• শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘বুয়েট ব্লু’ স্নিগ্ধের অজানা গল্প

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৯
স্নিগ্ধ
প্রজন্মের তারকা মির্জা তাওসীফ শরীফ (ছবি : সংগৃহীত)

ব্যর্থতার ছাই থেকে সাফল্যের প্রাসাদ গড়ে ওঠে এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে। নতুন চিন্তা, দক্ষতা, মেধা আর উদ্যমই পৌঁছে দেয় সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে। তেমনি ভাবে জীবনকে তিল তিল করে গড়ে তুলতে পেড়েছেন এই প্রজন্মের তারকা মির্জা তাওসীফ শরীফ।

সব সময় নিজেকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করা মানুষটি আড়ালে রাখতে পারেননি তার প্রতিভা। যেখানেই হাত দিয়েছেন পেয়েছেন সফলতা। লেখাপড়া, সংস্কৃতি, খেলাধুলা থেকে গণিত প্রতিযোগিতা সবখানেই পেয়েছেন সফলতা। পরিবার-পরিজনের কাছে যদিও তিনি স্নিগ্ধ নামে পরিচিত। নিজের ব্যক্তিত্বকে সবার মাঝে থেকে একটু অন্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ময়মনসিংহে বেড়ে ওঠা এই এই তরুণ। বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।

শখের বশেই বাবার হাত ধরে গণিতের দুনিয়ায় তার পথচলা শুরু হয়। কিন্তু কে জানত সেই শখই তাকে নিয়ে যাবে গণিত অলিম্পিয়াডের মতন অঙ্গনে। ২০০৫ থেকে শুরু হয় তার এই অঙ্গনের যাত্রা।

চেষ্টা যে মানুষকে কতদূর নিতে পারে তার দূর্দান্ত উদাহরণ হয়তো হতে পারেন এই তরুণ। সব সফলতা কী স্নিগ্ধর জন্য- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারার নামই আমার কাছে সফলতা। গণিত অলিম্পিয়াডের যাত্রা শুরুর গল্পটি যেমন বলছিলেন প্রখর প্রতিভাসম্পন্ন এই তরুণ।

স্নিগ্ধ বলেন, বাবা গণিতের শিক্ষক ছিলেন। ছোটবেলায় যখন বাবা অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তখন খুব জ্বালাতাম। তাই বাবা ছোট ছোট গণিতের সমস্যা দিয়ে আমাকে এবং আমার ভাইকে বসিয়ে দিতেন। এভাবেই শুরু হয় গণিতের প্রতি ভালোবাসা। ২০০৫-এ যখন প্রথম গণিত অলিম্পিয়াডের মত জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়। তখন হাজারো অপরিচিত মানুষের মধ্য থেকে সৌভাগ্যক্রমে সব্বোর্চ নম্বর পাওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারি তখন থেকেই কয়েক বার সরু লাইনের মাঝে দৌড়ে গিয়ে স্টেজে উঠে লাল ফিতার মেডেলটি গলায় ঝুলানোর আকাঙ্খা আরও তীব্র হতে থাকে।

তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই সাফল্যের যাত্রা। যার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে ২০১০ সাল পর্যন্ত।

সংস্কৃতিপাড়ার প্রতিভা সম্পর্কে স্নিগ্ধ বলেন, নতুন কুঁড়ির মধ্য দিয়ে সংস্কৃতিপাড়ায় পথ চলা শুরু হয় আমার। এর পরে শাপলা কুঁড়ি, পদ্ম কুঁড়ি, জাতীয় শিশু-কিশোর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গান, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তব্য, দেশাত্ববোধক গান, গজল, কোরআন তেলাওয়াত, পল্লীগীতি সবকিছু করেছি। পেয়েছি সফলতারও পুরস্কার।

এতো সফলতার মধ্যেও শিক্ষা আর ক্রীড়াক্ষেত্রও। খেলাধুলায় ক্যারাম, টেবিল টেনিসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও পেয়েছেন সফলতা।

খেলাধুলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ শহরে আমার বেড়ে ওঠা। খেলাধুলায় আগ্রহ দেওয়ার মত তেমন কেউ ছিল না। ক্লাসের প্রথম সারির ছাত্র হিসেবে সবার ধারণা থাকতো আমিও হয়তো একদম ফিটফাট হয়ে ক্লাস করব। কিন্তু ক্লাসের টিফিনের সময়ই ছিল এক মাত্র অনুশীলনের সময়। আধা ঘণ্টার সময়টুকুকে এক মিনিটও মিস করতাম না। তাই সবার এক্সপেক্টেশন রক্ষা করাও একটু মুশকিল ছিল। কেননা ৩০ মিনিট অনুশীলনের পর নিজেকে ফিটফাট রাখাটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে যেত। তবু চেষ্টা করেছি। আর এভাবেই হয়ে গেল। অনুশীলন আর অধ্যাবসাই এগিয়ে নিয়ে গেছে স্নিগ্ধকে।

সাফল্যের ঝুঁড়ি বলতে স্নিগ্ধ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি গেমস। টেবিল টেনিস খেলে ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে ব্রোঞ্জ মেডেল। এর পর টানা ২০১৫-২০১৮ পর্যন্ত সিলভার মেডেল অর্জনের রেকর্ড। সাফল্যের গল্পটা এখানেই শেষ নয়, টেবিল টেনিসের সঙ্গে দাবা আর ক্যারামেও আছে তার সৌভাগ্যের মুকুট। জাতীয় পর্যায়ে ক্যারামে তিনি ২০১৫-তে অর্জন করেন ব্রোঞ্জ মেডেল। তারপর থেকে ২০১৬ –২০১৮ পর্যন্ত গোল্ড ম্যাডেলের অর্জন তো আছেই।

এত সব সাফল্যের মাঝে আরেকটি অনবদ্য সাফল্য হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চও মাতিয়ে এসেছেন। ২০১৯ (ইরানিয়ান জিয়োম্যট্রি অলিম্পিয়াড) ৫৩ টি দেশের মাঝে ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়ে ওয়ার্ল্ড র‌্যাকিংয়ে নিজ ক্যাটাগরিতে হয়েছিলেন ১২তম।

স্কুলজীবন থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত প্রতিটি দিন ছিল স্নিগ্ধর জন্য এক একটি চ্যালেঞ্জ। ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে বর্ষ সেরা ছাত্রের মেডেলটিও তার হাত ছাড়া হয়নি। নটরডেম থেকে কলেজ জীবন শেষ করেন তিনি। বুয়েট স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এই দুর্দান্ত তরুণ। এমনকি আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নগুলোর মাঝেও হাতছাড়া হয়নি ‘বুয়েট ব্লু’ উপাধিটিও।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে স্নিগ্ধ বলেন, এখন আমাদের প্রজন্মের সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ঝোঁকটা কমিয়ে নিজের উপর ফোকাস করাটা খুব বেশি জরুরি। ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে নিজের ক্যারিয়ার এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই আসবে সফলতা।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার তিন ভাই। এর মধ্যে আমি ও মুগ্ধ জমজ ভাই। আমার মত আমার ভাইও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সফলতা দেখিয়েছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মিডিয়াপাড়ায় কিছু একটা করার। ভবিষ্যতে স্নিগ্ধ ও মুগ্ধ জুটিকে দেখতে পাবে দর্শকরা। গানের জগতে দুই জমজ ভাইয়ের নয়া জুটির মাধ্যমে নতুনত্বের স্বাদ পাবেন বলে আশা করছি।

ওডি/এমআই

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড