• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রিয় সন্তানকে ঈদে বাড়ি আসতে নিষেধ করল এক কাশ্মীরি মা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:০৮
জম্মু-কাশ্মীর
উত্তপ্ত ভূ-স্বর্গের ভাগ্যবতী মায়েরা সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতেও পারলেও অনেকের কপালে জুটেনি সন্তানদের কণ্ঠস্বরটুকুও। ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে কাশ্মীরি প্রবাসী সন্তান তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে, যদিও এক মা তার সন্তানকে দুদিন পরের ঈদে বাড়ি যেতে নিষেধ করেছে, তবুও সন্তানরা তাদের পরিবারের সঙ্গে অন্তত যোগাযোগ তো করতে পারছে, জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থিত প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে ইন্টারনেট-টেলিফোনের মাধ্যমে, এটাই হয়তো তাদের সান্ত্বনা। শুক্রবার (৯ আগস্ট) ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের ব্লাকআউট শিথিল করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আংশিক সচল করে। 

স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে কাশ্মীরকে পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে কারফিউ জারি করে ভারত সরকার। জুমা ও ঈদকে সামনে রেখে সেই কারফিউ আংশিক শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লী। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কাশ্মীরিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছে।

শ্রীনগরে ভারত তাদের জরুরি বহির্মুখী কল করার জন্য দুটি টেলিফোন লাইন খুলে দেয়ার পরে কাশ্মীরিরা এই অঞ্চলের বাইরে অবস্থানকারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ 'কাদের কল করা যাবে এবং তাদের কথোপকথনটি কী হবে' তা প্রকাশের পরেই এই কলগুলো করার অনুমতি দেয়।

'বেশিরভাগ কলই সংশোধিত ছিল এবং অপারেটররা কথোপকথনের সময়কালকে প্রায় এক মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল' বলে দা প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। রবিবার (৪ আগস্ট) গভীর রাত থেকেই কাশ্মীরে সুরক্ষার নামে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে ভারত সরকার। 

ছবি : সংগৃহীত

ইন্টারনেট, টেলিফোন সংযোগ, গণমাধ্যম, স্কুল-কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে, ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী অঞ্চলটির পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করে।

দা প্রিন্ট কাশ্মীরের শ্রীনগরের হাওয়ালের বাসিন্দা ফাহমিদাকে উদ্ধৃত করে বলে, 'আমার মেয়েটির এই সপ্তাহে আসার কথা ছিল, তবে যোগাযোগ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরে সে কোনো টিকিট বুক করেনি। তাই আমরা সারাদিন আমাদের দরজার দিকে তাকিয়ে রয়েছি, সে এসেছে কিনা তা দেখতে। সে চণ্ডীগড়ে কেমন ছিল আর কার্ফিউর মধ্যে সে কীভাবে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছাবে তা নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম।'

'আজ, আমরা যখন তাকে ফোন করলাম, সে আগামীকাল আসার কথা জানাল। সে আসছে তা যে আমরা জানতে পারব তা কি আপনি বিশ্বাস করতে পারেন, আমরা ঠিক সময়ে কল করতে সক্ষম হয়েছি? মেয়েটি বিমানবন্দর থেকে পায়ে হেঁটেই বাড়ি আসার পরিকল্পনা করেছিল। এখন আমরা তাকে আনতে বিমানবন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারি' বলে তিনি জানান।

কাশ্মীরের আরেক অধিবাসীকে উদ্ধৃত করে দা প্রিন্ট জানায়, 'বেঙ্গালুরুতে আমার ছেলেকে আমার স্বামী কল করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে আমি যেতে চাই কারণ, নারীদের চেয়ে চেক পয়েন্টে পুরুষদের বেশি থামায়। আমি জওহর নগর থেকে হেঁটে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম।'

এই কাশ্মীরি মা তার নাম প্রকাশ করেনি, তবে নিজেকে 'মৌজা আখ'- যার অর্থ 'অনেক মায়ের একজন' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'সে প্রথমেই কেঁদে ফেলেছে, কিন্তু আমি তাকে আমাদের চিন্তা না করে নিজের খেয়াল রাখতে বলেছি। আমি তাকে ঈদে বাড়ি আসতে নিষেধ করেছি, যেহেতু এখানকার পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।'

দা প্রিন্টের প্রতিবেদন অনুসারে, যখন এরা কল করছিল তখন আরও অনেক লোক ছিলেন, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারতের সরকারি অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ কাশ্মীরিদের জন্য সরকার সময় নির্ধারিত করে দিয়েছিল। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কল করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। অনেক মায়েরা এই সময়ের মধ্যে তাদের সন্তানদের যোগাযোগ করতে পারেনি।

ছবি : ডন 

বিলম্বে-আগতদের জন্য কোনো ব্যতিক্রম ব্যবস্থা করবে কি না কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তাদের পরের দিন আসতে বলা হয়েছে বলে জানায়। যেহেতু 'কোনো মহিলা কর্মকর্তা ছিলেন না ,তাই যারা ফোন কল করতে চাইছেন সে নারীদের দেহ চেক করতে পারেনি'।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক কাশ্মীরি নারী জানান, তাকে অফিসের ভেতরে যেতে দেয়া হয়নি এবং সন্ধ্যার পরে নারীদের বাইরে বের করে দেয়া হয় যেহেতু সেখানে কোনো নারী নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। অতিরিক্ত ৭০ হাজার সেনা মোতায়েন করলেও ভারত সরকার কাশ্মীরি মায়েদের জন্য সন্ধ্যার পরে কোনো নারী নিরাপত্তা কর্মীকে রাখতে পারেনি, যে মায়েরা কদিন ধরেই তাদের সন্তানদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেনি, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রবাসী স্বজনদের জানাতে পারেনি উত্তপ্ত কাশ্মীরে তারা কেমন আছে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড