• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ভেটো চীনের আহ্বানে বসছে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৯
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : সংগৃহীত

ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসতে চলেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা আটটায় ওই বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। ভারত শাসিত কাশ্মীরের ৭০ বছরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান, বিশ্বের বিতর্কিত উপত্যকার সঙ্কট সমাধানে বিশ্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দাবি করেছে পাকিস্তান। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, 'চার দশক পর নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়ে যে বৈঠক হতে চলেছে তা নজিরবিহীন।' কুরেশির মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে পাক সরকারি সংবাদমাধ্যম পিটিভি জানিয়েছে, এটা দু-দেশের জমি সংক্রান্ত বিষয় নয়, এটা মানবিকতার বিষয়। বিশ্বকে এটা বুঝতে হবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, 'আমরা আশা করি যে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যে অধিষ্ঠিত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার বক্তব্য দ্বারা সুরক্ষা কাউন্সিলের আলোচনার দিকে পরিচালিত হবে।'

'নিরাপত্তা পরিষদের সামনে উপস্থাপিত এই ইস্যু ১৪ মিলিয়নেরও বেশি লোকের বেদনা, যন্ত্রণা ও দুর্দশার বিষয়। তাদের রাজ্য ভেঙে দেয়া হয়েছে, তাদের স্বাধীনতা চুরি হয়েছে যাতে ভারত সরকার তাদের পরিচয় ছিনিয়ে নিতে পারে' সঙ্কট সমাধানে আহ্বান জানিয়ে লোধি বলেন। 

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ এবং তাকে দু-ভাগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল পাকিস্তান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে যায় চীনও। আগস্ট মাসের জন্য পরিষদের সভাপতিত্বকারী দেশ পোল্যান্ডকে চীন চিঠি দিয়ে জানায়, এই বিষয়ে তারা গোপন বৈঠক চায়। 

জাতিসংঘের কূটনীতিবিদ প্রথমে জানিয়েছিলেন, এখনই ওই বৈঠকের দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অবশেষে শুক্রবার ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয় নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়া ও মধ্য আফ্রিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পাকিস্তানের চিঠির প্রসঙ্গটা তোলে চিন।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। শাহ মহম্মদ কুরেশি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দেন। চিঠিতে রীতিমতো হুমকির সুরে বলা হয়, 'আমরা কোনো দ্বন্দ্ব চাই না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।'

অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের জন্য জোরদার চেষ্টাও চালান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিষয়টি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের সংযত থাকার পরামর্শ দেয় বিশ্ব নেতারা। সংযত থাকার কথা বলেন অ্যান্তোনিও গুতেরেসও। 

নিরাপত্তা পরিষদের বাকি চার সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়াকে পাশে না পেলেও, চীন কিন্তু এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন আগেই চীনের সমর্থন পেতে সে দেশে যান কুরেশি। পরে তিনি দাবি করেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পক্ষে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্য দিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পক্ষে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নিরাপত্তা পরিষদের ১০ অস্থায়ী সদস্য দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। বেলজিয়াম, আইভরি কোস্ট, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, পেরু, পোল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ইন্দোনেশিয়া এবং কুয়েত ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও, চীনা অনুরোধে বাকিদের সমর্থন আদায়ে রাজি করানো কঠিন হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড