• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম পদক্ষেপের পথে যুক্তরাষ্ট্র

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:৫০
কাশ্মীর সীমান্তে টহল
কাশ্মীরের সড়কে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। (ছবিসূত্র : সিএনএন)

ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে গোটা দেশে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এবার ইস্যুটি নিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম কোনো সংসদীয় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যার অংশ হিসেবে কাশ্মীরের ‘মানবিক সংকট’ অবসানের আবেদন একটি সংসদীয় প্রতিবেদন যুক্ত করেছেন মার্কিন সিনেট প্যানেলের আইনপ্রণেতারা।

কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন বার্ষিক ফরেন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস অ্যাক্ট-২০২০ কে কেন্দ্র করে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি তাদের প্রতিবেদনে কাশ্মীরের ‘মানবিক সংকট’ অবসানের আহ্বান যুক্ত করেছে। যার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভন হোলেন এই সংশোধনী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন।

গণমাধ্যমের দাবি, চলতি সপ্তাহে হোলেন কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নয়াদিল্লি সফর করেন। যেখানে মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যসহ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি নিয়েও আলোচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রিপাবলিকান নেতা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচারী হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এদিন প্রতিবেদনটি মার্কিন সিনেটে উত্তাপন করেন।

যেখানে বলা হয়, ‘কমিটি অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কাশ্মীরের বর্তমান মানবিক সংকটের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাছাড়া উপত্যকাটির টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু, অবরুদ্ধ অবস্থা এবং কারফিউ প্রত্যাহারসহ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর আটক বন্দিদের মুক্তি দিতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভন হোলেন

মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভন হোলেন। (ছবিসূত্র : দ্য হিন্দু)

কেননা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। হাউস্টনে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে দুজনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কয়েকদিন পর এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

মার্কিন সিনেটর ক্রিস হোলেন ‘দ্য হিন্দু’কে বলেন, ‘গত ২৬ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদন মূলত দ্বি-দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সিনেটের গভীর উদ্বেগের প্রকাশ এবং সেখানকার পরিস্থিতিকে যে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি সেই বার্তাটি দেওয়া হয়েছে।’

ক্রিস হোলেন আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে আশাবাদী ছিলাম। যদিও তখন শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে আর দেখা হয়ে উঠেনি।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান।

আরও পড়ুন :- ভারতকে স্বৈরতন্ত্রের পথে নেওয়া হচ্ছে, মোদীকে রাহুলের কটাক্ষ

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড