• বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

আজাদ কাশ্মীরে পুলিশি অভিযানে ২২ স্বাধীনতাকামী গ্রেফতার

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৫
কাশ্মীরে বিক্ষোভ
আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভরত জনতা। (ছবিসূত্র : কাশ্মীর টাইমস)

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২২ স্বাধীনতাকামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও বেশ কিছুদিন যাবত আন্দোলনরত সংগঠনটির দাবি, সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করার সময় অন্তত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে পাক পুলিশের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ানোর কারণেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

বিশ্লেষকদের দাবি, ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে পরবর্তীতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান যখন  ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছে ঠিক তখনই দেশটির আজাদ কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হলো। 

কর্তৃপক্ষের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম 'আল-জাজিরা' জানায়, আন্দোলনকারীরা জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) সদস্য। গোষ্ঠীটি মূলত পাক-ভারত মধ্যকার উভয় কাশ্মীরেরই স্বাধীনতার দাবিতে কাজ করে যাচ্ছে। 

গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) আজাদ কাশ্মীরের তাত্রিনোট অঞ্চলে জেকেএলএফ তাদের আন্দোলন শুরু করে। গোষ্ঠীটির দাবি, ভারত সরকার যেন কাশ্মীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা তোকির গিলানি বলেছেন, 'কাশ্মীর উপত্যকা থেকে দুই দেশই যেন অবিলম্বে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। যে কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।'

তিনি বলেন, 'আমাদের এই অবস্থান ধর্মঘটের প্রধান দাবি হচ্ছে- গত ৩৫ দিন যাবত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান নিপীড়নের অবসান ঘটানো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।'

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরবর্তী তাত্রিনোট গ্রামের কাছে সংঘর্ষটি ঘটে। এলাকাটি মূলত ভারত-পাকিস্তান মধ্যকার নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছে অবস্থিত। 

এ দিকে তাত্রিনোটের পুলিশ প্রধান তাহির মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, 'শনিবার আন্দোলনকারীরা নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।' 

তার মতে, 'আমরা তাদের জন্য একটি নিরাপদ পথ তৈরি করে দিয়েছিলাম। এর পরও তারা সম্পূর্ণ বিপজ্জনক এলাকার দিকে যাচ্ছিল; যেখানে গেলে ভারতীয় বাহিনী তাদের দিকে গুলি ছুঁড়তে পারত। তবে এ সময় ভারত থেকে আমাদের এলাকায় গুলি চালানো হয়। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি এতে প্রাণ হারাক।'

অপর দিকে জেকেএলএফ নেতা গিলানি বলেন, 'আমাদের ৪০ জনেরও বেশি সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া চলমান আন্দোলন থামানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।'

এর আগে গত ৫ আগস্ট দিল্লি সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল। মূলত ক্ষমতাসীন মোদী সরকারের এমন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

যদিও এর পর থেকেই সেখানে ব্যাপক জনরোষের উদ্রেগ ঘটে। প্রায় প্রতিদিনই ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ ছোটবড় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। 

এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান।

আরও পড়ুন :- কাশ্মীরে সরকার বিরোধী পোস্টার লাগানোয় গ্রেফতার ৮

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড