• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯, ৭ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

ব্রেকিং :

ঘুরে আসুন শেরপুরের সীমান্ত সড়কে

  শাকিল মুরাদ, শেরপুর ১৮ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৪

শেরপুর
সীমান্ত সড়ক নির্মাণ হওয়ার ফলে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলেছে শেরপুরে

এমনই কাঁচা রাস্তা। যেখান দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়ায় কষ্টকর। আবার বাইসাইকেল কিংবা যানবাহন! এটা কখনোই সম্ভব না- এমন কথাই মানুষের মুখে মুখে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে অবহেলিত সীমান্তবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। সবার মুখেই এখন বর্তমান সরকারের গুণগান।

সীমান্ত সড়ক নির্মাণ হওয়ার ফলে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীসহ সুনামগঞ্জ-জামালপুরের বকশিগঞ্জ পর্যন্ত গোটা সীমান্ত এলাকায়। মানুষ আসছে সীমান্ত সড়কে ঘুরতে। দেখছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আশেপাশে এলাকাগুলো থেকে মানুষজন ঘুরতে আসছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সবসময় যানবাহন চলাচল করছে। এতে খুশি সীমান্তবাসী।

সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পাহাড় খুঁড়ে নালিতাবাড়ী সীমান্ত সড়ক দিয়ে বকশিগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ ফিট প্রশস্ত এ সড়কটি নির্মাণ হওয়ার ফলে সীমান্তের সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর জেলার ১১টি উপজেলার সীমান্তবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ থেকে ১৭১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে শেরপুর জেলায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক ৮৫ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যসব জেলাতেও এই সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। পরবর্তীতে সীমান্ত সড়কটি সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত এবং কামালপুর থেকে লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সীমান্ত সড়কটি নির্মাণ হওয়ার ফলে পাহাড় আর বন-বনানী ছুঁয়ে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য স্পর্শ করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উচুঁ-নিচু টিলা মাড়িয়ে গাড়ি চলবে। দেশের পূর্ব-উত্তর সীমান্তের অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। অবহেলিত সীমান্তবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। এতদিন সুনামগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে ঢাকা হয়ে যেতে হতো। এখন এ সড়ক নির্মাণ হওয়ার ফলে সহজেই উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করা যাবে।

সীমান্তবাসীরা জানায়, পাহাড়ের উঁচু নিচু টিলা কেটে বনের মাঝখান দিয়ে সীমান্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে যানবাহন হিসেবে এখন অটোগাড়ি চলছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবারপরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছে অনেকেই। সড়কের বাঁকে বাঁকে পাহাড়ের টিলায় বসে আড্ডা জমায় তরুণ-তরুণীরা। পরিবার-প্রিয়জনদের নিয়ে নীরবে নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য, প্রকৃতির সাথে কিছু সময় মিশে থাকার জন্য সীমান্ত সড়কে আসছে মানুষজন।

এই সড়কের পাশেই বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে নয়াবিল ইউনিয়নের চেরালী এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নাকুগাঁও স্থলবন্দর। নাকুগাঁও শুল্ক বন্দরটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু ছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের পর অজ্ঞাত কারণে এ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

৩৩ বছর বন্ধ থাকার পর এলাকার সাংসদ মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালে সকল বৈধ পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টসহ বন্দরটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করেন। স্থলবন্দরকে ঘিরে ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নকলা থেকে নালিতাবাড়ী নাকুগাঁও স্থলবন্দর সড়কের ২৯.৫ কিলোমিটার দুই লেন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই বন্দরে একটি ইমিগ্রেশন রয়েছে।

এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপালে খুব সহজেই যাতায়াত করা যায়। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন ভ্রমণকারী এই বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে আসছে।

এছাড়াও সড়কের পাশে রয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত মধুটিলা ইকোপার্ক। ১৯৯২ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোঁড়াগাও ইউনিয়নের সমশ্চুরায় পাহাড়ি উঁচুনিচু টিলাকে ঘিরে ৩৮০ একর ভূমিতে স্থাপিত হয় মধুটিলা ইকোপার্ক। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো পাহাড়ের নান্দনিক দৃশ্য ফুটে ওঠে একমাত্র এই পার্কটিতেই। ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শনার্থী পার্কটিতে বেড়াতে আসে। ভ্রমণপিয়াসীদের পার্কের এই প্রাকৃতিক রূপসৌন্দর্য বাড়তি আনন্দ দেয়। প্রতি বছর নভেম্বর-মার্চ পর্যন্ত এই পার্কে দর্শনার্থীতে মুখরিত হয়ে থাকে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা সাদিকুর রহমান শাকিল বলেন, মনকে আনন্দ দেওয়ার জন্য মাঝে আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি সীমান্ত সড়কের উদ্দেশ্যে। সারা বিকাল এই সড়ক দিয়ে ঘুরতে থাকি। প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়।

নালিতাবাড়ী উপজেলার অটোচালক মনির বলেন, ‘আমরা সীমান্ত এলাকার লোক। এলাকায় কোন কাজ ছিলো না। এই সড়কটি হওয়ার ফলে এহন অটো চালিয়ে সংসার চালাইছি। দিনে তিন থেকে চারশত টেকার মত পাই। এই দিয়ে দিন চালাইছি।’

রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম খোকা বলেন, এই সীমান্ত সড়ক হওয়ার ফলে অবহেলিত পাহাড়িদের হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তবাসীর ভাগ্যেও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এই সীমান্ত সড়ক এলাকায় বেড়াতে আসছে। পুরো সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ হলে সীমান্ত এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড