• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সফল ফ্রিল্যান্সার হাসানুল হক সামী

  সুমাইয়া আখতার তারিন

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৪১
ফ্রিল্যান্সার
ফ্রিল্যান্সার হাসানুল হক সামী। ছবি : দৈনিক অধিকার

হাসানুল হক সামী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিত। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন তিনি। শুরুটা সহজ ছিল না সামীর। পড়াশুনার পাশাপাশি কোডিংয়ের মতো জটিল সব বিষয় নিয়ে কাজ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। পরিশ্রমের যথাযথ ফলও পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ২ লাখের অধিক টাকা আয় করেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সামীর সফলতা নিয়ে কথা হয় হাসানুল হক সামী সাথে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন সুমাইয়া আখতার তারিন।

সামী জানান, সিলেটে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সিএসই) ডিপার্টমেন্টে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত তিনি। ২০১৮ সালের দিকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ পান। পরে সেখান থেকেই এই যাত্রার শুরু।

শাবিপ্রবি থেকে ‘Full Stack Web Developer/ Programmer’ এর সার্টিফিকেট পান। এরপর আস্তে আস্তে সামী নিজের স্কিল আরও ডেভেলপ করতে থাকেন গুগল ও ইউটিউবের মাধ্যমে। পরবর্তীকালে ২০১৯ সাল থেকে পুরোপুরি প্রফেশনালি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে শুরু করেন তিনি।

সামী বলেন, আমি ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিলান্সার ডট কম- এ সকল মার্কেটপ্লেসে কাজ করি। বেশি কাজ করা হয় ফাইভার আর বাইরের পার্মানেন্ট ক্লায়েন্টদের। পাশাপাশি এসইও অপ্টিমাইজড (SEO Optimized) পার্সোনাল পোর্টফলিও ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখান থেকে ক্লায়েন্টরা খুঁজে নেয় আমাকে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মাসিক আয় ২৩০০ মার্কিন ডলার (২ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রায়)।

আপাতত নিজস্ব কোনো প্রতিষ্ঠান নেই সামীর। তিনি মনে করেন, প্রতিষ্ঠান খোলার মতো সময় বা পরিশ্রম তাকে অনেক খুঁজে বের করতে হবে। তবে সামীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যেখানে তিনি টিউটোরিয়াল আকারে ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। যাতে মানুষ শিখতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই একটা অ্যাজেন্সিও খোলার পরিকল্পনা রয়েছে সামীর। যেটা নিয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন তিনি।

সফল এই ফ্রিল্যান্সার জানান, এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে ফ্রিলান্সিং প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছেন তিনি। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন ফাইভার মার্কেটপ্লেসে ভালো পজিশনেও আছে। কেউ কেউ লেভেল ওয়ান সেলার হিসেবে আছে আবার কেউবা মার্কেটপ্লেসের বাইরে ভালো ইনকাম করছে।

এ বিষয়ে সামী বলেন, ‘ভালোই লাগে যখন কেউ ফ্রিলান্সিং এ প্রথম অর্ডার পেয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানায়। এমনকি আমার টিমেও অনেক দক্ষ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে।’

সামী বলেন, জীবনের সফলতার ক্ষেত্রে বাধা আসবেই। তবে আমার পরিবারের অনেক সাপোর্ট ছিল এই ফ্রিল্যান্সিংয়ে। যদিও যখন আমি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি তখন পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোয় ভর্তি পরীক্ষার সিজন ছিল। কিন্তু আমি সবসময় মুখস্তবিদ্যা থেকে স্কিলড হওয়াকে বেশি প্রাধান্য দিতাম। তাই কোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দেইনি। যেহেতু ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম এবং আমার রেজাল্ট ভাল ছিল, তাই সামাজিকভাবে সবার চাহিদা ছিল স্বনামধন্য কোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়ব। অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়েছে, কিন্তু অনেক অবাক লাগে যখন আজ তারাই আজ আমার অনেক প্রশংসা করে, বাহবা দেয়। তা দেখে আমি মুচকি হাসি। নিজের উপর একটা কনফিডেন্স ছিল যে, আমি যা করতে ভালোবাসি, তা করলে অবশ্যই সফলতা ধরা দেবে। আর ছিল মহান আল্লাহর প্রতি অবিরাম ভরসা, যেটা আজকে আমাকে এই পজিশনে নিয়ে এসেছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়ে সামী বলেন, ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা নিয়ে বলতে গেলে অনেক কম হয়ে যাবে। এটা এমন একটা পেশা যেখানে আপনি নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু গুছিয়ে নিতে পারবেন। সবথেকে ভালোলাগার বিষয়টা হলো এখানে প্রতিদিন নিত্যনতুন জিনিস শিখে নিজেকে আরও ডেভেলপ করা যায়। যেমন প্রথমে আমি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বেসিক শিখে মার্কেটপ্লেসে আসি, তারপর দিন দিন নিজেকে আরও ডেভেলপ করতে থাকি, একটা সময় পোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে পারি। তারপর ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করি। এভাবে ভবিষ্যতে আরও কমপ্লেক্স জিনস শেখার তীব্র ইচ্ছা আছে।

এখন পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডের ২৭ শতাংশ দেশের ক্লায়েন্টদের সাথে সামীর ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইতালি, মালয়েশিয়া, জার্মান, অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশের মানুষের সাথে ভার্চুয়ালি কনফারেন্সের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। এই বয়সে (২২) যেটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে।

সামীর ভাষায়, এটা অনেক বড় একটা এচিভমেন্ট আমার জন্য। আমি যেহেতু প্রকৃতি প্রেমী, তাই সময় পেলেই চলে যাই দূর-দূরান্তে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে। সবচেয়ে ভালো লাগে, যখন ক্লায়েন্টরা আমার ট্যুর থেকে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। যেন তাদের কাজ আমাকে দিয়ে করাতে পারে। পাশাপাশি দেশকে রেমিট্যান্স এনে দিতে পারছি, দেশের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারছি। যেটা সত্যিই অনেক গর্বের বিষয়। আর এই সেক্টরটা একটা ওপেন সোর্স হিসেবে কাজ করে। পুরো পৃথিবীটা আপনার জন্য খোলা থাকে। তবে তার জন্য অবশ্যই আপনার ইংলিশ এ দক্ষ হতে হবে এবং প্রচুর সময় ও শ্রম দিয়ে স্কিলড হতে হবে।

আরও পড়ুন : কামরুল হাসান শুভ : উদ্যোক্তা কালচার সৃষ্টিই যার লক্ষ্য

সামী বলেন, বাংলাদেশ সরকার আইটি সেক্টরে এখন পর্যন্ত যা যা করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তবে আফসোসের বিষয় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পেপাল বৈধ নয়। এই সুবিধাটি না থাকায় আমাদের হারাতে হয় অনেক মূল্যবান ক্লায়েন্ট। যারা সহজভাবে পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কিন্তু পেপাল না থাকায় আমাদের জন্য তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার পেমেন্টের জন্য অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহারের ফলে আমাদের গুনতে হয় সীমাহীন চার্জ ফি। তাই সরকারের কাছে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তরুণ এই ফ্রিল্যান্সার।

ওডি/নিলয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড