• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

শুধু ‘প্র্যাকটিস’ সন্তানকে বুদ্ধিমান করে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়!

  অধিকার ডেস্ক    ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৪৬

শিশু
শিশুকে বেড়ে উঠতে দিন নিজের মত করে (ছবি: বাতিঘর উত্তরা শাখা)

বাবা-মায়ের সব স্বপ্ন বড় হয় সন্তানকে ঘিরে। সন্তান পরবর্তী জীবনে কী করবে, কোন কাজ করবে সব কিছু নিয়েই তাদের ভাবনা বাড়তে থাকে সন্তান বড় হতে হতে। তবে এরই মাঝে অনেকে তার সন্তানকে জোড় করে প্রতিভাবান করে তোলার চেষ্টা করেন। আর এ চেষ্টা সন্তানের নিজস্বতাকে নষ্ট করে দেয়। যা তার পরবর্তী জীবনের জন্য ক্ষতিকর। 

সন্তানের প্রতিভা নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে হপকিন্স বিশ্ববদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক স্টেনলি জন কিছু তথ্য জানতে পারেন। 

'প্র্যাকটিস মেকস পারফেক্ট' অর্থাৎ চর্চা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে চূড়ান্ত সাফল্য, দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব বলে প্রচলিত যে বিশ্বাস আমাদের মাঝে রয়েছে, গবেষণায় দেখা যায় এ কথাটি সর্বাংশে সত্য নয়। 

যে শিশুর অল্প বয়সে কোনো বিষয় পরিষ্কার করে বুঝে নেওয়ার, আত্মস্থ করার এবং সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা যত বেশি থাকে, পরবর্তী জীবনে তার সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। শুধুমাত্র পরিশ্রমই একমাত্র চাবিকাঠি নয় জীবনে সফল হওয়ার। এমনকি শিশুর আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

আবার শিক্ষাবিদরাও বারবার করে সাবধান করেছেন, ‘শিশুকে যদি জবরদস্তি করে প্রতিভাবান করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয় তাহলে হিতে বিপরীত হয়। তাদের মাঝে নানারকম সামাজিক এবং মানসিক সমস্যা তৈরি হয়।’

কিন্তু আপনি চাইলেই বুদ্ধিমান শিশুকে কোনো চাপের ভেতর না ফেলে তার বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করা সম্ভব। আর এ জন্য নিচের পন্থাগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন: 

১। শিশুকে বিভিন্ন প্রকার বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করুন

শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকেই। বৃদ্ধি পায় শিশুর সাহসও। দিনের পর দিন যদি শিশুরা একইরকম জীবন যাপন করতে থাকে তাহলে তাদের জীবনে যোগ হয় আলস্য আর স্থবিরতা। 

আর তাই বুদ্ধিমান শিশুদের উদ্বুদ্ধ রাখতে, কাজের প্রতি আগ্রহী রাখতে তাদেরকে অভিনব সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি রাখা উচিত।  

প্রতিভা

২। শিশুর আগ্রহকে উৎসাহিত করুন 

খেলাধুলা, নাটক, নাচ, গান, ছবি আঁকা যে কোনো বিষয়ে শিশুর আগ্রহ থাকলে তাকে অল্প বয়স থেকেই তার এ প্রতিভাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। 

তবে অবশ্যই কোনো একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে ‘কিছু একটা হতে হবে’ এমন চাপ কখনোই শিশুকে দেওয়া যাবে না। এতে শিশুর লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। 

৩। বাচ্চার বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আবেগের চাহিদা বুঝে সাহায্য করতে হবে

শিশু যখন জিজ্ঞেস করবে বুঝতে হবে সে জানতে চায়। একদম ছোট বয়স থেকেই শিশুর মাঝে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। ‘কেন’, ‘কীভাবে’ এ সকল প্রশ্নের উত্তর বাবা-মাকে দিতে হবে খুব সহজভাবে। শিশুকে যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অনাগ্রহ জাগিয়ে দেওয়া হয় তখন তার মাঝে স্বাভাবিক প্রশ্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে। তাই তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সহজ ভাষায় আর গুছিয়ে। তাহলে স্কুলেও তার সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। 

প্রতিভা

৪। শিশুর ক্ষমতা নয়, তার জানা বা শেখার চেষ্টার প্রশংসা করুন

শিশু যে বিষয়গুলোকে জানতে চায়, শিখতে চায় সে বিষয়গুলোকে উৎসাহ দিন। তার শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বেশি প্রশংসা করুন। আর এখান থেকে যে ফলাফল আসে সেটিও গ্রহণ করুন স্বাভাবিকভাবে। কারণ শেখার উৎসাহই পরবর্তী জীবনে তাকে সাফল্যের দুয়ার খুলে দেবে। 

৫। শিশুকে জানান ব্যর্থতা ভীতিকর কিছু নয়

শিশু শেখার বয়সে ভুল করবে। আর এটা যে খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় তাকে সেটা জানতে দিন, বুঝতে দিন। শিশুর ভুলগুলোকে তার শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ ব্যাপারটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।

জেনে রাখুন, ভুল করলে বাচ্চাদের ভবিষ্যতে যে কোনো সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়ে।

প্রতিভা

৬। শিশুকে কোনো লেবেল বা তকমা দেবেন না 

তার কোনো ভুলে তাকে নির্দিষ্ট কোনো লেবেলে বা তকমায় আটকে ফেলবেন না। তাহলে সে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে পড়তে পারে। 
আর এ কারণে ভবিষ্যতেও সে সারাজীবন কুঁকড়ে থাকতে পারে।

৭। শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ

প্রতিভাবান শিশুরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভালোবাসে। শেখার বিষয়ে তারা নিজেদের গতিকেই বেছে নেয়। আর চলতি শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে তাদের সেই গতিকে গতিশীল রাখতে বাবা-মাকে শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ করতে হবে।

প্রতিভা

৮। যাচাই করুন শিশুর সক্ষমতা 

আপনার শিশুর কোনো অজানা শারীরিক সমস্যা যেমন ডিজলেক্সিয়া, তার মনোযোগের ঘাটতি আছে কিনা অথবা হাইপার-অ্যাকটিভিটি বা অতিমাত্রায় চঞ্চলতার সমস্যা আছে কিনা এ সব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে আপনার। সন্তানকে কোনো বিষয়ে বাড়তি চাপ প্রদানের আগে এ বিষয়গুলো নিয়ে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে।  

বলা হচ্ছে আপনার প্রতিভাবান সন্তানের জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখুন। কিন্তু কীভাবে আপনি বুঝবেন আপনার বাচ্চা প্রতিভাধর? রইল তারই কিছু ইঙ্গিত:

১। শিশুর মনে রাখার অস্বাভাবিক ক্ষমতা

২। খুব অল্প বয়সে পড়তে শেখা

৩। অস্বাভাবিক অথবা ভিন্ন কিছু আগ্রহ, শখ অথবা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ বিষয়ে গভীর জ্ঞান

৪। বিশ্বের চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে ধারণা

৫। সব সময় প্রশ্ন করা অথবা কোনো বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া 

৬। উচ্চমানের রসিকতা বোধ

৭। সঙ্গীত নিয়ে আগ্রহ

৮। কাজ নিয়ন্ত্রণ করার আগ্রহ

৯। খেলার সময় নতুন এবং অতিরিক্ত নিয়মকানুন তৈরির ক্ষমতা

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড