• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

২২ দিন পরেও আসেনি জীমের মা

  মোহাম্মদ রনি খাঁ

১৯ জুলাই ২০১৯, ০২:৪৮
শিশু জীম
হাসপাতালের বেডে শিশু জীম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

হাসপাতালে নিজের বাচ্চা জীমকে নিয়ে এসেছেন এক ভদ্র মহিলা, সম্ভবত বাচ্চাটির মা তিনি। একটু পরে, পাশের বেডে ভর্তিকৃত আরেক বাচ্চার মাকে বললেন, ‘ভাবী, আমার মেয়ে জীমকে একটু দেহেন, আমি মোবাইলে টাকা ভরে আইতেছি।’ এ কথা বলেই বেড়িয়ে যান জীমের মা।

এরপর পেরিয়ে যায় দীর্ঘ ২২ দিন, তবুও দেখা মেলেনি সেই মায়ের। এর আগে, এ বছরের ২৫ জুন জীমকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তার মা। ৪ দিন ধরে জ্বর-কাশিতে ভুগছে বলে হাসপাতালে ভর্তি করান সাত মাসের মেয়ে জীমকে। 

তবে, মা ফিরে না আসায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। পরে দেখা যায়, যে ঠিকানা ব্যবহার করে বাচ্চাটিকে ভর্তি করা হয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকি ভুল ঠিকানার সঙ্গে প্রদত্ত নাম্বারটিও ভুল। 

জীম দীর্ঘ ২২ দিন ধরে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে। জীমকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন সে নিউমোনিয়া ও সেরেব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত ছিল। তবে নিউমোনিয়ার রেশ কেটে গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসার পর নিউমোনিয়া থেকে মুক্তি মিললেও সেরেব্রাল পালসির জন্য দরকার আজীবন ফিজিওথেরাপির৷ তবে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি সম্ভব বলে বলছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

এদিকে, বাচ্চা জীমকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাভারের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগ। দেখাশোনা করা, কাপড় বদলানো, সময় মতো খাবার খাওয়ানোর জন্য হাসপাতালের এক বা একাধিক কর্মচারীকে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারাও।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ‘বেশ কিছু পরিবার যারা পূর্বে বাচ্চা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো দম্পতিই জীমকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন না।’

সেরেব্রাল পালসির কারণে জীমের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জড়তা রয়েছে। এছাড়াও হাত-পায়ের সন্ধিস্থলগুলো অনেক শক্ত। এতে করে জীম ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারে না। তার ঘাড়ের নিয়ন্ত্রণও নেই তার কাছে।
 
ডা. মিজানুর আরও জানান, ‘এভাবে বেশিদিন হাসপাতালে থাকলে হাসপাতালের বিভিন্ন রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে জীম আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাবে। পরে হয়তো বা তাকে আর বাঁচানো যাবে না। তাই অতি দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। জীমের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও বিশেষ যত্ন। যা সাধারণ কোনো হাসপাতালের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না।’ 

মেডিকেল অফিসার ডা. মাহে মনির নিঝুম জানান, ‘আমরা যতটা পারছি নিজেদের মতো করে বাচ্চাটির যত্ন নিচ্ছি। কিন্তু মায়ের যত্ন কি আর ডাক্তার দিয়ে হয়! বাচ্চাটি বেশিদিন এখানে থাকলে আরও বিভিন্ন রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে যাবে। এরপরে তাকে বাঁচানো কষ্টকর হয়ে যাবে।’

ওডি/এমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড