• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

কাশ্মীর নিয়ে পাক-চীনা-রুশ আতঙ্কে কোণঠাসা ভারত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৪৮
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : সংগৃহীত

ভারত শাসিত কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের জের শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের ভঙ্গুর সম্পর্কে টানপোড়েন বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে নতুন করে ক্ষত তৈরি হল মোদী সরকারের। এবারে কাশ্মীর নিয়ে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে ফের বিবাদ তৈরি হয়। পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে এমন বৈরি সম্পর্ক নিয়ে ভারত ইতোমধ্যেই আতঙ্কিত, তারোপর রাশিয়ার চীনাপন্থী অবস্থান ভারতকে আরও কোণঠাসা করে দিয়েছে। 

চীন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশগুলোকে) সঙ্গে নেয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। গতকাল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধির বক্তব্য ইতোমধ্যেই কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের। 

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এ কথা বলার পরেও রাশিয়ান পক্ষ যোগ করেছেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলোকেও মান্যতা দিতে হবে। অথচ ভারত কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘসহ কোনও তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো বরদাস্ত করা হবে না বরাবর জানিয়ে আসছিল। রাশিয়ার এমন মন্তব্যের পেছনে বেইজিং-এর ইন্ধন রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এখন। 

আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর দ্বিতীয় আলোচনা হতে চলেছে। তার আগে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিয়ে চীন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতার জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।   

দীর্ঘ ৫ দশক পরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীর। প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন চীনের অনুরোধে এই বৈঠক আয়োজিত হয়। জাতিসংঘের সিলমোহর মারা কোনও ভারত-বিরোধী বিবৃতি দেয়নি পরিষদ তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটি দেশই মোটের ওপর ভারতের পাশে থেকেছে। কিন্তু, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না।  

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পেছনে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে রয়েছে বেইজিং-এর নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ভারতের প্রতিপক্ষ এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনায় কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল বৈঠকের আগে এবং পরে এবং বৈঠকের ভেতরে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধিও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন, যার ইঙ্গিত স্পষ্ট। 

আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেইজিং-এরও। চীন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি সংসদীয় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়েই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীর বলতে গিলগিট, বালতিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মীর এবং আকসাই চীনকেও বোঝায়। 

আরও পড়ুন : দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি, চীনের উত্থানে চাপে ভারত

আকসাই চীনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন সেদিন। অথচ, এতদিন পর্যন্ত আকসাই চীনকে ভারত 'বিতর্কিত ভূখণ্ড' বলেছে। লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চীন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত, চীন এমন উদ্বেগই প্রকাশ করে। পাশাপাশি ১৯৬২-র যুদ্ধের পরে চীনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেয়া ৫,১৮৩ বর্গ কিলোমিটার জমি নিয়েও এবার টানাপড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা বেইজিং-এর। 

শনিবার (১৭ আগস্ট) জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবর উদ্দিন উত্তাপ আরও বাড়ায় চীন এবং পাকিস্তানকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করার মাধ্যমে। বিষয়টি ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে টানটান করে তুলল বলে মনে করা হচ্ছে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড