• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নোনাজলে স্বপ্নবোনা

  নির্ঝর আহমেদ প্লাবন

১৪ মার্চ ২০২০, ০৮:১১
নোনাজলে স্বপ্নবোনা
সাগরে গোধূলী বেলার স্থির চিত্র

নোনাজলের আলাদা একটা খোসবু আছে, আলাদা ধরন আছে, আলাদা টান আছে যেখানে প্রাণ বাঁধা পড়ে যায়। দিল আটকে যায়। মন স্থির হয়ে যায়। হৃদয় উথলে ওঠে। পাওয়ার নেশায় মানুষ ভাষা হারিয়েও আশায় বুক বাঁধে। এখানে আসলে অনেক কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু কী পেয়েছে তা বলা যায় না। আসলে অনুভূতির চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলে মানুষ শব্দ খুঁজে পায় না। ওখানে অনাবিল আনন্দের স্রোতে ভেসে যাওয়া যায়। ওখানে অকারণ পুলকে ক্ষণিক সময়ে চিরস্থায়ী গান গাওয়া যায়। এজন্যই সৌন্দর্যপিপাসু মানুষদের বারবার যেতে হয় নোনা জলের ঘ্রাণ নিতে। এ ঘ্রাণে কেমন যেন একটা মায়াবী মোহ লেগে থাকে। এ মোহ থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। বেরিয়ে আসলে মন পোড়ে। স্মৃতি লেগে থাকে মনের খাতার পাতায়। এ স্মৃতি কখনো মোছাও যায় না। এ স্মৃতির রেশ ধরেই  মনকে সজীব করার তাগাদায় মানুষ সমুদ্রে যাবার জন্য বারংবার উৎসুক হয়। এখানে সময় দ্রুত কেটে যায়। এখানে জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। এখানে পুরাতন জীর্ণতাকে ফেলে দেয়া যায়। এখানে মনের কলুষতাকে বিষর্জন দেয়া যায়। সকল ভুল-ভ্রান্তি-মিথ্যাকে এ জলে স্নান করিয়ে শুদ্ধ করে তোলা যায়। মানুষের রেচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমুদ্রের রেচন প্রক্রিয়ার এখানেই বড় তফাৎ। মানুষ যত সুগন্ধি দ্রব্যই আহার করুক না কেন তার রেচন প্রক্রিয়া সেটাকে মারাত্মক দুর্গন্ধে রূপান্তর করে আর সমুদ্রকে যত দুর্গন্ধযুক্ত খাবারই দেয়া হোক সে তার রেচনা প্রক্রিয়ায় সেটিকে পরিবর্তন করে দারুণ ঘ্রাণে রূপান্তর করে ছড়িয়ে দেয় জলবায়ুতে। একটা সুগন্ধকে দুর্গন্ধ বানায় অন্যটা দুর্গন্ধকে সুগন্ধ। নোনা জলে এ কারণেই স্বপ্ন বোনা যায়। এটা এমন এক মোহময় স্থান যেখানে আসলে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়, মানুষ ছোট হয়ে যায় নিজের কাছে নিজে। তখন অহঙ্কার মননের খিড়কির দরজা দিয়ে লোকান্তরিত হয়। এখানে আসলে মানব জীবনকে হাতে নিয়ে দেখা যায়। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। থাকে না রাজায়-প্রজায় বিভেদ। শাসক, শোষক আর শোষিত সবাই এক কাতারে চলে আসে। নির্যাতিত আর নির্যাতনকারী সবার সঙ্গে সমুদ্র সম আচরণ করে। তাই এখান থেকেই মানবতার শিক্ষা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নেয়া যায়। এখানেই সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির পরিকল্পনা করা যায়। এই নোনাজলে আবাহন করেই নতুন স্বপ্ন বোনা যায়।  

যে যার মানস অনুযায়ী নোনাজলকে ব্যাখ্যা করতে পারে। সমুদ্রে মানুষ যায়, ক্রমাগতই যায়। আসলে যায় না, তাকে যেতে হয়। লৌকিক দাবিকে অস্বীকার করে মননের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেতে হয়। অবচেতন সত্তার টানে যেতে হয়। অজানা আহ্বানে যেতে হয়। সুদূরের হাতছানি পেয়ে যেতে হয়। সমুদ্রে যেতে হয় একাকী। অনেককে নিয়ে গেলেও একা হয়ে যেতে হয়। সামষ্টিকতা নিয়ে সমুদ্র ভোগ করা যায়, উপভোগ করা যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে ভোগের চেয়ে উপভোগ বড় হয়ে ওঠে। এখানে এসে বাংলা ব্যাকরণের চূড়ান্ত ঐশ্বর্য দেখানো যায়। ‘উপ’ উপসর্গ শুধু সংকোচন বা ছোটই করে না কখনো কখনো অর্থের প্রসারণও করে। প্রবল শীতেও মাঝে মাঝে মরা নদীতে ভরা বান আসে। এটা অনেকটা সেরকম। 

আমাদের গন্তব্য সমুদ্র। মহান রবের বাধা ছাড়া আর কেউই আমাদের এই গন্তব্য ঠেকাতে পারবে না-এ বিশ্বাস আমাদের ছিলো। কারণ আমাদের স্বপ্নবাজ অভিভাবক আছে। এই অভিভাবক শুধু বস নন তিনি একজন সফল নেতাও। এখানে একটু বস ও নেতার পার্থক্য বলে নিতে চাই। একজন বস সারাক্ষণ নির্দেশ দিতে পছন্দ করেন আর নেতা সবাইকে নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে কাজ করতে উৎসাহবোধ করেন। একজন বস ভয় দেখিয়ে কাজ আদায় করতে চান আর নেতা জয় দেখিয়ে ভালোবেসে কাজ আদায় করে নেন। বসকে দেখে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এজন্য একটি বাংলা  প্রবাদও আছে-‘ঘোড়ার পিছে এবং বসের সামনে দাঁড়াতে নেই’। নেতাকে দেখে সবাই এগিয়ে আসে, কথা বলে, নিজের মত প্রকাশ করে। বস কথা বলেন বেশি, শোনেন কম। নেতা কথা বলেন কম, শুনেন বেশি। বস অন্যের পরামর্শের ধার ধারেন না। নেতা সবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করেন। বস তার উপরের বস ছাড়া অন্যদের মনোভাবকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। নেতা তার সকল কর্মীর পরামর্শকে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন। মনোপ্লুত এবং ভালো হলে তাকে অভিবাদন জানান এবং সেটি গ্রহণ করেন। আর যদি কর্মির পরামর্শ দুর্বল হয় তাহলেও তিনি তাকে উৎসাহ প্রদান করেন যাতে পরবর্তিতে তার কাছ থেকে আরো ভালো পরামর্শ বেরিয়ে আসে। কর্মীর প্রতিভাকে শানিত করার এটাই কার্যকর পদ্ধতি। বস তার কর্মী ভুল করলে তাকে শাস্তি দিতে পছন্দ করেন এবং সবার সামনে অপমান করে ও তার ভুল তুলে ধরে লজ্জা দিয়ে মজা পান। নেতা তার কর্মী ভুল করলে তাকে গোপনে ডেকে পরামর্শ দিতে পছন্দ করেন। তার ভুল ভাঙিয়ে দিয়ে তাকে শুদ্ধ করে গড়ে তোলেন। বস একজনের ভুলের জন্য সবাইকে বকাঝকা করেন। তিনি ছাড়া অন্য সবাই অযোগ্য -এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। নেতা যে ভুল করে তাকে একাকী ডেকে ভুলটা ধরিয়ে দেন এবং সঠিকটা দেখিয়ে দেন। বস নিজের ভবিষ্যৎ দেখে, নেতা জাতির ভবিষ্যৎ দেখে। বস আইন দেখায়, কাঠামো দেখায়, নেতা স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখায়। বস সহজ কাজকে কঠিন করে সমাধা করে, নেতা কঠিন কাজকে সহজ করে তোলে। বস অধিকাংশ সময় হতাশার উদ্রেক করে, নেতা সব সময় সময় আশা জাগায়। বসের আঙুল কর্মীর দিকে তাক করা থাকে আর নেতার আঙুলে কর্মীকে ভালোবাসার  আহ্বান থাকে। বসের হাত অন্যের দিকে সহজে যায় না, নেতার হাত কর্মীকে আলিঙ্গনের জন্য সব সময় এগিয়ে থাকে। বস কর্মীর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখেন আর নেতা কর্মীকে বুকে টেনে নেন। বস নিজেকে সবজান্তা শমসের মনে করেন। মনে করেন, তিনি কখনো ভুল করতে পারেন না। নেতা নিজেকে সবার একজন মনে করেন। যা জানেন না, তা মেনে নেন এবং যে জানে, তাকে উজ্জীবিত করেন। নিজের ভুল হলে তা নেতা অকপটে স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বস ক্ষমতাকে দেখাতে উদগ্রিব আর নেতা ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণে উৎসাহি। বস নিজের ক্ষমতার পরিধি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না বিধায় মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন না। নেতা নিজের ক্ষমতার পরিধি জানেন বলে মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকেন। বসের অহঙ্কার বেশি, নেতার বিনয় বেশি। বস নিজের ব্যর্থতা কর্মীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে যোগ্য ভেবে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। নেতা কর্মীর ব্যর্থতাকে নিজের ব্যর্থতা মনে করে নিজেকে ক্ষমা করতে পারেন না। আত্মপ্রবঞ্চনার মতো আত্মবিড়ম্বনা বস অহরহ করলেও নেতা কখনোই করেন না।  বস ব্যর্থতার গ্লানি সহ্য না করে শুধু সফলতাটুকু নিতে চান। নেতা সফলতাকে কর্মীর ওপর ন্যস্ত করে ব্যর্থতার দায়ভার নিজ কাঁধে নিয়ে নেন। বসরা ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতেও কৃপণতা করেন কিন্তু ভুলের জন্য তিরস্কার করতে সময় নেন না। নেতা ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে কর্মীকে উপহার দিতে দেরি করেন না এবং ব্যর্থতাকে সফলতার চাবিকাঠি মনে করেন। বস সাধারণত স্বৈরতান্ত্রিক আর নেতা গণতান্ত্রিক। কর্মীকে কেউ অপমান করলে বস সেখান থেকে ফায়দা লুটেন। কর্মীকে কেউ অপমান করলে নেতা সেখানে রুষে উঠেন। কর্মীকে মান-ইজ্জত লুণ্ঠন করতে পারলেই বস নিজের বসগিরি ফলাতে পারেন। কর্মীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে নেতা নেতা হয়ে ওঠেন। কর্মীর দুঃখের সময় বসকে খুব একটা পাওয়া যায় না। কর্মীর দুঃখকে নেতা নিজের দুঃখ মনে করে সেখান থেকে উত্তরণের যাবতীয় চেষ্টা করেন। বস সহজে ক্ষমা করতে পারে না। নেতা শর্তবিহীন ক্ষমা করে দিতে পারে। বস দীর্ঘ সময় রাগ পুষে রাখেন। নেতা খুব দ্রুত রাগকে হটিয়ে দেন। এসব কারণেই দেখা যায় বসরা অবসরে গেলে সবাই ভুলে যায়। নেতা অবসরে গেলে সবাই তাকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে বসও নেতা হয়ে উঠতে পারেন নিজ যোগ্যতা বলে। যেসব বস নেতা হতে পারে তারা যুগ থেকে যুগান্তরে মানবের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। আমাদের যিনি বস তিনি বসগিরি অতিক্রম করে নেতা হয়ে উঠেছেন। বৃত্তান্তের প্রয়োজন অনুসারে এ ভ্রমণকাহিনীতে তাঁর নাম ও প্রসঙ্গ আসবে।

নোনাজলের ঘ্রাণ শুঁকতে হলে সমুদ্রে যেতেই হবে। বাংলাদেশে সমুদ্র মানেই বঙ্গোপসাগর। সেই বঙ্গো সাগরে পঙ্গপালের মতো মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। বাংলাদেশিরা ঐতিহ্যগতভাবেই সমুদ্রবিলাসী। নানাভাবে তারা সমুদ্রের স্বাদ আস্বাদ করতে চায়। কেউ সমুদ্রে সাঁতার কেটে, কেউ তটে বসে বা শুয়ে। কেউ জলকেলি খেলে, কেউ তটে ফুটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, হাডুডু, কাবাড়ি বা অন্যান্য খেলায় মত্ত হয়ে। কেউ বালিয়াড়িতে ভঙ্গুর শিল্পকর্ম তৈরি করে। কেউ দাঁড়িয়ে থেকে উপভোগ করে। কেউ চিৎকার-চেঁচামেচি করে, কেউবা নরম নিরব হয়ে। কেউ ঢেউ গুণে গুণে বিভ্রান্ত হয়ে। কেউ নৌকা বা জাহাজে চড়ে। কেউ প্রিয়তম বা প্রিয়তমার নাম বালিতে লিখে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে। কেউ দর্শন চিন্তা করতে করতে। কেউ এর সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে ভাবতে। কেউ স্রষ্টার সৃষ্টি রহস্য খুঁজতে খুঁজতে।

সমুদ্রকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করে হাজার হাজার মানুষ। নৌ-বিহার বাংলাদেশের প্রধানতম বিনোদনের একটি। এক সময়ে যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিলো নৌ পথ। এখনো ব্যবসার কাজে যাতায়াতের জন্য নৌ-পথই বেশি উপযোগী। আমরা কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কুমিল্লা হলো বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এক সময়ের লীলা নিকেতন। প্রাচীন কিয়ামলস্কিয়া নামক স্থান থেকে ক্রম বিবর্তনের মাধ্যমে এর নাম দাঁড়িয়েছে কুমিল্লা। কিয়ামলস্কিয়ার সীমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, শচিন দেব বর্মণ, ভাষার দাবি উত্থাপক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, কবি আল মাহমুদ, শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, শিল্পী আসিফ অকবরসহ অসংখ্য খ্যাতিমান মানুষের বিচরণক্ষেত্র এই কুমিল্লা। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল সংগ্রামে কুমিল্লা রেখেছে অভূতপূর্ব অবদান। এই সমৃদ্ধ জনপদের সুন্দরের নিকেতন কোটবাড়ি। কোটবাড়ির লালমাই পাহাড়ের লালিমাকে ধারন করে গড়ে উঠেছে শিক্ষার বিকাশতীর্থ কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। এই কলেজ থেকে আমরা যাত্রা শুরু করলাম বীরের নগরী, সুন্দরের রাজ্য, প্রকৃতির বরধন্য বীর চট্টলার উদ্দেশ্যে। 

এ যাত্রায় আমাদের বাহন এশিয়া এয়ারকনের দুটি অত্যাধুনিক এসি গাড়ি, একটি কলেজ বাস, একটি মাইক্রোবাস, একটি কার। ১০০ জন যাত্রির জন্য পাঁচটি বাহন। এটাকে ব্যয়বহুল বলা যেতেই পারে। আনন্দের জন্য শাহজাহান তাজমহল বানাতে পারলে আমরা এতটুকু খরচ করতেই পারি। শাহজাহানের মতো অর্থ ও ক্ষমতা না থাকলেও মন তো আছে। তাই সামর্থের সবটুকু দিয়ে প্রাণবন্তু অনুষ্ঠান করার জন্য সবাই একমত হলাম। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ অফিসার্স লেডিস ক্লাব এবং অফিসার্স ক্লাবের যৌথ প্রযোজনায় এ আনন্দ ভ্রমণ। রাজাদের পাইক পেয়াদা থাকতো। আমাদের আছে সহযোগিতাকারী সহযোদ্ধা দল। যারা নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে আমাদের যাত্রাকে সহজ করে তুললো। মানুষ সাধারণত খাবার নিয়ে ভ্রমণে বের হয়। সকালের নাস্তা গাড়িতেই করে আর দুপুরের খাবার প্যাকেটে নিয়ে নেয়। আমরা কোনো খাবার না নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম। এ সাহস করার শক্তি আমরা পেয়েছি, কারণ আমাদের একজন নেতা আছে। তিনি তাঁর কর্মীদের কোনোভাবেই বাসি খাবার খওয়াবেন না। সব জায়গায় আলাদাভাবে রান্নার বন্দোবস্ত করা হলো তাঁর নির্দেশনায়। 

পাঁচটি গাড়ি সকালে রওয়ানা হলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। সাক্ষী থাকলো উদীয়মান লাল সূর্য। সমুদ্রের সঙ্গে মিতালি করাই আমাদের সিদ্ধান্ত। পথের বাড়তি আনন্দটুকুও ছেড়ে দিতে চাই না আমরা। আমাদের ভেতরকার সুন্দরের লেলিহান শিখা লক লক করে জ্বলে উঠলো। অজানাকে জানা নয়, জানাকে উপভোগ করা। জানাকে উল্টেপাল্টে নতুন করে দেখার নেশা, আমাদের বিভোর করে তুললো। রাস্তায় কোনো ভিড় নেই। মাত্র একঘন্টায় আমরা পৌঁছে গেলাম ফেনী শহরের অনাবিল সৌন্দর্যের অপূর্ব নিকেতন ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে। সেখানকার সহকর্মিরা আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। দারুণ অভ্যর্থনা পেলাম আমরা। সকালের নাস্তা সেখানেই ব্যবস্থা করা হলো। অতিথেয়তায় শুধু মুগ্ধ নয় একেবারে মগ্ন হয়ে গেলাম। তারা জানে কীভাবে অতিথির মন হরণ করতে হয়। সবমিলে দেড়ঘন্টা আমরা সেখানে অবস্থান করলাম। এই দেড়ঘন্টাকে মনে হচ্ছে দেড় হাজার বছরের চেয়ে বেশি। অল্প সময়ে স্বল্প পরিসরে এত গল্প হলো যার পরিসীমা মাপা যাবে না। সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু, সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এদেরকে বর্ণনা করতে দিলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, তিন খণ্ডে তিন হাজার পৃষ্ঠা করে লিখেও তারা এ উপাখ্যান শেষ করতে পারবে না। ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে নতুন একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির নাম ‘জয়িতা’। নারীদের সামরিকবাহিনীতে উৎসাহ প্রদানের জন্য এ ভাস্কর্য। স্থপতি- মৃনাল হক। নারী শিক্ষায় ও জাগরণে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ ফেনীতে অনেক আগেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এই দেড় ঘণ্টায় এমন মধুর সম্পর্ক হয়ে গেলো আমাদের মনে হচ্ছিল যুগ যুগ ধরে আমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত। চেনা মুখ যেমন ছিলো তেমনি অচেনা মুখগুলোও মুহুর্তে চেনা হয়ে গেলো এবং আপন হয়ে উঠলো। যখন আমরা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম তখন ফেনীর সহকর্মীরা আধুনিকতার নিয়মে ঠোঁটে হাসি ফুটালেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তাদের মনের অবস্থা। হাসির অন্তরালে আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার বেদনা প্রকটিত হয়ে উঠলো। আমরাও কেমন একটা টান অনুভব করলাম। লক্ষ্যে পৌঁছার আগেই থমকে দাঁড়াতে হলো। শুধু ফেনীতেই আমরা আনন্দ ভ্রমণটি মহা আনন্দে শেষ করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু আমাদের নেতার পরিকল্পনা পরিকল্পিত। এ পরিকল্পনা সবাই ধরতে পারে না। সবাই তেমন পরিকল্পনা করতেও পারে না। 

ফেনীকে অতিক্রম করে গাড়ি ছুটলো চট্টগ্রামের পানে। দেড় ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। সেখানে কলেজ অধ্যক্ষসহ আমাদের অভিবাদন জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলো শিক্ষকদের বিশেষ একটি দল। তাদের আপ্যায়নও অসামান্য। সেখানে গিয়ে গাড়িতে চড়ার ক্লান্তি শেষ করলাম। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে চা-পান ও হালকা নাস্তা সারলাম। এরপরই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের পালা। বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ এটি। এটাকে বলা হয় ক্যাডেট কলেজের গঙ্গা। এখানে এসে সব পাপ তাপ মুছে নিতে হয়। তাদের নিজস্ব সমুদ্র সৈকত আছে। তাদের খেলার মাঠ রয়েছে অনেকগুলো। প্রত্যেকটা মাঠ এমনভাবে সাজানো যে, ওখানে গেলে যে খেলতে পারে না তারও খেলতে ইচ্ছে করবে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া কলেজের প্রত্যেকটি স্থাপনার ভেতরে। পাহাড়ের পাদদেশে হওয়ায় প্রকৃতির অপার দানে ভরপুর এ কলেজ। এখানে সন্ধ্যায় সজারু দেখা যায়। দিনে দুপুরেও হরিণ দেখা যায়। ঘাস খেতে খেতে ছেলেদের আবাসিক ভবনের পিছনে চলে আসে হরিণগুলো। রাতের বেলা বুনো শুকরের ঝাঁক নামে। নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য এ কলেজ। আকাশের দিকে তাকাতেই দেখি মাথার উপর হাজার হাজার চিল উড়ে বেড়াচ্ছে। হঠাৎই আনমনা হয়ে গেলাম। কেন জানি মনে হলো, আমার দেশের আকাশে ভিনদেশের সংস্কৃতি চিল হয়ে এভাবেই ঘুরছে আর আমার সংস্কৃৃতির আকাশকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির নষ্ট টানে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের আউল-বাউল, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদী গান। আধুনিক সভ্যতার করাল গ্রাসে অস্তিত্ব সংকটে আছে প্রাণের বাংলার চির শ্যামল প্রকৃতি। 

এরপর আমরা গেলাম পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ লেকে। এই লেকের পাড়ে গেলে কঠিন পাষাণের হৃদয়েও প্রেম জাগ্রত হবে। লেকের সবুজ পানি আর পাহাড়ের মাধুর্য আমাদেরকে স্বপ্নের জগতে নিয়ে গেলো। দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলাম। ভাবলাম এ লেক যিনি খনন করেছেন তাঁর মনের ঐশ্বর্য কতটা প্রগাঢ় এবং গভীর। সাধারণ অথচ তাকিয়ে থাকতে হয়। অনন্য কিন্তু মনে হয় সহজ। সহজ কিন্তু নির্মাণ করা কঠিন। কঠিন কিন্তু উপভোগ্য। একদিকে বকের ঝাঁক অন্যদিকে পানকৌড়ির ঝাঁক। একদিকে সাদা পালকের ভিড় অন্যদিকে কালো। এরা উভয়ে শিকারি। মাছ শিকার করছে তারা। এই মাছগুলো কলেজ পালন করে। এই সহজ দৃশ্যে যখন আমরা সবাই মাতোয়ারা তখনি অন্যরকম একটি ভবনা এসে অতলে নিয়ে গেলো। আমাদের পোষা সংস্কৃতিকে অন্যদেশের নোংরা সংস্কৃতি এভাবেই গিলে গিলে খাচ্ছে। আমাদের পারিবারিক বন্ধনকে শিথিল করে দিচ্ছে। আমাদের ভাইকে লাগিয়ে দিচ্ছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বোনকে বোনের বিরুদ্ধে। ভাই-বোনকে একে অপরের বিরুদ্ধে। স্বামীকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আর স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে। এক ধর্মের লোককে অপর ধর্মের লোকের বিরুদ্ধে। এক বিশ্বাসে বিশ্বাসীকে অপর বিশ্বাসে বিশ্বাসীর বিরুদ্ধে। কোনো একদিন আমরা ঐতিহ্য হারিয়ে ফতুর হয়ে উঠতে পারি। হঠাৎ কাঁধের উপর সহকর্মীর হাতের স্পর্শে আপন জগতে ফিরে এলাম। এসব চিন্তাকে বিদায় জানিয়ে বাস্তবের প্রকৃতি উপভোগে মত্ত হলাম। লেকের পারেই অনেকগুলো ডিঙি নৌকা (কায়াকী) আর বৈঠা। একজন বসতে পারে, দুইজন বসতে পারে, পাঁচজন বসতে পারে এমন নৌকা। সবাই ঝুঁকলো কায়াকীতে (নৌকা চালাতে)। আমিও বাদ গেলাম না। প্রথমে একজন বসতে পারে এমন ডিঙি নিয়ে লেকে ছুটলাম। ৪০ মিনিটের মতো নৌকা চালালাম। দেখলাম অন্যদের চেয়ে ভালো চালাতে পারি। সবাই স্বীকৃতি প্রদান করলো আমার চালানো ভালো হচ্ছে। কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিলাম। দেখলাম সবাই অনেক পিছনে পড়ে যাচ্ছে। আস্থা বাড়লো নিজের উপর। গা ভাসিয়ে দিলাম ডিঙিতে। ভ্রমণের সকল প্রকার আনন্দ যেন উপচে পড়তে লাগলো। ভাসতে ভাসতে ডিঙি কিনারায় এসে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেলো। হালকা ঘুম ঘুম ভাবও এসে গেলো। রবীন্দ্রনাথের বলাকা কাব্যের কথা মনে পড়লো। মনে পড়লো পদ্মা নদীতে তাঁর বিশেষ বোটে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখার কথা। আরও মনে পড়লো রাজশাহী থাকাকালে আমিও পদ্মায় নৌকা ভাসিয়ে রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখেছিলাম। তফাৎ এই শুধু রবি ঠাকুর কবিতা লিখেছে আমি শুধুই উপভোগ করেছি।

লেকের মাঝখানে গিয়ে বৈঠা ছেড়ে দিলাম। ভাসতে থাকলাম লেকে। সহকর্মীরা ছবি তুললো। মগ্নতা ছেড়ে মুগ্ধতা নিয়ে নাও ভিড়ালাম তীরে। তীরে এসেই বুঝলাম লোকজন আমাকে দক্ষ মাঝি কেন বলেছে! যারা ডিঙি বাইতে পারে না তারা এবং বাচ্চারা বসে আছে, আমি আসলেই নৌকায় চড়বে। একক ডিঙি ছেড়ে যৌথ ডিঙি ধরলাম। একজন চালক একজন যাত্রী। দশ মিনিট করে ৩ জন শিশুকে পালা করে ঘুরালাম ত্রিশ মিনিট। এরপর দেখি এক যুবক বয়সের বৃদ্ধও বসে আছে আমার প্রত্যাশায়। তাঁকেও ঘুরালাম। ঘুরানো শেষে ব্যাপক বিজয়ী ভাব নিয়ে ওপরে উঠে এলাম। দেখি ততক্ষণে লেক পারে দুপুরের খাবার প্রস্তুত। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ চমৎকার খাবার পরিবেশন করেছে। পাশেই মঞ্চ প্রস্তুত ছিলো। খাওয়া শেষে দুই কলেজের ভাব বিনিময় হলো সঙ্গে উপহার বিনিময়ও। চমৎকার বক্তব্য উপস্থাপন করলো আমাদের নেতা। কথায় চিড়ে না ভিজলেও মন যে ভেজে তা আবারো প্রমাণ হলো। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভালো- আমাদের নেতা যখন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তখন তিনি এ লেকটি খনন করেছিলেন এবং কায়াকী (ডিঙি) গুলো সংযোজন করেছিলেন। নিজ কর্মীদের আনন্দে রাখার উদ্যোগ হিসেবে এটি তিনি করেছিলেন। 

খাওয়া শেষে আমরা লেক ত্যাগ করলাম। ততক্ষণে সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিট। আমরা ছুটে গেলাম গাড়ির দিকে। লক্ষ্য মেরিন একাডেমি বোটঘাট। সেখানে আমাদের নৌ-বিহারের জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর বিশেষ জলযান ওয়েস্টান ক্রুজ। যে ক্রুজে একঘন্টা ভ্রমণ করতে হলে একজন লোককে এক হাজার টাকার টিকেট ক্রয় করতে হয়। সেই বিশাল ক্রুজটি শুধুই আমাদের মনোরঞ্জনের জন্য ভাড়া করলেন আমাদের দলপতি। তিনতলা বিশাল ক্রুজটিতে কয়েকশ লোক অনায়াসে ভ্রমণ করতে পারে। আমাদের আনন্দকে সহজ করার জন্য কলেজ বাসে করে ১২/১৩ জন কর্মচারি গিয়েছিলো। তাদের যাওয়ার অনুমতি ছিলো ফৌজদারহাট পর্যন্ত। ওখান থেকে তাদের কুমিল্লা ফিরে আসার কথা। কিন্তু আমাদের নেতা বললেন, না। ওদেরকেও আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাই। ওরা ছোট পদে চাকরি করে। এক হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে একঘন্টা নৌ-বিহার করার সামর্থ ওদের নেই। আমাদের সঙ্গে যাক। আমরা মহা আনন্দ পেলাম। মনে মনে এমনি প্রত্যাশা করছিলাম সবাই। বুঝলাম, নেতা কাকে বলে! তারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দিলো। আমরা নিজেদের আনন্দ যা পেলাম তাদের অনুভূতি দেখে সে আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের সঙ্গে সমুদ্রে যাওয়ার আগেই তাদের হৃদয় তরঙ্গের মিল খুঁজে পেলাম। বরাবর তিনটায় আমাদের গাড়ির চাকা ঘুরলো। সঙ্গে যোগ হলো ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অনুষদ সদস্য এবং অফিসারদের পরিবার। ফৌজদারহাটের বাস, তাদের মাইক্রোবাস, তাদের কারসহ এবার আমাদের গাড়ির সংখ্যা আট। আটটি গাড়ি ছুটলো পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির উদ্দেশ্যে। ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরে না উঠেই যাওয়া যায় পতেঙ্গা। ক্যাডেট কলেজের সামনে থেকে সরাসরি বাইপাস সড়ক গিয়ে মিলেছে পতেঙ্গায়। চার লেনের ব্যাপক চওড়া এ রাস্তা অপরূপ সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে যোগাযোগ মন্ত্রী বলে যে কেউ আছে তা এখানে গেলেই টের পাওয়া যায়। নোয়াখালীর লোকজন বলে, দেশে মন্ত্রী একজনই আছে। সেটারও কিছু সত্যতা উপলব্ধি করলাম। পশ্চিম পাশে সমুদ্র আর পূর্ব পাশে রাস্তা। আমাদের গাড়ি যখন পিচঢালা কালো রাজপথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন আমরা একাগ্রচিত্তে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে হচ্ছিল এটাই উজ্জয়িনীর বিজন প্রান্তে কানন ঘেরা বাড়ি। মনে হচ্ছিল কালিদাস মেঘদূত কাব্যে সুন্দরের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা এখান থেকেই নিয়েছিলেন। কখনো মনে হচ্ছিল স্বর্গের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলেছে আমাদের গাড়ি। গাড়ি দিয়ে যেতে যেতে মনে পড়ে গেলে এখানেই আমি কাটিয়ে দিয়েছি জীবনের ছয়টি বসন্ত। এটা সেই চট্টগ্রাম যেটা আমার মানসিক বিকাশের পীঠস্থান।                                     

আমার কাছে ভালোবাসার অপর নাম চট্টগ্রাম। সমৃদ্ধির শীর্ষ নাম চট্টগ্রাম। বাংলাদেশকে চিনতে গেলে আমি আগে চট্টগ্রামকেই চিনি। নদী, পাহাড়, সমুদ্র আর বিশাল ঔদার্যের নাম চট্টগ্রাম। কাছে টানা যায়, কাছে যাওয়া যায়, প্রাণভরে পাওয়া যায়, ইচ্ছেমতো উপভোগ করা যায়। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যাকে বর্ণনা করা যায়। মাঝে মাঝে তার রূপ বর্ণনায় ভাষাহীন হওয়া যায়। সময়ের পর সময় যার দিকে তাকিয়ে অতিবাহিত করা যায়। অসংখ্য নির্ঘুম রাত যেখানে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায়। হৃদয়ের ক্যানভাসে যাকে নিয়ে অনবরত ছবি আঁকা যায়। যার সৌন্দর্যের গহনে বিরামহীন অবগাহন করা যায়। যার ধ্যানে মগ্ন হওয়া যায়। যাকে নিয়ে গবেষণা করে ক্লান্ত হওয়া যায়। যাকে পেয়েও পাওয়া যায় না, আবার না পেয়েও পাওয়ার আনন্দ অনুভব করা যায়, তার নাম চট্টগ্রাম।

দেশের প্রবেশ দ্বার হওয়ায় নানা জাতির, নানা বর্ণের, নানা দেশের, নানা সংস্কৃতির মানুষ এখানে আসলেও চট্টগ্রাম তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে কঠিনভাবে ধরে রেখেছে। নানা সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়ার মধ্য থেকে চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে চিনে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। আমার প্রিয় কবি আল মাহমুদ বলেছেন, ‘আমি চট্টগ্রাম এসেছি কবিতার ভিখেরি হয়ে, আর ফিরেছি কবিতার সম্রাট হয়ে’। শুধু আল মাহমুদ নন এরকম অনেকেই চট্টগ্রাম গিয়েছেন সাধারণ মানুষ হিসেবে ফিরেছেন অনন্য মানুষ হিসেবে। সৈয়দ আলী আহসান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আনিসুজ্জামান, রাজিব হুমায়ুনসহ এমন অসংখ্য মনীষীর নাম নেয়া যায়। আমার কেন জানি মনে হয় চট্টগ্রাম হলো আত্মবিকাশের তীর্থভূমি। এখানে সামুদ্রিক জলবায়ুতে মিশে থাকা আয়োড়িন মানুষের কাণ্ডজ্ঞান ও সুপ্তশক্তির ব্যাপ্তি ঘটায়। সত্যিই চট্টগ্রাম ভিখেরিকে রাজা বানায়। কবিতার সমুদ্রে সাঁতার কাটার জন্য চট্টগ্রাম গিয়েছি। ময়ুখ চৌধুরীর সুবাদে কাব্যসমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে পথ হারিয়েছি। পথহারা হয়ে পৃথিবীর দিক থেকে দিগন্তরে ঘুরছি। জীবনানন্দ যেমন বনলতার কাছে শান্তি পেয়েছেন, সবশেষে অন্ধকারে বনলতার মুখোমুখি বসেছেন, আমার মনে হচ্ছে- এসব কিছু আমার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে ঘটেছে, ঘটছে এবং ঘটবে। চট্টগ্রামে ৬ বছরের অবস্থান টাইমফ্লাওয়ারের মতো ফুরিয়ে গেছে। টেরই পাইনি সময়ের বহমানতা।

এখানকার মানুষরা অনন্য ভালোবাসার চিহ্ন বহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। নিজেদের মধ্যকার বন্ধনকে তারা অটুট রেখেছে শত ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও। তারা সমুদ্রের চেয়েও উদার, পাহাড়ের চেয়েও শিখরস্পর্শী তাদের মানসিক উচ্চতা। তারা অতিথি পরায়ন। তারা যেমন জায়গা করে দিতে পারে অন্যকে তেমনি নিজের জায়গাও তৈরি করে নিতে পারে। তারা জানে প্রতিভাকে কী করে লালন করতে হয়। তারা জানে দেশের সম্পদকে কীভাবে রক্ষা করতে হয়। বঙ্গোপসাগরের উন্মাতাল ঢেউয়ের মতো তারা মানবের উপকারে মত্ত। তাদের অন্তর্গত চৈতন্যে মানবিকতা সুষমভাবে বাস করে। যে মাটির এত খসবু, যে মাটির এত গুণ, যে মাটিতে জন্ম নিয়েছে বিপ্লবের আগুন। সে মাটিকে স্পর্শ করতে এসেছি। সে মাটি গায়ে মাখতে এসেছি। এসেছি সে মাটির উর্বরতায় পুনরায় নিজেকে জড়াতে। আগের মতো পরম মমতায় রিক্ত হৃদয় সিক্ত করতে এসেছি এখানে। স্যালুট আমার আত্মবোধের আত্মিকভূমিকে।

এসব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত বন্দরে। মেরিন একাডেমির বোটঘাটে। সেখানকার উর্ধ্বতন লোকজন আমাদের অভ্যর্থনা জানালো। প্রথমে আমাদের নেতা নামলেন তাঁর কার থেকে। তারপর উপাধ্যক্ষ স্যার। আমি আর উপাধ্যক্ষ স্যার ছিলাম মাইক্রোবাসে। উপাধ্যক্ষ স্যারের পিছু পিছু আমিও নেমে দাঁড়ালাম। নেতা, আমাকে ডাকলেন। ডেকে বললেন, বাইর থেকে ভাড়া করা গাড়ির যেসব ড্রাইভার, সুপারভাইজার এবং হেল্পার এসেছে তাদেরকেও বোটে চড়ার সুযোগ করে দিন। আমার ভালোবাসার আকাশ সমুদ্রে মিশে গেলো। আমি বুঝলাম মানবিক বোধের উন্মেষ কীভাবে ঘটে! একের পর এক চমক আমাকে আপ্লুত করতে থাকে। আমি সেই ব্যবস্থা করলাম। তাদের আনন্দ এখনো চোখে মুখে ভাসছে। এটা যে তাদের কাছে এত বড় পাওনা হয়ে ধরা দেবে তা আমি কল্প জগতের গল্পেও ভাবতে পারিনি। কিন্তু একটু দুঃখ মনে বেদনার ঝড় তুলছে। একজন ড্রাইভার উঠতে পারেননি। তিনি ক্রজে উঠেছিলেন। ছাড়তে দেরি হচ্ছে দেখে ক্রুজ থেকে নেমে ঘাটের পাটাতনে দাঁড়ালেন। উনি পাটাতনে দাঁড়ানের ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে ক্রুজটি ঘাটে বাঁধা দড়ি সরিয়ে নিলো এবং ঘাট থেকে আলগা হয়ে গেলো। ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে অসহায় হাসি দিলেন। আমিও বোকা হয়ে গেলাম। অনুভব করলাম সময় আর স্রোতের সেই পুরাতন প্রবাদের মাহাত্ম।  

ওয়েস্টার্ন ক্রুজ যাত্রা শুরু করলো কর্ণফুলি নদী থেকে সমুদ্রের উদ্দেশ্যে। কর্ণফুলিতে কার কানের ফুল ঝরে পড়েছিলো তা নিয়ে ইতিহাসবেত্তারা ব্যাকুল হোক। প্রত্নতত্ত্ববিদরা গবেষণা করুক। আমরা শুধু তার সৌন্দর্যে আকুল হবো। নদীর বাঁকে বাঁকে রূপ। কর্ণফুলি টানেল যেখান দিয়ে হচ্ছে তার ওপর দিয়ে আমাদের ক্রুজ এগিয়ে চলেছে। খুব কম শব্দ করছে ক্রজটি। অসাধারণ একটি ক্রুজ। কানের ওপর কোনো যন্ত্রণা না দিয়েই আপন বেগে ছুটে চলছে। ছোট-বড় সাম্পান, সাধারণ নৌকা, স্পিড বোর্ড, বড় বড় জাহাজ নদীতে। কোনোটা নোঙর করা, কোনোটা ধীরে চলছে। সবকিছু পাশ কাটিয়ে আমাদের ক্রুজ চলেছে। ওপারে আনোয়ারা থানা। যেখানে দেশের ইউরিয়া সার কারখানা সিউএফএল এবং কাফকো। তাদের জেটি গুলোও দৃষ্টিনন্দন। ধীরে ধীরে আমরা কর্ণফুলি নদী অতিক্রম করলাম। দু ধারে গাছের সারি আর জাহাজ তৈরি ও মেরামতের কারখানা। হঠাৎ আমাদের ক্রুজ সমুদ্রে এসে পড়লো। দেখলাম পানির রং বদলে গেছে। ঢেউয়ের ধরণ বদলে গেছে। মনে পড়লো সুরা আর রাহমনের কথা। সেখানে মহান রব বলেছেন, ‘আমি দুটো দরিয়াকে একসঙ্গে বহমান করেছি। তারা পাশাপাশি বয়ে যায় কিন্তু একে অপরকে ভেদ করে না। বিস্ময়ে বিমুঢ় হয়ে গেলোম। তাঁর সকল কুদরতের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসল।  

সমুদ্রে গেলে আমি সব সময় সমুদ্রকে দুটো কবিতা শুনিয়ে আসি। একটি হলো ফররুখ আহমদের ‘সাত সাগরের মাঝি’ অপরটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সিন্ধু’। কিন্তু এবার সে সুযোগ পেলাম না। দীর্ঘ এক বছর সমুদ্রকে এ দুটি কবিতা শোনাতে পারিনি। এ জ্বালা আরও দীর্ঘদিন আমার মননকে আঘাত করবে। সমুদ্রকে একাকী অনুভব করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এদিকে তিন তলা ওয়েস্টার্ন ক্রুজের মূল হলরুমে চলছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাদু প্রদর্শনী। গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে সমুদ্র দেখছে কেউ কেউ। কেউ অনুষ্ঠান দেখায় মত্ত। কেউ সেলফি। কেউ দলবদ্ধ ছবি তুলছে। ক্রুজেই আমরা সেরে নিলাম বৈকালিক নাস্তা। সমুদ্রকে একাকী উপভোগ করতে না পারায় আমি আমার উপভোগের পদ্ধতি বদলে নিলাম। কে কি করছে সমুদ্র নিয়ে তা ভাবতে থাকলাম। সবার উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সমুদ্র কল্লোলের মিল খুঁজতে লাগলাম। তারপর অন্য এক পৃথিবী আবিষ্কার করলাম। যে পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি আমি। যে পৃথিবীতে শৈল্পিক ইন্দ্রজালে আচ্ছন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো স্থান হবে না। যেটা আমাকে অন্য দিগন্তে নিয়ে গেছে। 

সমুদ্রে পৌঁছে দেখি হাজার হাজার দেশি-বিদেশি জাহাজ। রঙ-বেরংয়ের জাহাজ। কোনোটা তেলের। কোনোটা যাতায়াতের। কোনোটা পণ্য বহনের। কোনোটা যুদ্ধের। তারই পাশে জেলেরা মাছ ধরছে। কেউ কেউ বিনোদনে নেমেছে। কিছুদূর গিয়ে পারকি সমুদ্র সৈকত দেখতে পেলাম। একেবারে প্রাকৃতিক সৈকত। যেখানে কৃত্তিমতার ছোঁয়া খুব কম। পতেঙ্গা সৈকতের অদূরেই সমুদ্রের চর দেখলাম। যে চরে সংসপ্তক সিনেমার একটি অংশের দৃশ্যায়ন করা হয়েছিলো। আমরা গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করলাম। আমাদের ক্রুজের গতি বাড়তে থাকলো। আমরা প্রথমে একঘন্টার জন্য ক্রুজটি ভাড়া করেছিলাম। এ ক্রজের এক ঘন্টার ভাড়া ৪০ হাজার টাকা। আমি ভ্রমণের দুদিন আগে আমাদের নেতাকে বললাম, স্যার একঘন্টা সমুদ্র ভ্রমণ কম হয়ে যায়। দুঘন্টা করা যায় কীনা? উনি বললেন, দেখি। আমি জানতাম উনি দেখেই ছাড়বেন। ক্রুজে ভ্রমণ শেষ হওয়া পর্যন্ত উনার সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ক্রজে উঠে দেখি ২ ঘন্টা নয় আড়াই ঘন্টা ভ্রমণ করলাম আমরা।  

এবার এ ফাঁকে আমাদের নেতার একটু পরিচয় পাঠকদের দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। জগতে কিছু মানুষ আছে এদেরকে ধন্যবাদ দেয়া যায় না, অভিবাদন জানানো যায় না। এদেরকে কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা যায় না। এদেরকে ভালোবাসা যায়। শুধুই ভালোবাসা যায়। তবে এদের বুঝতে দেয়া যায় না। এদের জন্য মানুষের মন কাঁদে। এদের জন্য মানুষ দিবস-রজনী জেগে কাজ করতে পারে। এরা ভুলকে লালন পালন না করে ভুল থেকে ফুল ফোটায়। এরা জানে মানুষ ভুল করতে পারে। এদের ক্ষমার দরজা এত বড় যে কেউ ভুল করলে সেটা বড্ড ছোট হয়ে যায়। এরা জানে মানুষের অন্তর্গত রূপের রহস্য। এদেরকেই বোধহয় মানুষ বলে। যাইহোক অনেক ন্যাকামি হলো। এবার উনার নামটা বলি। উনার নাম রেজা। কর্নেল রেজাউল হাসান। তিনি কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ। সামরিক মননেও যে সাম্যবাদের বীজ রোপিত থাকতে পারে, তিনি তার জাজ্বল্য দৃষ্টান্ত।  

সমুদ্র ভ্রমণ শেষ হলো। আত্মা অতৃপ্তই থাকলো। সমুদ্রকে দেখে কখনো তৃপ্তি মেটানো যায় না। যে সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তিনি যখন বৃষ্টি দেন তখন কৃষক খুশি হয় আবার বৃষ্টি বিলাসী মানুষের প্রেমও গাঢ় হয়ে ওঠে তারা মহা আনন্দিত হন কিন্তু যিনি ফুটপাতে বাস করেন তিনি অখুশি হন। যার মাথার ওপর ছাদ নেই সে অখুশি হয়। স্রষ্টা যখন তার সৃষ্টিকে খুশি করতে পারছে না তখন স্রষ্টারই এক সৃষ্টি কর্নেল রেজা কী করে সবাইকে খুশি করবে- এ যুক্তি মাথায় নিয়ে নেতাকে স্যালুট জানিয়ে আমরা সমুদ্র থেকে স্থলে নেমে আসলাম। স্থলে স্থলাভিষিক্ত হয়েই রাতের খাবারের জন্য প্রস্তুতি চললো। সবাই গাড়িতে উঠলাম। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সকল সহকর্মীকে বিদায় জানালাম। সাধারণত এমন মিলন ক্যাডেট কলেজে অসম্ভব। দুটো কলেজ এক হয়ে নৌ-বিহার করা। আমাদের মিলনের আনন্দে ভাটা পড়লো। কিন্তু যাদের হৃদয়ে জোয়ার অহরহ বহমান তারা আবারো জোয়ার আনতে পারে। আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করলো হোটেল হিলভিউ এর উদ্দেশ্যে। সেখানে চাইনিজ খাওয়ার প্রস্তুত। ভাটিয়ারি দিয়ে যখন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যাচ্ছি তখন পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে যে সৌন্দর্য তা আমাদের ভ্রমণকে সুখময় করে তুললো। আফগানিস্তানের খাইবর গিরিপথের দৃশ্য মাথায় আসলো। সন্ধ্যা তখন সাড়ে সাতটা। আমরা এগিয়ে চলছি। এ পাহাড়ের বাঁকে রয়েছে চিত্রময় ফয়েজ লেক। এখানে আছে সানসেট পয়েন্ট। শুধু সমুদ্রের সূর্যাস্ত নয় দুপাহাড়ের বাঁকের সূর্যাস্তও অসম্ভব সুন্দর। ক্ষেত্রবিশেষে পাহাড়ের বাঁকে সূর্যাস্তই বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে। আমরা সানসেট পয়েন্টে এসে সূর্যাস্ত না দেখে দেখলাম চন্দ্রোদয়। তখন মনে হয়েছিলো স্থানটির নাম পরিবর্তন করে ফেলি। সূর্যাস্তের চেয়ে চন্দ্রোদয়ই বেশি সুন্দর। একটা আলো-আঁধারির খেলা বিরাজ করছিলো সেখানে। চর্যাপদের ভাষার কথা স্মৃতিতে উঁকি দিলো। কিসের মধ্যে যে কী চলে আসে চিন্তায়, তা বুঝাই মুশকিল। এটাকেই বোধহয় রবিঠাকুর জীবনদেবতা বলেছিলেন। আমার জীবন দেবতা আমাকে কোনো বিন্দুতে স্থির হতে দেয় না। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। এক চিন্তা থেকে অন্য চিন্তায়। 

চন্দ্রালোকে স্নান করতে করতে আমরা পৌঁছে গেলাম হোটেল হিলভিউতে। প্রকৃতির সঙ্গে কৃত্তিমতার অপূর্ব সংযোজন। একদিকে পাহাড়ি অরণ্য ও পাহাড়ি লেক। এরই মধ্যে পাখির অভয়ারণ্য। পানির উপরে শোভা বর্ধন করছে মূল হলঘর। সেই ঘরটিই আমরা ভাড়া নিয়েছিলাম। এখানে চললো বাংলা ঢংয়ে চাইনিজ খাওয়ার উৎসব। সবাই পুলকিত। পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে তোলা টংঘরগুলো সুন্দরের আকরিক হয়ে উঠেছে। আসতে মন চাচ্ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা পেরে উঠছিলাম না। সময়ে সঙ্গে সবাই পরাজয় বরণ করে। আমরাও করলাম। 

এমন আরেকটি ভ্রমণ করতে চাই। সে ভ্রমণ যদি করতে পারি নারিকেল জিঞ্জিরায় তবে পিঞ্জিরায় সঞ্জিভূত সকল হতাশা, ক্লান্তি বেদনাকে ধুইয়ে শুদ্ধ করে নেবো। আবারো নোনাজলে স্বপ্ন বুনবো। সেদিনও যেনো এ নেতাকে সঙ্গে পাই। রাত নটা বেজে গেলো। আমাদের গাড়ি ছুটলে কুমিল্লার পানে। রাত বারোটায় আপন নিড়ে ফিরলাম। আবারো লালমাই পাহাড়ের লালিমায় নিজেকে রাঙিয়ে নিলাম।

ওডি/এএস     

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড