• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাশ্মীর ইস্যুতে ইরানে বিক্ষোভ : ইমরান-রুহানির ফোনালাপ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৩৬
ইমরান খান ও হাসান রুহানি
কাশ্মীর ইস্যুতে ইরানি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। (ছবিসূত্র : পার্স টুডে)

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সেখানকার শিক্ষার্থীরা। যা নিয়ে এরই মধ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এক ফোনালাপ করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। 

ইরানি গণমাধ্যম 'পার্স টুডে'র খবরে বলা হয়, এবারের ফোনালাপে রুহানি ভারত ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকে এসব ইস্যুতে আরও বেশি সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা এটাই এক মাত্র পথ যার মাধ্যমে কাশ্মীরের বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, 'কাশ্মীর সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই, কেননা উভয় পক্ষকে সম্পূর্ণ কূটনৈতিক উপায়েই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে আরও বেশি সংযম প্রদর্শনের মাধ্যমে কাশ্মীরে হত্যাকাণ্ড এবং নিরাপত্তাহীনতা ঠেকানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।'

ফোনালাপ রুহানি আরও বলেন, 'আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশের নিরাপত্তা তেহরানের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় ইরান অতীতের মতো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা হবে না।'

ইমরান খান ও হাসান রুহানি

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। (ছবিসূত্র : দ্য ডন)

এ দিকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এবং সেখানকার জনগণের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ইরানে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যেখানে চলমান ইস্যুটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। 

ভারত শাসিত এই অঞ্চলটিতে চলমান বিপন্নতার প্রতিবাদে সোমবার (১২ আগস্ট) ঈদের দিন সন্ধ্যায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র মাশহাদ শহরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী সমাবেশটির আয়োজন করেন। যেখানে বিক্ষোভকারীরা কাশ্মীরে হত্যা-নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানান; একই সঙ্গে ভারত সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। 

ইরানি শিক্ষার্থীদের আয়োজিত সেই কর্মসূচিতে বলা হয়, সাম্রাজ্যবাদীরা এই অঞ্চলকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করছে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে বড় বড় বুলি আওড়ালেও কাশ্মীরে হত্যা-নির্যাতনের বিষয়ে তারা এখন নীরব রয়েছে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রধের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

আরও পড়ুন :- কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধের আশঙ্কা : প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান

অপর দিকে এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন; আর ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড