• সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন

পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত আশুরহাট গ্রাম

  শাহারিয়ার রহমান রকি, ঝিনাইদহ ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৪৪

ঝিনাইদহ
পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত থাকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশুরহাট গ্রাম

কি সকাল, কি সন্ধ্যা, সব সময় পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত থাকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশুরহাট গ্রাম। পাখির আনাগোনার কারণে গ্রামটি এখন পরিচিতি লাভ করেছে পাখি গ্রাম হিসেবে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে পাখি দেখতে।  

জেলার শৈলকুপার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম আশুরহাট। গ্রামের ৪ টি পুকুরের পাশের বড় বড় গাছে আবাসস্থল গড়ে তুলেছে শামুখখোল, পানকৌড়ি, সাদা বগসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। শুরুর দিকে ২/৩ মাস অবস্থান করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে সারা বছরই অবস্থান করছে এসব পাখি আর শামুখ, ছোট মাছ, পোকামাকড় খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে। 

জানা যায়, ২০০৭ সালে প্রথম ৬০ টি মতো পাখি শীতের শুরুতে এখানে আসে। এরপর থেকে প্রতি বছরই বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার পাখি অবস্থান করছে গ্রামটিতে।

২০১৩ সাল থেকে এখানে প্রজনন ঘটাতে থাকে। পাখিদের কোন ক্ষতি যেন না হয় সে ব্যাপারে নিয়মিতই দেখাশুনা করছেন গ্রামবাসীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন পাখি গ্রাম বা পাখি মেলার পাখি দেখতে। 

পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত থাকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশুরহাট গ্রাম

কিন্তু দিনের বেলাতে কম থাকলেও রাতে চোরা শিকারীদের কবলে পড়ছে পাখি গ্রামের পাখিগুলো। কেউ এয়ারগান দিয়ে, কেউবা গাছে উঠে আবার কেউবা কোটা দিয়ে শিকার করে পাখি। বাধা দিতে গেলেও নানা হুমকি-ধামকিসহ শিকারীদের তাড়া খেতে হয় মানুষকে। তবুও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখি রক্ষায় শুধু সাইনবোর্ড টাঙানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ সব কার্যক্রম। 

দর্শনার্থীরা জানান, এখানে এসে পাখি দেখতে খুব ভাল লাগে। অনেক ধরনের বড় বড় পাখি দেখা যায়। 

স্থানীয় কৃষক আকমল হোসেন জানান, শুরুর দিকে আমি এবং আব্দুর রাজ্জাক মিলে পাখিগুলো দেখে রাখতাম। এভাবে আস্তে আস্তে পাখির সংখ্যা এখানে বেড়েছে। বছরের সবসময় পাখি থাকলেও শীতের সময় পাখির সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। 

অপর কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, চোরা শিকারীদের থেকে পাখিগুলো রক্ষা করতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রাতে তাদের বাধা দিতে গেলে আমাদের ধারালো অস্ত্র, লাঠি-সোটা দিয়ে তাড়া করে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন আসে, বলে পাখি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আসলে তারা কিছু করে না। যদি প্রশাসক একটু সহযোগিতা করতো তাহলে পাখিগুলো বছরের পর বছর নিরাপদে থাকতে পারত। 

এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, পাখির আশ্রম রক্ষায় পুকুর পাড় থেকে সকল প্রকার গাছ কাটার ওপর নিষেধ করা হয়েছে। চোরা শিকারীদের দৌরাত্ব দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় পাহারার জন্য গ্রাম পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

তবে গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়না গ্রামবাসীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি কয়েকদিনের ভিতর আবার আশুরহাট গ্রাম পরিদর্শণ করব। সেখানে গ্রাম পুলিশদের সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখোরিত থাকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশুরহাট গ্রাম

ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক রহমত আলী জানান, অতিথি পাখি সাধারণত তাদেরকে বলা হয় যারা নির্দিষ্ট সময়ে আবহাওয়া, খাদ্য কিংবা প্রজননের জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে আগমন করে। তিব্বতসহ হিমালয়ের বিভিন্ন দেশ থেকে যখন প্রচুর শীত পড়ে তখন আমাদের দেশে প্রচুর পাখির আগমন ঘটে। আমাদের দেশে পাখিগুলোর জন্য পরিবেশ অনুকূল থাকায় এখানে আসতেই তারা বেশি পছন্দ করে। 

তিনি আরও জানান, শামুখ, ঝিনুক সহ বিভিন্ন ছোটমাছ বা কিছু পোকা পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যা পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়ার কারণে অনেক পাখি অতিথি হিসেবে এলেও আমাদের দেশে পরবর্তিতে তারা স্থায়ী আবাসস্থল গড়ে তোলে। যা আমাদের দেশের জন্য একটা পজেটিভ দিক। যেমনই একটি আবাসস্থল ঝিনাইদহের শৈলকুপার আশুরহাট গ্রাম। এরা মূলত তিব্বত, সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান দেশ থেকে আসা অতিথি পাখি। এখানে এসে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় তারা আর ফিরে যায়নি।  
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড