• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভারতের বিরুদ্ধে জিলানীর ৫ দফা প্রতিবাদ কর্মসূচি

  এস এম সোহাগ

২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৫৯
জম্মু-কাশ্মীর
সর্বদলীয় হুরিয়াত সম্মেলনের (এপিএইচসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ জিলানী। ছবি : এপি

কাশ্মীর পদক্ষেপের কারণে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ৫ দফা 'কর্মসূচির প্রক্রিয়া' জারি করেছে কাশ্মীরের সর্বদলীয় হুরিয়াত সম্মেলনের (এপিএইচসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী শাহ জিলানী। ভারত প্রশাসনের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে মোদী সরকারের 'নৃশংস দমন অভিযান'কে প্রতিহত করতে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা, কাশ্মীরি পুলিশ কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানি জনগণকে আহ্বান জানান জিলানী।

শুক্রবারের (২৩ আগস্ট) তারিখ দেয়া থাকলেও রবিবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত কাশ্মীরের জনগণের উদ্দেশে জারিকৃত একটি খোলা চিঠিতে জিলানী সাম্প্রতিক ঘটনার বিশদ তুলে ধরে নিন্দা করেন। নিন্দার মধ্যে জিলানী কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ছিনিয়ে নেয়া, ৩ সপ্তাহ ধরে লাগাতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। 'ডন'

জিলানীর পাঁচ পয়েন্ট

প্রায় ৭ দশকের স্বায়ত্তশাসনকে কেড়ে নিয়ে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বিরুদ্ধে এই প্রথম কাশ্মীর ভিত্তিক কোনো সংগঠন প্রতিবাদের এমন ঘোষণা দিলেন। হুরিয়াত চেয়ারম্যান জিলানী কাশ্মীরের স্বাধীনতা রক্ষা ও ভারতের বর্বর পদক্ষেপ ও দমনমূলন অভিযানকে প্রতিহত করতে ৫ দফার একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেন। 

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য 'আন্তরিক আবেদন' :

জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের প্রতি সাহসের সঙ্গে 'ভারতের নগ্ন বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার' জন্য একটি 'আন্তরিক আবেদন' জারি করেন জিলানী। নিজ নিজ এলাকায় 'শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ' সংগঠিত করার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি আহ্বান জানান।

জিলানী বলেন, 'এটি করার সময়, অবশ্যই আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে। শত্রুরা, যারা সশস্ত্র এবং হত্যা করতে প্রস্তুত, তাদের আমাদের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করার কোনো অজুহাত দেয়া যাবে না। আমাদের বিক্ষোভগুলো একেবারে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে যাতে আরও বেশি লোক যোগ দিতে পারে। এরপরেও যদি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী আমাদের সমাবেশগুলোতে হামলা করে, তবে সম্ভাব্য প্রাণহানির পুরো দায় তাদের ওপর বর্তাবে এবং বিশ্ব তাদের এই অপকর্মের সাক্ষী থাকবে।'

'অবমাননার' বিরুদ্ধে সরকারী কর্মকর্তা ও পুলিশকে প্রতিবাদের আহ্বান :

জিলানী ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা, আমলাদের পাশাপাশি অধিকৃত অঞ্চল থেকে নিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'তারা বুঝতে হবে, 'হাতে হাত রেখে নিজের লোকের ওপর নিপীড়নের সময় নীরব থাকার পরেও, ভারত তাদের ওপর আস্থা রাখেনি।' ভারত সরকারের এমন 'অপমান' এর বিরুদ্ধে 'উঠে দাঁড়াতে এবং প্রতিবাদ করার' প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জিলানী উল্লেখ করেন, 'সাম্প্রতিক ঘটনার সময় কীভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করা হয়েছিল এবং পুরো কমান্ডটি ভারতীয় সেনা ও আধাসামরিকদের দেয়া হয়েছিল তা আমরা দেখেছি।'

'এমন অবমাননার পরেও যদি তারা উঠে দাঁড়াতে এবং প্রতিবাদ করতে জাগ্রত না হয়, তাহলে বোধহয় কোনো কিছুতেই তারা জাগবে না। তাদের চেতনা এবং বিশ্বাস নিয়ে শোক প্রকাশ করা উচিত এবং কাশ্মীরে ভারতপন্থি রাজনীতিবিদদের মতো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকতার জন্য তাদের অপেক্ষা করা উচিত।'

বিশ্বব্যাপী কাশ্মীরিদের 'রাষ্ট্রদূত' হিসেবে কাজ করতে হবে : 

জিলানী অধিকৃত ভূখণ্ডের বাইরে বসবাসরত কাশ্মীরিদের সারা বিশ্বে কাশ্মীরি জনগণের রাষ্ট্রদূত হয়ে অভিনয় করে প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

জিলানী বলেন, 'কাশ্মীরের ইতিহাস এবং তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত জ্ঞানকে ব্যবহার করে ভারতের নিপীড়ন ও বর্বরতার কথা তুলে ধরা উচিত। বিশ্বের অন্যান্য অংশের নানান প্রান্তিক ও সংগ্রামী জাতির সাথেও তাদের যোগাযোগ করে প্রতিরোধের সংহতি গড়ে তোলা উচিত।'

পাকিস্তানি নেতাদের 'এগিয়ে আসতে' হবে : 

কাশ্মীরি এই নেতা 'পাকিস্তানের জনগণ এবং বিশেষত তাদের নেতাদের ও মুসলিম উম্মাহকে (সাধারণভাবে) অবরুদ্ধ কাশ্মীরের মানুষদের সহায়তার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আপনারা (পাকিস্তান) কাশ্মীর বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ এবং ঐক্য ও পদক্ষেপের এটাই মুখ্য সময়।'

'আজ যদি আপনারা ফের তথাকথিত বাস্তববাদে জর্জরিত হন এবং স্পষ্টভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তবে ইতিহাস আপনাদের (পাকিস্তান) ক্ষমা করবে না এবং এমনকি আপনাদের আগত প্রজন্মও ক্ষমা করবে না। আপনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে উচ্চ স্তরে চালিয়ে যেতে হবে এবং পুরো শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে ভারতের প্রতারণামূলক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।'

জম্মু, লাদাখের বাসিন্দাদের নিজস্ব পরিচয় রক্ষা করতে হবে :

জিলানী বলেন, 'ভারতের দখল এবং এর কৌশল কেবল অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের বিরুদ্ধেই নয়, জম্মুর ডোগরা সম্প্রদায়, লাদাখের বৌদ্ধ সম্প্রদায়, পীর পাঞ্জাল ও কারগিলের মুসলমানদেরও জন্যেও হুমকিস্বরূপ।'

জিলানী সতর্ক করে বলেন, 'ভারত কেবল আমাদের জমি দখল করতে চায় না, বরং আমাদের সম্মিলিত পরিচয় এবং ভ্রাতৃত্বকে নষ্ট করারও পরিকল্পনা করছে। তাদের জঘন্য ষড়যন্ত্রকে যে কোনো মূল্যেই হোক সফল হতে দেয়া যাবে নয়। আমাদের জীবন, সম্পত্তি এবং জনমিতিক ধারাকে সুরক্ষিত করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে প্রতিরোধ সংগ্রামের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।'

ভারত সরকার ৭ দশকের স্বায়ত্তশাসিত জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটো আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। জিলানী বলেন, 'ভারতের জানা উচিত, তারা যদি তাদের পুরো সশস্ত্র বাহিনীকে আমাদের রাজ্যে নিয়ে আসে, তবুও জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ তাদের অধিকার ও মুক্তির লড়াই বৃথা যেতে দেবে না।'

কাশ্মীরি এই নেতা আরও বলেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো 'কাশ্মীরে ভারতের প্রকৃত প্রতারণামূলক এবং পাশবিক প্রবণতাকে' দেখায়। তিনি লিখেন, 'দিল্লির শাসকরা শক্তি ও মর্যাদাবানতায় মাতাল হয়েছে এবং তারা মানবতা, নৈতিকতা এবং গণতন্ত্রের সমস্ত নিয়ম কানুন অমান্য করেছে।'

'ভারত কাশ্মীরের জনগণকে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে ফেলেছে, সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই, বেশ কয়েকটি গুজব এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে সরকার।'

কাশ্মীরের পরিস্থিতি যেন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রকাশ করতে না পারে সেজন্য ভারত সরকার আগে থেকেই সেখান থেকে সব গণমাধ্যমকে সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিল। এই রাষ্ট্র 'আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাশ্মীরি জনগণের সংগ্রামের আখ্যানকে অবলম্বন করার জন্য দীর্ঘকাল ধরে বিস্তৃত ছলচাতুরী ব্যবহার করে আসছে।'

জিলানী আরও বলেন, 'অত্যাচারীরা বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে, তবে ইতিহাস কাউকে রেহাই দেবে না। শূন্য পৃষ্ঠাগুলো উচ্চস্বরে কথা বলবে। ভারতের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কাশ্মীর ইস্যুটি সারা বিশ্বে আগের থেকে আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।' 

'কাশ্মীর নিয়ে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজ এর সুস্পষ্ট উদাহরণ। এই দৃশ্যে আমরা আশাবাদী যে, এই বার্তা আন্তর্জাতিক মিডিয়া হয়ে আপনার কাছে পৌঁছে যাবে' বলে জিলানী তার চিঠি শেষ করেন। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড