• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গত ৬ দিনে কোনো গুলি চলেনি : কাশ্মীরি পুলিশ প্রধান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০০
কাশ্মীর
কাশ্মীরের সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে কথা বলছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস। (ছবি : টিআরটি ওয়ার্ল্ড)

ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেসামরিকদের আহত হওয়ার যে ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এমনটাই দাবি করেছেন কাশ্মীরি পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং। 

রবিবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, 'সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে উপত্যকায় যে উত্তেজনা ছিল তা ঠিকই, তবে এখনো কোনো হিংসার ঘটনা ঘটেনি। গত ৬ দিনে কাশ্মীরে একটাও গুলিও চলেনি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।'

এর আগে গত সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রধের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এ দিকে জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করে ক্ষমতাসীন মোদী সরকার।

মূলত সরকারের সেই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য গোটা কাশ্মীরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত হাজার হাজার সেনা সদস্য। তাছাড়া সীমিত করা হয়েছে ইন্টারনেট সেবাও। এর পাশাপাশি এতদিন জারি কড়া ছিল কারফিউও। 

এ দিকে আগামী সোমবার (১২ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহা। যে কারণে এমন পরিস্থিতিতে কাশ্মীরিদের তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেটসহ সকল যোগাযোগ মাধ্যমের উপর থেকে এরই মধ্যে সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। গত শনিবার থেকে খুলেছে স্কুল, কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কাশ্মীর

কাশ্মীরের সড়কে টহলরত পুলিশ সদস্য। (ছবিসূত্র : দ্য কাশ্মীর টাইমস)

বেশ কয়েকদিন যাবত কারফিউয়ের কবলে থাকা কাশ্মীরবাসি যাতে আনন্দের সঙ্গে তাদের ঈদ উদযাপন করতে পারেন এবং প্রবাসী কাশ্মীরিরা সহজেই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে আসতে পারেন; মূলত সে জন্যই সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

অপর দিকে কাশ্মীরি পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিংয়ের কথায়, 'গত ক’দিনে বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি দক্ষিণ কাশ্মীরেও পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। আগামী সোমবার ঈদের আগে রাজ্যের আরও কিছু স্থানে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।'

বিশ্লেষকদের মতে, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণসহ রাজ্যটির যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায়; গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য সেখানকার পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটা অনেকাংশেই কঠিন হয়ে পড়েছে। 

যদিও এসবের মধ্যেও গত ৮ আগস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা 'রয়টার্স' জানিয়েছিল, এরপরও অঞ্চলটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ পালিত হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আট কাশ্মীরির সাক্ষাৎকার নিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম 'দ্য হাফিংটন পোস্ট'।

আরও পড়ুন :- ট্রেনের পর এবার দিল্লি-লাহোর রুটে বাস সেবাও বন্ধ

যদিও কাশ্মীর পুলিশ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, অচলাবস্থার পরও রাজ্যের কোনো অঞ্চলে গুলি ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড