• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিভক্ত কাশ্মীর

কাশ্মীরে নবযুগের সূচনা, দাবি মোদীর

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪৮
প্রধানমন্ত্রী মোদী
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (ছবিসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে)

চূড়ান্ত উত্তেজনার মধ্যেই বিভক্ত করা যাচ্ছে ভূস্বর্গ খ্যাত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (জম্মু-কাশ্মীর)। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় কেন্দ্র সরকারের। 

যদিও এর মাধ্যমে রাজ্যটি নতুন দিনের পথচলা শুরু করল বলে মন্তব্য করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরে এখন থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তাছাড়া উপত্যকায় উন্নয়নে এক নবযুগের সূচনা হবে।’ 

কর্তৃপক্ষের বরাতে গণমাধ্যম ‘এনডিটিভির’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবর স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন। বৃহস্পতিবার প্রয়াত এই নেতার ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুজরাটে আয়োজিত এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্যটি করেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ আজ থেকে একটি নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। যার ফলাফল অঞ্চলটির জনগণ খুব শিগগিরই ভোগ করতে পারবে। আজ থেকে তারা আর আলাদা নয়, আমরা সবাই ভারতীয়।’

এ দিকে কাশ্মীর ইস্যুতে সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের মাধ্যমে অবিভক্ত জম্মু-কাশ্মীরের ওপর আরোপিত রাষ্ট্রপতি শাসন পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

অপর দিকে গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা বংশগত অধিকার আদায়ের বিষয় বাদ দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগসহ বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মূলত এর মাধ্যমে দুটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সরাসরি রাজধানী দিল্লি থেকে শাসন করা হবে। যা কাশ্মীর ইস্যুতে গত আগস্টে ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেওয়া বিতর্কিত পদক্ষেপের অংশ বলে দাবি বিশ্লেষকদের।

এর আগে কাশ্মীরকে দুই ভাগ করার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ইস্যুতে এরই মধ্যে অঞ্চলটিতে এক চূড়ান্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। যার অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন যাবত অঞ্চলটিতে নিয়মিত হামলা চলছে। গত এক সপ্তাহে কাশ্মীরে হামলায় ভারতীয় সেনাসহ প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১২ জন।

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকেই অঞ্চলটিতে প্রায় ১০ লাখ সেনা মোতায়েন করে ভারত। বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা। এর মধ্যে সেখানে মোবাইল ফোন সেবা চালু হলেও ইন্টারনেট সেবা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

আরও পড়ুন :- অবশেষে উত্তেজনার মধ্যেই ভাগ হলো কাশ্মীর

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান ও এশিয়ার পরাশক্তি চীন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড