাভাবিক। আর তাই তাদের পড়াতে গিয়ে মা-বাবারা পড়েন ঝামেলায়। তাই, শিশুদের পড়াশোনা করানোর ক্ষেত্রে ছোট্ট কিছু কৌশল মাথায় রাখা উচিত। তাহলেই আপনার কষ্ট কম হবে আর শিশুও পড়াশোনায় আগ্রহী হবে- 

কিছুটা সময় কাটুক ছুটাছুটিতে- 

দিনের একটা সময় শিশুকে তার জগতে ছেড়ে দিন। ইচ্ছেমতো খেলুক, ছুটাছুটি করুক। এর ফলে তার দেহ থেকে এনডরফিন হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হবে। সে সঙ্গে ঘামও ঝরবে। আর ঘাম ঝরার পর শিশুকে পড়াতে বসলে লাভ কিন্তু আপনারই হবে। কারণ, এনডরফিন হরমোন নিঃসরণের এক থেকে দেড় ঘণ্টা শিশুর মনোযোগ বেশি থাকে। 

তাই শিশুকে কিছুটা সময় তার মতো ছেড়ে দিন। এতে শিশুর মন আনন্দে ভরপুর থাকবে আর পড়াটাকেও সে আনন্দের সাথেই গ্রহণ করবে। 

ওর আগ্রহে গুরুত্ব দিন- 

আপনার সন্তান কি গান গাইতে পছন্দ করে? কিংবা নাচের দিকে আগ্রহ তার? তবে ওর আগ্রহেও কিছুটা গুরুত্ব দিন। গান শেখান কিংবা ছবি আঁকা। পছন্দের কাজ শিখলে শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। 

জোর করবেন না- 

এখন পড়ার সময়, পড়তে বসো। সন্ধ্যা মানেই পড়তে হবে। এমন জোর শিশুর সাথে করবেন না। এতে মনোযোগ তো আসবেই না বরং পড়ার প্রতি অনাগ্রহ জন্মাবে তার। এরচেয়ে, খেলার ছলেই শিশুকে পড়ানোর অভ্যাস করুন। শুরুটা চলতে ফিরতে করলে একসময় শিশু নিজেই পড়ার প্রতি আগ্রহী হবে। 

ঘুমানোর আগে গল্প করুন- 

ঘুমানোর আগে শিশুর সঙ্গে কিছুটা সময় গল্প করুন। তাকে এসময় গল্পের মাধ্যমেই শেখানোর চেষ্টা করুন। পাশাপাশি, সে কোনো প্রশ্ন করলে বিরক্ত না হয়ে উত্তর দিন। এতে শিশুর জানার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। 

বয়সের কথা মাথায় রাখুন- 

৪/৫ বছরের শিশুর যে মনোযোগ থাকবে, ১০ বছরের শিশুর মনোযোগ তার চেয়ে একটু বেশি থাকবে। এটিই স্বাভাবিক। তাই ছোট শিশুর থেকে অতিরিক্ত মনোযোগ আশা করবেন না। 

ইলেকট্রিক গ্যাজেট থেকে দূরে রাখুন- 

শিশুকে মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব ইত্যাদি ইলেকট্রিক গ্যাজেট থেকে যত দূরে রাখবেন ততই ভালো। কেননা ছোট বয়সে এগুলো মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। আর তাই নষ্ট হয়ে যায় মনোযোগ। পাশাপাশি নিজে সারাক্ষণ টিভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। এর প্রভাব শিশুর ওপরও পড়ে। 

শিশুর অভিভাবকের পাশাপাশি বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। তবেই সহজে পড়াশোনা করানো যাবে। পড়াশোনাকে জটিল না করে গল্পের মাধ্যমে বোঝালে শিশু বুঝবে জলদি। 

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড