• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

'কত দিন কারফিউ চাপিয়ে রাখবে? বিক্ষোভ হবেই'

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৫৩
জম্মু-কাশ্মীর
ছবি : আল-জাজিরা

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নিতে রবিবার (৪ আগস্ট) রাত থেকেই কারফিউ জারি করেছিল দিল্লি। শুক্রবার ১৪৪ ধারা কিছুটা শিথিল করলে শ্রীনগরের রাস্তায় কিছু মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। দুপুরে অনেকে স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন। কিন্তু পাথর ছোঁড়া বা বিক্ষোভ প্রদর্শন হলেও মাত্রা ছাড়ায়নি, তবে মানুষ যে ক্ষুব্ধ, কথাবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট বলে জানায় ভারতের গণমাধ্যম।

যদিও দোকান-বাজার খোলেনি, আধাসেনা ছিল সমান তৎপর। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম বলেন, 'মানুষ স্থানীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছেন। সুযোগসন্ধানীরা যাতে গোলমাল করতে না পারে, সেই জন্য কড়া পাহারা থাকলেও নামাজিদের আটকানো হয়নি।'

আগামী সোমবার ভারতের একমাত্র মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলটিতে পবিত্র ঈদ। তার আগে শুক্রবার দিনটি ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পরীক্ষা। দিনের শেষে ভূ-স্বর্গের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ ছাড়া দিনটি শান্তিতে কাটে, স্বস্তি পায় নয়াদিল্লি। তবে, কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে কোথায় আটক করে রাখা হয়েছে, জানা যাচ্ছে না।

উপত্যকায় কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিকভাবে ফিরে এসেছিল। তবে দুপুরের পরে ফের তা বিচ্ছিন্ন করা হয়। কাশ্মীরে টানা পাঁচ দিন কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও, জম্মুর বড় অংশ থেকে তা তুলে নেওয়া হয়। চার দিন পরে স্কুল খুলেছে। গত কালই প্রবাসী কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার দপ্তরে দুটি হেল্পলাইন খোলা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে আজ কয়েকশো লোকের লাইন পড়ে। ভিড়ের বহর দেখে সেনাদের ৩০০ ফোন দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের পরে শ্রীনগর বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ও সিপিআই নেতা ডি রাজাকেও। দলের অসুস্থ বিধায়ক ইউসুফ তারিগামিকে দেখতে শ্রীনগরে গিয়েছিলেন সীতারাম। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে তাদের বেরোতে দেওয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টা পরে তারা দিল্লির বিমানে ওঠেন।

কারফিউ শিথিল করলেও শ্রীনগরের জামে মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। তবে, স্থানীয় মসজিদগুলোতে জমায়েতে ছাড় দেওয়া হয়। শ্রীনগরের ঈদগাহ এলাকা ঘুরে দেখেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এর মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে জলপথে জঙ্গি হানার আশঙ্কায় আজ সর্তক করা হয়েছে নৌবাহিনীকে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে দিল্লী, মুম্বাই ও গুজরাটে। কাশ্মীরের জেল থেকে আরও ২০ জনকে আগ্রায় সরানো হয়েছে।

শুক্রবারই মোদী কাশ্মীরিদের ঈদ পালনে প্রশাসনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। শুক্রবার বৈঠকে বসেন গভর্নর সত্যপাল মালিক ও ডোভাল। পরে, সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, 'উপত্যকায় ঈদ পালন হবে।' খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে যাতে সমস্যা না-হয়, সেই জন্য রোজ বিভিন্ন এলাকার ৩০০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে, উপত্যকার একাংশের দাবি- কাশ্মীরিদের মন নয়, জমি লুটতেই ৩৭০ তুলে নিয়েছে কেন্দ্র। শ্রীনগরের একটি মসজিদের সামনে ঝুলছে হাতে লেখা পোস্টার— 'ভারতীয়দের জমি বেচবেন না, সোমবার ঈদের নামাজের পরে মিছিলে যোগ দিন!' পুলিশের এক কর্তা বলেন, 'আজ কিছু হয়নি, কিন্তু ঈদের দিন যে কী হবে!'

৩২ বছর বয়সী তারিক আহমেদের কথায়, 'মানুষ নজর রাখছেন। কত দিন কারফিউ চাপিয়ে রাখবে? বিক্ষোভ হবেই। আর লাঠি-গুলি চললে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, কেউ বলতে পারে না!' সরকারি কর্মী ওয়েসিস বলেন, 'কাশ্মীরবাসীকে এভাবে দাবিয়ে রাখবে ভেবেছে ওরা? উল্টো ফল হবে এই কৌশলের।'

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড