• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর সংকট নিরসন চায় চীন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৬
কাশ্মীর
কাশ্মীরের সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন। (ছবিসূত্র : কাশ্মীর টাইমস)

ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে গোটা দেশে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এবার এক শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকটটির সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’র বরাতে পাক গণমাধ্যম ‘দ্য ডন’ জানায়, বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চীন সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চীনা প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।

বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি অধিকৃত কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে পাক সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেব।’

সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে চীন-পাকিস্তানের বর্তমান সম্পর্কের স্মরণ করায় জিনপিং পাক প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ দিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে চীনা প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান। তিনি বলেছেন, ‘কঠিন এক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিকে উৎরে আসার ক্ষেত্রে চীন সরকারের সহযোগিতার কথা পাকিস্তান কোনোদিন ভুলবে না।’

চীনা প্রেসিডেন্ট ও পাক প্রধানমন্ত্রী

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। (ছবিসূত্র : সিনহুয়া)

ইমরান খান আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কখনই এমন কিছু করেনি চীন। তাছাড়া ইসলামাবাদকে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই বারংবার সাহায্য করেছে বেইজিং।

অপর দিকে সংশ্লিষ্টদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ১১-১২ অক্টোবর ভারতের চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে অংশ নেবেন। এ সময় তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কাশ্মীরসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

যদিও নয়াদিল্লি থেকে অনেক আগেই ইস্যুটি সম্পূর্ণই ভারতের নিজস্ব একটি বিষয় বলে দাবি করা হয়েছে। তাই এবার হয়তো চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি নিয়ে কথা নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

আরও পড়ুন :- কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করল ভারত

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান ও এশিয়ার পরাশক্তি চীন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড