• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

শখের গহনার কারিগর পঞ্চমালা হাওলাদার

১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:২৯
পঞ্চমালা
পঞ্চমালা হাওলাদারের হাতে বানানো গহনা এবং নকশি টিপ

শখের গহনার কারিগর তিনি। বাবার দেয়া নামেই নিজের শখের জগত শুরু করেছিলেন। আর এই শখই আজ পরিণত হয়েছে ভালোবাসায়, হয়েছে উপার্জনের অন্য একটা মাধ্যম। পঞ্চমালা শুধু একটা পেইজ নয়, এখানে জড়িয়ে আছে নিজের অনেক সংগ্রামের গল্প, পথ হারিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর গল্প। পঞ্চমালা'র মূল কাজ মূলত রঙ নিয়েই। এর সাথে আনুষঙ্গিক হিসেবে আছে কাঠ, কাপড়, পুঁতি। কীভাবে এই কাজের শুরু জানতে চাইলে 'পঞ্চমালা' পেইজের কর্ণধার পঞ্চমালা হাওলাদার তার পথচলার শুরুর গল্প জানালেন। 

পঞ্চমালা

'পঞ্চমালা' পেইজের কর্ণধার পঞ্চমালা হাওলাদার 

'এইচএসসি শেষ করার পর চারুকলায় পড়ার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আশেপাশের পরিবেশ বিপক্ষে ছিল কিন্তু আব্বা-মা এর উৎসাহ ছিল বলেই সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম। ২০০৬ সালে চারুকলায় ভর্তি হই। এর মাঝখানে বিয়ে, বাচ্চা এসবের মধ্যে নিজের ইচ্ছে পূরণের কথা ভাবাই হয়নি। ২০১৪ তে লেখাপড়ার পার্ট চুকানোর পরে কেনো যেন কাগজে আর ছবি আঁকতে ইচ্ছে করলো না। ২০১৬ সালে আব্বাকে হারালাম। অনেকটা বিধ্বস্ত দিন কাটছিল। তখন হঠাৎ করেই কিছু জিনিসপত্র কিনে গহনা বানানো শুরু করলাম সময় কাটানো আর আব্বাকে হারানোর কষ্ট থেকে দূরে থাকতে। কিছু সিম্পল মালা বানালাম, আমার কয়েকজন চারুকলার বান্ধবীরা গহনাগুলো কিনে নিল। ব্যাপারটা খুব ভালো লাগলো আমার। বেশ উৎসাহ পেলাম। আমি আমার হাজবেন্ডকে ব্যাপারটা জানালাম। আমার কাজের প্রতি আগ্রহী দেখে ও আমাকে একটা পেজ ওপেন করে দিলো এবং উৎসাহ দিলো এটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। পেজ তো ওপেন করলাম কিন্তু নাম কি দেই? এটা নিয়ে ভাবনা শুরু হলো। কিন্তু ভাবনাকে খুব বেশি না বাড়িয়ে বাবার দেওয়া নাম 'পঞ্চমালা' দিয়েই পেইজের নামকরণ করলাম। 

'পঞ্চমালা' মূলত কোন কোন জিনিস নিয়ে কাজ করে? 

পঞ্চমালা মূলত কাঠের গহনা নিয়েই বেশি কাজ করে। পেইজ খোলার পর এখানে আরও নতুন নতুন আইডিয়া বাস্তবায়ন করা শুরু করলাম। কাঠের বেইজের ওপর রঙ করা, পুঁতি, কাপড়, সুতা, দড়ি দিয়ে গহনা বানাতে আমার খুব ভালো লাগে। এগুলো দিয়ে নতুন নতুন কাজ করি। এতে ভিন্নতার স্বাদও পাই। পেইজে গহনা ছাড়াও আছে নানা ধরনের নকশি টিপ।

পঞ্চমালা

পঞ্চমালা হাওলাদারের হাতে বানানো কিছু গহনা 

 

পেইজ পঞ্চমালা নয়, ব্যক্তি পঞ্চমালার ছোটবেলার রঙিন জীবন সম্পর্কে জানতে চাই। 

'ছোটবেলা থেকেই রং আমার খুব ভালো লাগতো। ছবি আঁকতে পছন্দ করতাম। আমরা ৬ বোন। আব্বা দেশের বাইরে থাকতেন। মা একাই সবকিছু সামলাতেন। ছবি আঁকার প্রতি আমার আগ্রহ কখনো কারো চোখেই পরেনি। এ জন্য ছবি আঁকার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়ার সুযোগ হয়নি। তবে আব্বা দেশের বাইরে থাকার দরুন রং পেন্সিল পাওয়া একটু সহজই ছিল। এই ছবি আঁকা, রং নিয়ে আমার খেলার আগ্রহটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বিটিভির 'মনের কথা' অনুষ্ঠানটি। সবকিছু মিস করলেও এই অনুষ্ঠানটি কখনও মিস করতাম না। শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার স্যারের সূক্ষ ও সহজ কৌশলগুলো আমার রং নিয়ে খেলাটাকে আরও মজার করে দিতো। আমার মনে আছে আমার জল রং করার এত আগ্রহ ছিল কিন্তু কোথায় পাব? বুদ্ধি করে রং পেন্সিলগুলো ভেঙে রংগুলো গুঁড়ো করে পানিতে কয়েকদিন ভিজিয়ে রেখে জল রং করেছিলাম। আমার কাছে জীবনটা সবসময়ই একটা স্বপ্নের মতো। জীবনটাকে সবসময়ই চেয়েছি অন্যভাবে সাজাতে। কখনোই সাধারণ কিছু ভালো লাগতো না আমার। রং আমার খুব পছন্দের জিনিস। এক কথায় রং নিয়ে যখন বসি পৃথিবীর আর কিছু তখন মনে থাকে না। এই তো পঞ্চমালার ছোটবেলার রঙে রঙিন জীবনের গল্প। 

পঞ্চমালার পথচলা কতদিনের? 

আজ প্রায় তিন বছর হতে চলল পঞ্চমালার বয়স। চেষ্টা করছি পেইজটাকে একটু একটু করে বড় করতে। এরই মধ্যে ৪টি মেলায় অংশ নিয়েছি। এ কাজে এসে বেশ কজন নতুন বন্ধু পেয়েছি। 

পঞ্চমালা

পঞ্চমালা হাওলাদারের হাতে বানানো কিছু গহনা 

 

গ্রাহকের কেমন সাড়া পেয়েছেন? 

প্রচুর। এত অল্প সময়ে সবাই আমাকে এতটা আপন করে নিবে ভাবিনি। যেহেতু এখন আমার কাজের পরিসর ছোট তাই পরিচিতি আর ভালোবাসাটা কাছের মানুষদের কাছ থেকে অনেক বেশিই পাই। 

এই কাজে প্রচুর ধৈর্য আর সময়ের দরকার। পরিবারের কাছ থেকে কেমন সহায়তা পান?

হাতের কাজে পরিশ্রম আর ধৈর্য যদি না থাকে তাহলে কাজ করা খুব কঠিন হয়ে যায়। নিজের কাজের পাশাপাশি পরিবারের সাপোর্টটাও অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ডিজাইনের কাজগুলো মূলত আমি করলেও আমার ছোটবোন বিভিন্ন সময় আমাকে সাহায্য করে। এছাড়াও পরিবারের সবাই টুকটাক সাহায্য সব সময়ই করে। 

ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে চায় পঞ্চমালা? 

যেহেতু আমার মূল কাজ গহনা নিয়ে কাজেই এই কাজ ঘিরেই আমার স্বপ্ন। বাবার দেওয়া নাম পঞ্চমালা হাওলাদার নামেই একজন প্রতিষ্ঠিত গহনা ডিজাইনার হতে চাই। হাতে তৈরি হলেও প্রতিটি গ্রাহকের কাছেই সবচেয়ে ভালো জিনিসটিই সবসময় পৌঁছে দিতে চাই। 

শুরুটা ছোট থেকে হলেও একদিন পঞ্চমালা অনেক দূর পৌঁছাবে এমন শুভ কামনা রইলো 'পঞ্চমালা'র জন্য।

'পঞ্চমালা' পেইজের লিংক: পঞ্চমালা 

ওডি/এএন 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড