• শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে করণীয়

  লাইফস্টাইল ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৫০
বুলবুল
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উত্তাল সাগর (ছবি : সংগৃহীত) 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদরা বলছে, শনিবার (৯ নভেম্বর) মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রাখাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে যা যা করণীয় তা জেনে রাখুন-

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে করণীয় :

১. প্রথমে ঘর মজবুত আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। ঘরের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করার মতো করে ঘরকে মজবুত করার চেষ্টা করুন। অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে চাইলে মাটিতে খুঁটি পুঁতে ঘরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতে পারেন।

২. সরকারি-বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। দরকার হলে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিন।

৩. দুর্যোগের সময় কোন এলাকার মানুষ কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন।

৪. জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সবসময় আবহাওয়া বার্তা শোনার চেষ্টা করুন। আপনার এলাকার জন্য কী নির্দেশনা রয়েছে তা পালন করতে চেষ্টা করুন।

৫. আবহাওয়া অফিস থেকে বিপদ সংকেত পাওয়া মাত্রই বাড়িতে থাকা নারী, শিশু এবং বয়স্কদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে যান। কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না।

৬. বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাওয়ার আগে বাড়ির আগুনের উৎসগুলো নিয়ে সতর্ক হোন। আগুন নিভিয়ে বাড়ি ছাড়ুন।

৭. মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখুন। প্রয়োজনীয় নম্বর সংরক্ষণ করুন। যেমন- ৯৯৯। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের কাছে সাহায্য চান।

৮. অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস রয়েছে সেগুলো পানি নিরোধক পাত্র বা পলিথিনে ভরে মাটির গর্তে পুঁতে রাখুন। বাড়িতে থাকা চাল, ডাল, দিয়াশলাই, চিনি, ফিটকিরি এবং নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিস সবকিছুই এভাবে সংরক্ষণ করুন।

৯. গবাদিপশুকে উঁচু কোনো স্থান যেমন- বাঁধ বা মাটির কিল্লায় রেখে আসুন। গবাদি পশুকে কোনোভাবেই গোয়াল ঘরে বা অরক্ষিত স্থানে রাখবেন না।

১০. টাকা পয়সা, জরুরি কাগজ, দলিলপত্র ভালো করে পলিথিনে মুড়িয়ে নিজের সঙ্গে রাখুন। অথবা নিরাপদ থাকবে এমন স্থানে সংরক্ষণ করুন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের জানিয়ে রাখুন।

১১.  টিউবওয়েল বা নলকূপের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে সেজন্য নলকূপের মাথা খুলে আলাদা সংরক্ষণ করুন এবং নলকূপের নিচের অংশটি এমনভাবে পলিথিন দিয়ে বেঁধে ফেলুন যাতে কোনোভাবেই ভেতরে পানি প্রবেশ করতে না পারে।

১২. যদি সম্ভব হয় তাহলে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখুন।

১৩. ডায়রিয়া মহামারির প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদের ডায়রিয়া হলে কীভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন।

১৪. ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেলে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট জাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।

১৫. ময়লা পানি কীভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সেই বিষয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিন।

১৬. ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়। সবারই জানা বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। তাই বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে যা করণীয় :

ঘূর্ণিঝড়ের পর করণীয় কাজের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তাই এই সময় বেশি তৎপর থাকতে হয়।

১. ঘূর্ণিঝড়ে রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন। যাতে তাড়াতাড়ি সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্ভব হয়।

২. আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন। প্রয়োজন পড়লে নিজের বাড়ি বা গ্রামে তাদের আশ্রয় দিন।

৩. ছোট ছোট দল গঠন করে নিজেরাই কাজে লেগে যান। ফলে কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশি কাজ করা সম্ভব হবে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমানো যাবে।

৪. বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য যত দ্রুত সম্ভব দলগতভাবে এগিয়ে আসুন। বিশেষ করে পুকুর, খাল, নদী, সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলের মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করুন।

৫. ত্রাণের আশায় না থেকে নিজেরাই কাজে নেমে পড়ুন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে চেষ্টা করুন। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে রিলিফের কারণে কেউ যেন কর্মবিমুখ না হয়ে পড়ে। তাদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করুন।

৬. পানি খাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। পুকুর বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরেও খেতে পারেন।

৭. ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকখানিই কাটিয়ে উঠতে পারবেন যদি নিজেদের মধ্যে কাজের স্পৃহা ধরে রেখে কাজ করেন।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড