• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

কাশ্মীরি মুসলিমদের গণহত্যার আগাম সতর্কবার্তা প্রকাশ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৩২
কাশ্মীরি নারী
সড়কে বিক্ষোভরত কাশ্মীরি নারী। (ছবিসূত্র : জিনহুয়া)

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর উপত্যকাটিতে গণহত্যার বিষয়ে আগাম সতর্কতা জারি করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনোসাইড ওয়াচ। গত ১৫ আগস্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি। 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) পাক গণমাধ্যম 'দ্য ডনে'র প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যা প্রতিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে সেই সতর্ক বার্তাটি জারি করা হয়েছে। যেখানে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও আসামে গণহত্যার প্রাথমিক ১০টি ধাপ বা লক্ষণের কয়েকটি এরই মধ্যে স্পষ্ট করা হয়।

বিবৃতিতে সংস্থাটির দাবি, সম্পূর্ণ একতরফা ও অবৈধভাবে পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিল করেছে সরকার। যার প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনের হাত দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলে এখন গণহত্যা চালানোর পথ খোঁজা শুরু করেছে।

জেনোসাইড ওয়াচ তাদের বিবৃতিতে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থামাতে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জাতিসংঘ ও তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টনের গণহত্যা বিষয়ক দশটি বিষয়ের আলোকে এই সতর্কবার্তাটি জারি করেছেন।

১. জনগণের শ্রেণীকরণ : কাশ্মীরে ভারতীয় হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী সেনাবাহিনীকে ভারত সরকার 'আমরা' এবং কাশ্মীরি মুসলিম জনগণদেরকে 'তারা' এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।

২. প্রতীক চিহ্নিতকরণ : গণহত্যা প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এবং সেই ধাপে কাশ্মীরি নাগরিকদের প্রত্যেকের মুসলিম নাম, ভাষা, পোশাক এবং মসজিদকে সনাক্ত করা হয়েছে।

৩. বৈষম্য : ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ করত প্রধানত হিন্দু পণ্ডিতরা। তবে পরবর্তীতে সেই ধারায় পরিবর্তন আসলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি পুনরায় কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের প্রভাব বৃদ্ধি করে দিয়েছে।

৪. অমানবিকতা : কাশ্মীরের মুসলমান নাগরিকদের 'সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদী, অপরাধী এবং বিদ্রোহী' নামে অভিহিত করা হচ্ছে; যার মাধ্যমে তাদের সমাজে এক রকম দানব হিসেবে দেখানোর পায়তারা চলছে।

জেনোসাইড ওয়াচ

কাশ্মীর ইস্যুতে জেনোসাইড ওয়াচের প্রকাশিত বিবৃতি। (ছবিসূত্র : কাশ্মীর টাইমস) 

৫. সংগঠিতকরণ : সংকট নিরসনের নামে ভারি আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রায় ১০ লাখের বেশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং পুলিশকে কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

৬. মেরুকরণ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ক্ষমতাসীন দল বিজেপি রাজ্যটিতে একের পর এক মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসব গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

৭. প্রস্তুতি : বর্তমানে গোটা কাশ্মীর উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে ভারতের সামরিক বাহিনী। তাই এখন যেকোনো মূল্যে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণকে 'চূড়ান্ত সমাধান' হিসেবে দেখছে বিজেপি।

৮. দমন-পীড়ন : কাশ্মীরের সকল মুসলিম নাগরিকদের খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে তাদের ওপর অবাধে গ্রেফতার, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার মতো কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

৯. বিলুপ্তকরণ : ১৯৯০ সাল থেকে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী কাশ্মীরে অন্তত ২৫টির বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। যার মাধ্যমে তারা প্রায় পঁচিশজনের বেশি মুসলমান বিদ্রোহীকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আওতায় নিয়ে এসেছে।

১০. অস্বীকার : বর্তমানে কাশ্মীরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের দাবি করেছে ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যদিও আদতে তারা তা না করে রাজ্যে গণহত্যার মতো কাজ পরিচালনা করছে। যদিও শুরু থেকে তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

১৯৯৯ সাল থেকে জেনোসাইড ওয়াচ বিশ্বে গণহত্যা প্রতিরোধ, বন্ধ ও এ অপরাধের শাস্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের দাবি সংস্থাটি এসবের পাশাপাশি গণহত্যা এবং সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন; আর ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে।

আরও পড়ুন :- পুলিশি ধাওয়ায় পানিতে ডুবে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

এমন প্রেক্ষাপটে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে যদিও অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বাহিনীর আরও প্রায় ৮ হাজার সদস্যকে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে উপত্যকায় কারফিউ জারির পাশাপাশি টেলিফোন-ইন্টারনেট সেবাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। তবে এত কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও সেখানে কাশ্মীরিদের বিক্ষোভ ঠেকাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড