• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাশ্মীর দখল বন্ধে এবার আওয়াজ তুলেছে মার্কিন সাংসদরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ আগস্ট ২০১৯, ১৫:০৬
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : সংগৃহীত

জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিকদের কণ্ঠ রোধ করে তাদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া দিল্লির বিরুদ্ধে এবার প্রহসন বন্ধে মার্কিন সাংসদদের আহ্বান। মার্কিন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ডেকে জানান যে, তারা অধিষ্ঠিত জম্মু ও কাশ্মীরের 'বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন।'

স্মিথ ভারতের রাষ্ট্রদূতকে, 'চলমান যোগাযোগের ব্ল্যাকআউট, অঞ্চলটির সামরিকীকরণ বৃদ্ধি এবং কারফিউ প্রয়োগের বিষয়ে বৈধ উদ্বেগ' এর কথা জানান। ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট স্মিথ জানান যে, তার নির্বাচনী অঞ্চলে জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু বাসিন্দা ছিল এবং তারা ৫ আগস্টের পরে অঞ্চলটিতে পরিদর্শন করেন।

'তারা অঞ্চলটিকে অবরুদ্ধ, বাসিন্দারা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখে। অঞ্চলটির বাইরের অংশে যোগাযোগের কোনো সুযোগই নাই' বলে জানান মার্কিন এই সাংসদ। তিনি ভারতকে মনে করিয়ে দেন যে, 'এই অঞ্চলের মুসলিম জনসংখ্যা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠী- বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে- এই সিদ্ধান্তের দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাব্য বৈষম্যের প্রভাব স্বীকার করা অপরিহার্য।'

'ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থা পুনর্বিবেচনার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায়' মার্কিন পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য সিনেটর বব মেনেন্দেজ এবং হাউস পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস সদস্য এলিয়ট এল এঙ্গেল একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন।

এই দুই সংসদ সদস্য নয়াদিল্লিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, 'বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে, ভারত তার সমস্ত নাগরিকদের পক্ষে সমাবেশের স্বাধীনতা, তথ্য অ্যাক্সেস এবং আইনের আওতায় সমান সুরক্ষাসহ সমান অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রচারের গুরুত্ব প্রদর্শন করার সুযোগ পেয়েছে।'

মার্কিন সাংসদরা ভারত সরকারকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, 'স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এবং আমরা আশা করি যে, ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে এই নীতিগুলো মেনে চলবে।'

নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান যুভেট্টে ক্লার্ক কাশ্মীরে এখন যা ঘটছে সে সম্পর্কে তার আওয়াজ তুলে 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র) কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে যা করছেন, তা করার কোনো অধিকার মোদীর নেই। ন্যায়বিচারের জন্য আওয়াজ, স্বশাসনের জন্য এবং ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যহীনতার বিরুদ্ধে আমাদের আওয়াজ তোলা আমাদের দায়িত্ব, তা এখন আমাদের ওপর নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর আরও ভালো জানা উচিত, আমাদের সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে।'

কংগ্রেস নিয়ে আওয়াজ তোলা মার্কিন সাংসদরা, স্মিথ (ওপরে বামে), বব (নিচে বামে), এলিয়ট ( নিচে মাঝে) এবং কংগ্রেসওম্যান যুভেট্টে ক্লার্ক। ছবি : সংগৃহীত

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে যখন ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার সময় হবে তখন 'মার্কিন কংগ্রেসকে মোকাবিলার জন্য এই বিষয়টি সামনে আসবে এবং একে কেন্দ্র করে আমরা সরাসরিভাবে মোকাবেলা করব।'

কংগ্রেসম্যান স্মিথ বলেন, ৫ আগস্টের পরে তার নির্বাচনকেন্দ্রগুলো থেকে যারা কাশ্মীর সফর করেছিলেন তারা সেখানে থাকার সময় প্রাণ সংশয়ের কথা তার কাছে বলেছিলেন। সেখানে তারা 'নিজের জীবনের জন্য ভীত, এবং এই অঞ্চলে তাদের পরিবারের সদস্য যারা রয়েছেন তাদের সুরক্ষার জন্য আতঙ্কিত' ছিলেন।

স্মিথ বলেন, 'ভারত সরকারকে এই আশঙ্কা কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যা ঘটছে তা দেখার জন্য বিশ্বের কাছে বৃহত্তর স্বচ্ছতায় জবাবদিহি করতে হবে'।

স্মিথ ভারতকে 'মৌলিক মানবাধিকার এবং সমান অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতি' প্রদর্শন করার আহ্বান জানান। নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে করিয়ে দেন যে, তাদের 'নীতিগত সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই উত্তাল থাকা পরিবেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে'।

'পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রাখতে আমি উত্সাহিত করি এবং উগ্রবাদী মতাদর্শকে অনুপ্রাণিত করে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে সংযত হতে' বলেছে স্মিথ।

বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন এই বিবৃতিতে মন্তব্য করতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখে যে, সহিষ্ণুতা দেখানোর পরিবর্তে ভারত বিপরীত কাজ করেছে। তারা বলে, 'কাশ্মীরিদের সাথে ভারতের চেয়ে কারও খারাপ আচরণ করা সম্ভব না- যেমন সমাবেশের স্বাধীনতা, তথ্য অ্যাক্সেস এবং আইনের আওতায় সমান সুরক্ষাসহ' কিছুই নেই।

ফোর্বস বলছে, 'ভারত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার আগে কাশ্মীর সংসদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। কাশ্মীরিদের রাজনৈতিকভাবে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ দেয়নি তারা। শুধুমাত্র অসাংবিধানিকভাবেই এটা কেড়ে নেওয়া হয়নি, কাশ্মীরীদের আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শের অধিকারও কেড়ে নিয়েছে। ভারত কাশ্মীরকে স্বাধীন রাজ্য থেকে একটি ফেডারেল ভূখণ্ডে পরিণত করেছে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড