• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

কাশ্মীরের দীর্ঘকালীন নিয়ন্ত্রণে মোদীর ৪ স্তরের নীল নকশা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৪:২৪
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : ইন্ডিয়া টুডে

কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ভারত শাসিত গোটা জম্মু-কাশ্মীর, কারফিউয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বিচার করে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ মাধ্যম। উপত্যকা ঘিরে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তার জন্য চলতি মাসের শুরু থেকেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে দেয় ভারতীয় প্রশাসন। এখানেই শেষ নয়, কাশ্মীরিদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ায় আগামীতেও যাতে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা হাতের বাইরে না যায় তার জন্য নীল নকশা করেছে মোদীর জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। আর মোদীর এই বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপেকে চারটি স্তরে কার্যকর হবে। 

জম্মু-কাশ্মীরের মূল দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ ৪ শতাধিককে আটক করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ভারী সামরিক এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ৭০ হাজারের বেশি সেনা। বিশেষ মর্যাদা হারানো জম্মু-কাশ্মীরকে দীর্ঘকালীন শান্ত রাখতে যে ৪টি স্তরের পরিকল্পনা করেছে মোদী তা তুলে ধরা হলো। 

প্রথম স্তর

প্রথম স্তরে থাকবেন খেতাব প্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা। যাদের বলা হচ্ছে 'মুভার্স অ্যান্ড শেকার্স'। এই দলের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বুদ্ধিজীবীদের সব সমাবেশে উপস্থিত থাকবে। জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলোর নানা অনুষ্ঠানে, জমায়েত থেকে কারা নীরবে সহিংসতায় মদত দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন অভিযুক্তদের আটক করতে পারে। এমনকি গৃহবন্দী করেও রাখতে পারবে।  

দ্বিতীয় স্তর

শান্তি বজায় রাখতে মোদীর কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় পদক্ষেপ হবে ক্ষুব্ধ কাশ্মীরী যুব সম্প্রদায়কে নজরে রাখা। যারা প্ররোচিত হয়ে পাথর ছোঁড়ে তাদের আটকানো। এক্ষেত্রে কমিউনিটি বন্ডের চিন্তাভাবনা রয়েছে প্রশাসনের। ২০টি পরিবারের থেকে মুচলেকা নিবে এই মর্মে যে, তাদের পরিবারের যুবকরা পাথর ছোঁড়ার মতো কার্যকলাপে জড়িত থাকবে না।

ছবি : সংগৃহীত 

তৃতীয় স্তর

নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) দিয়ে প্রায়শই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা ভারতে অনুপ্রবেশ করে, যেখানে পাকিস্তান সরাসরি তাদেরকে সহায়তা করে বলে ভারতের অভিযোগ। কাশ্মীরকে শান্ত রাখতে তা বন্ধ করা ছাড়া ভারতের হাতে আর কোন উপায় নাই। এক্ষেত্রে সীমান্ত সুরক্ষা পর্যালোচনা করাই হবে তৃতীয় স্তরের কাজ। ভারতের সীমান্ত সেনাদের আরও সতর্ক রাখা হবে। পাঞ্জাব ও জম্মুর সীমান্তের নিরাপত্তাও কড়া করা হবে।

চতুর্থ স্তর

চতুর্থ ধাপে মোদী প্রশাসন ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের ধর্মীয় প্রধানদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখবে। অনেক সময়, তাদের মাধ্যমেও অশান্তি ছড়াতে পরে বলে আশঙ্কা বিজেপি সরকারে। ফলে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিজেপি সরকার খুবই কড়া মনোভাব নিচ্ছে ও প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে।

দুসপ্তাহের বেশি সময় ধরে জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে প্রশাসন। প্রথমে, পর্যটক ও অমরনাথ যাত্রীদের উপত্যকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তারপর, রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাকে আটক করা হয়। কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৪০০ কর্মী বর্তমানে জেলে। তবে, পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে বলে ভারত দাবি করে। 

শনিবার থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কাছে ল্যান্ডলাইন পরিষেবা খুলে দেয়া হয়েছে। রাজ্যর অনেক জায়গায় জমায়েতেও নিষেধাজ্ঞা শিথিত করা হয়েছে। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর নজর রয়েছে সবসময়। টুজি মোবাইল ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে আংশিকভাবে। যদিও স্বায়ত্তশাসন হারানো কাশ্মীর এখনও থমথমে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড