• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সুইডেনের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্যোটল্যান্ড

স্টকহোম থেকে গ্যোটল্যান্ডের উদ্দেশে ভ্রমণ (পর্ব ১)

  রহমান মৃধা

১৬ আগস্ট ২০২০, ২৩:২৮
লেখক রহমান মৃধা ও তার সহধর্মীনী মারিয়া
লেখক রহমান মৃধা ও তার সহধর্মীনী মারিয়া

জীবনের পথচলায় রয়েছে আশা এবং প্রত্যাশা। সে চলার পথে আসে হতাশা, আসে অনিশ্চয়তা। যা হতে পারে বিপর্যস্ত আবার কখনো সে পথ হয়ে ওঠে উদ্ভাসিত। চলমান জীবনের আশা এবং হতাশাকে দূর করা মানুষ জাতির কাজ। সব গন্তব্য জানা যাবে না বা জীবন চলার পথে সব সমস্যার সমাধান মনঃপূত হবে না। কখনও কখনও নিজের কাছে নিজেকে অসহ্য মনে হবে, তা স্বত্বেও সব কিছু মানিয়ে নিতে শিখতে হবে।

সারাটি জীবন ভালোবাসায় কাটুক এমনটি আশা শুধুমাত্র হতাশার খোরাক হবে, সেক্ষেত্রে ভাবতে হবে চাইলেই ভালোবাসা পাওয়া যাবে না, তার জন্য কাজ করতে হবে। প্রকৃতি কখনও রুক্ষ নয় তবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মাঝে মধ্যে রুক্ষ হয়ে থাকে। কারণ যা আমরা পছন্দ করি না সেটাকে রুক্ষ মনে করা খুবই স্বাভাবিক।

মাঝে মধ্যে মনে হয় অসহ্য পৃথিবী অসহ্য জীবন। তারপরও জীবনের প্রতি রয়েছে অঢেল ভালোবাসা। আজ সেই অঢেল ভালোবাসার জীবনকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিয়েছি এক দ্বীপের উদ্দেশ্যে।

পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখার সময় এবং সুযোগ হলো না, সেখানে বিশ্বের দ্বীপ দেখে কীভাবে! এ কারণে যখনই দ্বীপ ঘোরার সুযোগ এসেছে নানা অজুহাত দেখিয়ে তা এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছি অতীতে। তা সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক দ্বীপ ভ্রমণ করেছি।

তার মধ্যে রয়েছে যেমন স্পেনের মায়োরকা, ক্যানারি আইল্যান্ডগুলো, মালয়েশিয়ার লাঙ্কভি, আমেরিকার কীওয়েস্ট, আলকাটরাজ। ফ্রান্স, ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্কের দ্বীপগুলো। এছাড়া ইংলিশ চ্যানেলের সবচেয়ে বড় চ্যানেল আইল্যান্ড জার্সি, সুইডেনের গ্যোটল্যান্ড (Gotland), ও-ল্যান্ড, লিডিং-ও ইত্যাদি দ্বীপে ঘোরার সুযোগ হয়েছে আমার।

শুধু সুইডেনে রয়েছে ২৭০ হাজার দ্বীপ। স্টকহোমের চারপাশে রয়েছে ৩৫ হাজার দ্বীপ। সব মিলে এ পর্যন্ত ঘুরেছি ১০০ দ্বীপের বেশি। তবে করোনার সময় চেষ্টা করছি সুইডেনের আরও কিছু দ্বীপ ঘুরে দেখার। আজ যে দ্বীপটির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি এ দ্বীপের নাম গ্যোটল্যান্ড।

সুইডেনের মূল অংশ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে বাল্টিক সাগরে এ দ্বীপ অবস্থিত। এটা সুইডেনের সব দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিশাল বড় জাহাজে করে স্টকহোম থেকে রওনা দিয়েছি। ৪ ঘণ্টা পর পৌঁছাবো দ্বীপের রাজধানী ভিজবিতে।

গত ১৯৯৯ সালের সামারে সেখানে গিয়েছিলাম, তারপর আর যাওয়া হয়নি। প্রতিবেশী লার্স এবং ভিভিয়ান ধরেছে কয়েক বছর ধরে তাদের সামার হাউজ গ্যোটল্যান্ডে যেন বেড়াতে যায়। সুইডিশে কথায় বলে “বেট্রে সেন্ট এন আলড্রিগ” একেবারে না আসার চেয়ে দেরি করে আসাও ভালো। গ্যোটল্যান্ড দ্বীপটির আয়তন ৩১৮৩.৭ বর্গ কিমি, লোক সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

এই দ্বীপের সঙ্গে রয়েছে আরও কয়েকটি দ্বীপ যেমন ফোরও, কার্লসোওয়ারনা, গ্যোটসকা সান্ডওন ইত্যাদি। দ্বীপগুলোর সুইডিশ নাম “ö” ইংরেজি ২৬টি অক্ষর সঙ্গে আরও ৩টি বিশেষ অক্ষর সুইডিশ ভাষায় রয়েছে যেগুলো হলো (Å, Ä এবং Ö)। অক্ষর ö নিজেই একটি শব্দ যাকে দ্বীপ বলা হয়।

এই দ্বীপে রয়েছে ৯২টি গির্জা যা সুইডেনের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি। অতীতে এই দ্বীপের নানা নাম থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষে ১২ নভেম্বর ১৯২৩ সালে এর নামকরণ করা হয় গ্যোটল্যান্ড।

ইতিহাস বলে পাথরের যুগ থেকেই এখানে জেলে এবং ব্যবসায়ীদের বসবাস। (এটা প্রায় ৯ হাজার বছর আগের কথা)। ভাইকিং-এর সময় গ্যোটল্যান্ড ছিল অত্র এলাকার মধ্যে একটি ধনী শহর। এটি এখনও ধনীদের শহর হিসেবেই বিশ্বখ্যাত হয়ে আছে।

সুইডেনের তাপমাত্রা যদি লক্ষ্য করা যায় তবে গ্যোটল্যান্ডের তাপমাত্রা সামারে সর্বোচ্চ ৩৫.৩ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেট এবং শীতে সর্বনিম্ন -৩২.৮ ডিগ্রী সেন্ট্রিগ্রেট হয়ে থাকে। সামারে গরম বিধায় সবাই সেখানে ভ্রমণ করতে পছন্দ করে।

কোভিড-১৯ এ বিশ্ব ভ্রমণ বন্ধ তাই ভাবলাম নিজ দেশের ভেতরে ভ্রমণে ক্ষতি কী? বন্ধু লার্স গোটল্যান্ডের আদি বাসিন্দা, লার্সের স্ত্রী ব্রাজিলিয়ান। লার্স কম্পিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং ম্যানেজিং ডাইরেক্টর।

বিজনেসের কারণে তার বিশ্ব এবং সেই সঙ্গে ব্রাজিল ভ্রমণ হয়েছে জীবনে অনেক। ভিভিয়ান লার্সের কোম্পানিতে চাকরি করেছে ব্রাজিলে এবং পরে সুইডেনে। মূলত তখন থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় এবং পরে পরিণয়।

ভিভিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলে মারিয়ার সঙ্গে যার কারণে আমাদের সম্পর্কটা কিছুটা ভিন্ন ধরণের। ভিভিয়ান রান্না করে ভালো, বলেছে নানা ধরণের খাবারের আয়োজন করবে। তারপর গ্যোটল্যান্ডের বন্ধু-বান্ধবীও থাকবে সেখানে। দেখা যাক আমাদের দিনগুলো কেমন কাটে।

পুরো দ্বীপ ঘুরবো এবং জানবো নানা অজানা ঘটনাকে। মনে হচ্ছে ভ্রমণের দিনগুলো মজার সঙ্গে কাটবে। স্টকহোমের সলনার পাশে বাল্টিক সাগরের পাশ দিয়ে প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি করি। সেই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে গ্যোটল্যান্ড ভ্রমণ করবো যেখানে আইল্যান্ডটি দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই বাল্টিক সাগরের মাঝে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, [email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড