• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

জানা অজানার ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট ঘড়ি

  জুবায়ের আহাম্মেদ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৯

ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট ঘড়ি
ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট ঘড়ির জানা অজানা (ছবি: ওভারস্টক ডট কম)

ঘড়ি কিনতে গেলে প্রায়ই এই ট্যাগের সাথে দেখা হয় আমাদের। কিন্তু সত্যি বলতে এই বাক্যটি ঠিক কতটা সত্য তা কি কখনোই যাচাই করেছেন? কিংবা এটা কি সত্যিই আপনার ঘড়িকে পানি থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম? আপনি যা বুঝতে চাইছেন ঘড়ি নির্মাতারা আসলে হয়ত সেটা বোঝাতে চাইছেন না।

ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট খানিক জটিল একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাপার। ঘড়ি নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানির একেবারেই নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়মের ভিড়ে ওয়াটারপ্রুফ বিষয়টি বুঝতে আপনাকে সামান্য কিছু ব্যাপারে জ্ঞান রাখতে হবে।

আর এইসব ছোট কিছু জিনিসই আপনার দামী ঘড়ি কেনার সময় দামের ক্ষেত্রে বড় একটি পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

১। ওয়াটারপ্রুফ বনাম ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট

প্রথমেই জেনে নেয়া উচিত কোন ঘড়িই শতভাগ ওয়াটারপ্রুফ নয়। কোন বস্তু যখন পানির নিচে থাকে তখন এর চারপাশে পানি বস্তুটিতে প্রচুর পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করে। যদি এইক্ষেত্রে বস্তুটি হয় একটি ঘড়ি তাহলে বুঝতে হবে আপনার ঘড়ির বিভিন্ন সিল বা স্ক্রুর উপর পানির প্রভাব থাকছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পানির নিচে গেলেই পানির কারণে স্ক্রু আলগা হতে শুরু করে। এছাড়া পানি কিংবা গ্যাসীয় বুদবুদ ঘড়ির ভিতরে ঢুকে যেতে পারে।

রেটিং অনুযায়ী ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট বেশ কিছু অর্থ বহন করতে পারে। হয়ত বর্ষায় বৃষ্টির দিনে হাতে পরার উপযোগী। অথবা সুইমিংপুলে বেশ কিছুক্ষণ হয়ত থাকার উপযোগী। যদি রেটিং ভাল হয় তাহলে হয়ত গভীর সাগরে ডাইভিং এর সময়েও আপনার ঘড়ি টিকে থাকতে পারে।

আর এর সবটাই নির্ভর করে আপনার ঘড়ির অভ্যন্তরীণ গঠনের উপর।

২। ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট এর বিভিন্ন ধাপ

ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট ঘড়ির বিভিন্ন রেটিং ঘড়ির কার্যকারীতা প্রায়ই আপনাকে জানান দেয়। কিন্তু নিজের অগোচরেই আপনি সেইসব এড়িয়ে চলেছেন। জেনে নিন এমনই কিছু সংকেত যা আপনাকে ধারণা দিবে ঘড়ি কখন কত গভীরতায় চলবে

এটিএম (ATM) - এটিএম বলতে বোঝায় এট্মোস্ফিয়ার বা চাপ। আর এক এটিএম নির্দেশ করে পানির দশ মিটার গভীরতায় আপনার ঘড়ি সচল থাকবে।

বার (BAR) - এটিও এট্মোস্ফিয়ারের মতোই একটি একক। কোন ঘড়ির গায়ে যদি লেখা থাকে “২০ বার ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট” এর অর্থ ঘড়িটি পানির নিচে ২০০ মিটার গভীরে থাকা চাপেও আপনাকে সঠিক সময় বলে দিতে সক্ষম।

তবে সাবধান থাকুন এই তথ্য কেবলমাত্র স্বাভাবিক পানির চাপের জন্য প্রযোজ্য। অধিক চাপে আপনার ঘড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাতে যতই ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট লেখা থাকুক না কেন।

ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট ঘড়ি এবং প্রত্যাশার পারদ

৩০ মিটার ( ৩ এটিএম/৩ বার) – এটি এমন একটি ঘড়ি যা সবসময় হাতে রাখতে পারেন। হোক গোসলের সময় বা খাওয়ার আগে হাত ধৌত করতে গিয়ে। তবে সবসময় পানির বিরুদ্ধে আপনার ঘড়ি টিকে নাও থাকতে পারে। গোসলের সময় তাপমাত্রা খানিক কম থাকতে বলে সময় জানান দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার ঘড়ি একটু উনিশ বিশ হতে পারে। আর সমস্যা দেখা দিতে পারে ঘড়ির মেকানিজমে। তাই ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট লেখা থাকলেও এই ঘড়ির ক্ষেত্রে আপনার বাড়তি সতর্কতা থাকা উচিত।

৫০ মিটার ( ৫ এটিএম/৫ বার) – এই ঘড়ি যদি আপনার হাতে থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। কোনভাবেই সাধারণ ব্যবহারে অর্থাৎ গোসল, বৃষ্টি কিংবা হাত ধোয়ার মত কাজে এই ঘড়ি নষ্ট হবেনা। একেবারেই সাধারণ জীবনের উপযোগী এক ঘড়ি। তবে হ্যাঁ অতি উৎসাহী হয়ে পানির একেবারে গভীরে নিয়ে পরীক্ষা না করাই উত্তম। এতে করে, ঘড়ি নষ্ট হবে তা অনেকখানি নিশ্চিত।

১০০ মিটার (১০ এটিএম/১০ বার) – স্বাভাবিক জীবনের পাশাপাশি সুইমিংপুলে সাতার কিংবা কাজের সময় পানির সব ধাক্কা সামলে নেয়ার উপযোগী এই ঘড়ি। যদিও এই ঘড়িতে আপনি সাগরতলে স্কুবা ডাইভিং কিংবা পানিতে চলা বিভিন্ন খেলাধুলার কাছাকাছি যেতে পারবেন না।

২০০ মিটার (২০ এটিএম/২০ বার) – এই ধরনের ঘড়ি বলা চলে একেবারেই দূর্লভ কোন বস্তু। আপনি মোটামুটি একে ডাইভিং ওয়াচ বলতে পারেন। যেকোন ধরনের সাতার কিংবা ডাইভিং এর সময় আপনার চারপাশের পানির চাপ সয়ে নিতে পারে এই ঘড়ি। মূলত এসব ঘড়ি বানানোই হয় ডাইভিং এর কথা মাথায় রেখে। এই ঘড়ি হাতে যেতে পারেন পানির নিচে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড