• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

আরএসএসের ভারত : কাশ্মীরে শুরু, এরপর অযোধ্যা-বারানসি-মাথুরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৩
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : সংগৃহীত

গত সাত দশকে ভারতের প্রাক্ত সরকাররা যা করে দেখাতে পারেনি , তা দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ৭০ দিনেই করে দেখিয়েছে বিজেপি সরকার। চলতি বছর ২য়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হওয়া দেশটির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এমন ঘোষণা করেছিলেন। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলে সরকারের পদক্ষেপটি দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের এক দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অংশ।

সংঘের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপের অর্থ কী তা বোঝার জন্য, নিউজ ১৮ আরএসএসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পন্ডিত শ্রীধর দামলের সাথে কথা বলেন। যিনি আমেরিকান পণ্ডিত ওয়াল্টার অ্যান্ডারসনের সঙ্গে দুটি বই এর সহ-লেখক, যার মধ্যে সর্বশেষটি হ'ল 'আরএসএস : আ ভিউ টু দা ইনসাইড'।

আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল হওয়া অবশ্যই আরএসএসের মনোবল বৃদ্ধিতে কাজ করেছে। সংগঠনটি এই পদক্ষেপকে 'সাহসী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত' হিসাবে বর্ণনা করেছে। আরএসএস এর মেজাজ এখন কেমন, দামলের কাছে তা জানতে চান নিউজ ১৮-এর সাংবাদিক।

উত্তরে দামলে বলেন, সেই ১৯৪৭ থেকেই ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা সংঘের এজেন্ডার একটি ছিল। এটা তখনকার পরিকল্পনা যখন পণ্ডিত প্রেমনাথ ডোগরা ভারতীয় জন সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে প্রজা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাজ্যটিকে সমগ্র দেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতকরণের জন্য আন্দোলন করেছিলেন।

দামলে বলেন, 'আমি আরএসএসের কিছু নেতার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা এখন অনেক বেশি। তাদের কাছে ৩৭০ অনুচ্ছেদটি আলসারের মতো ছিল এবং এটি থেকে মুক্তি পাওয়ায় ভাল হয়েছে বলে জানান। এর আগে সংঘের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে যারা সংশয়ী ছিল, তারা এখন চুপ হয়ে আছে। আমরা আপনাকে আগেই বলেছিলাম, তিনি (মোদী) পারবে, নেতাদের কাছ থেকে কর্মীদের পক্ষে এটাই বলা হয়েছে।'

আরএসএস এখন পুরোপুরি মোদী-শাহ রীতিতে কাজ করার শর্ত মেনে চলেছে, যা আগে সংঘের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যজনক ছিল না। আসলে, ভারতে কাশ্মীরের 'সম্পূর্ণ সংহতকরণ' আরএসএসের ভারত ধারণাটিরই বাস্তবায়ন। 

 'আরএসএস : আ ভিউ টু দা ইনসাইড'-এর সহলেখক পন্ডিত শ্রীধর দামলে। ছবি : সংগৃহীত

পন্ডিত শ্রীধর দামলে বলেন, 'দেখুন, ভারতীয় সংবিধান ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ফেডারেল প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করে যেখানে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা থাকে। তবে, আরএসএস ভারতের রাজ্যগুলোকে একটি ইউনিয়ন হিসাবে দেখেনা, তারা ভারতকে কেবল এক জাতির দেশ হিসাবে দেখে।'

আরএসএসের দৃষ্টিভঙ্গিতে, ভারতীয় সংসদের সর্বশেষ বাজেট অধিবেশন অবশ্যই আরএসএসের অনুকূল বাজেট। প্রথম তিন তালাককে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা, যাকে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়নের দিকে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তারপরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা। অয্যোধ্যায় রাম জন্মভূমি মামলা নিয়েও দিনের পর দিন শুনানি হচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমটি দামলেকে আরএসএস এর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন করেন। 

'হ্যাঁ, গত কয়েক সপ্তাহে ভারতে যা ঘটছে তা আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাল হয়েছে। রাম মন্দির সম্পর্কে, সংঘের বর্তমান মেজাজটি হ'ল 'রাম মন্দির বান্নে ওয়ালা হায় (রাম মন্দিরটি শীঘ্রই নির্মিত হবে)' বলে উত্তর দেন দামলে। 

এ নিয়ে দামলের পর্যবেক্ষণটি হ'ল, আদালতের কাছ থেকে তারা যদি রাম মন্দির ইস্যুতে অনুকূল রায় পান তবে, এরপরে ভিএইচপি তত্ক্ষণাতই কাশী বিশ্বনাথ এবং মথুরা কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরগুলোর জন্য আন্দোলন শুরু করবে। তারা জনগনের মধ্যে এক বিশাল প্রচারণা চালিয়ে আদালতের কাছে যেতে পারে।

দামলে বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড সম্পর্কিত, 'আমি মনে করি না তারা সরকারকে এই বিষয়টি তাড়াহুড়ো করার জন্য চাপ দেবে। ইতোমধ্যেই অনেক কিছু চলছে। তারা এ জন্য সময় নিবে। আমার ধারণা হ'ল, তারা প্রথমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করবে, প্রথমেই তারা খ্রিস্টানদের ঐক্যবদ্ধ করবে।

ঘটনাচক্রে দ্বিতীয় আরএস প্রধান এমএস গোলওয়ালকর আইনত ইউসিসি বাস্তবায়নের বৃহত্তম সমালোচক ছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আপনি আইন দ্বারা মানুষকে পরিবর্তন করতে পারবেন না- বাল্য বিবাহ এবং যৌতুকের প্রচলন এখনও অব্যাহত রয়েছে। আপনার আগে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার দরকার ছিল এবং এটি একটি দীর্ঘ প্রকল্প। সুতরাং আমি মনে করি, আরএসএস এই বিষয়ে একটি আইন করার জন্য সরকারকে তাত্ক্ষণিকভাবে চাপ দিতে চাইবে না।

এমএস গোলওয়ালকর (বামে) ও মুরলিধর দেওরাস (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

তাহলে, আপনি কী মনে করেন সংঘের জন্য পরবর্তী বড় এজেন্ডা হতে চলেছে? উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী দেশের জনসংখ্যা বিস্ফোরণ সম্পর্কে কথা বলেছেন। এটি সম্পর্কে সংঘ কতটা গুরুতর?, নিউজ ১৮ সর্বশেষ প্রশ্ন করেন দামলেকে।

দামলে বলেন, আমি দিল্লির আরএসএস সদর দফতরে একবার ভৌরাও দেওরাসের (মুরলিধর দেওরাস, আরএসএসের এক প্রবীণ নেতা এবং তৃতীয় আরএস প্রধান মধুকর দত্তাত্রায় দেওরাস ওরফে বালাসাহেব দেওরাসের ছোট ভাই) সঙ্গে দেখা করেছি তখন জনসংখ্যা বিষ্ফোরণ নিয়ে কথা হয়েছিল। 

'জনসংখ্যা বিস্ফোরণ নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে এক ঘন্টা কথা বলেছিলেন। ১৯৮৮ সালের ঘটনা এটি। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে আমার মতামত শোনার জন্য তিনি খুব আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি আমাকে তখন বলেছিলেন যে, আজ হোক বা কাল, জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের জন্য একটি বিশাল সমস্যা হয়ে উঠবে।' 

দামলে সবশেষে বলেন, 'আমি মনে করি তিনি (দেওরাসে) চীনের 'এক সন্তান নীতি' নীতিতে আগ্রহী ছিলেন। সুতরাং, হ্যা জনসংখ্যা বিস্ফোরণের বিষয়টি আরএসএসের পরিকল্পনায় রয়েছে, তারা একে খুব কাছ থেকে এবং সতর্কতার সাথে অনুসরণ করবে।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড