• শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একজন কিরণ, অতঃপর ‘Orso clothing’    

  অমিয় প্রসাদ ধ্রুব

২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:০২
একজন কিরণ, অতঃপর ‘Orso clothing’ 
মীর মুশফিকুর রহমান কিরণ (ফাইল ছবি)

পৃথিবীতে যে কয়টি দেশে বেকার সমস্যা সবচেয়ে চরম আকার ধারণ করছে বাংলাদেশ তাদেরই দলে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাগণসহ রাষ্ট্র প্রধানও বারবার তরুণদের প্রতি উদ্যোক্তা হয়ে উঠবার আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রতিনিয়ত। কারণ প্রতি বছর অসংখ্য তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মসংস্থান না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। শিক্ষিত মানুষ বাড়ছে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে চাকুরির জন্য হাহাকার রয়েছে চরম পর্যায়ে।

যেখানে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী নিজেদের সংসারের হাল ধরতে নাজেহাল অবস্থা পার করছেন, সেখানে কিছু তরুণ সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকল বাধা বিপত্তিকে উৎরিয়ে তারা যেমন নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিজেরাই করছেন, তেমনি কর্মসংস্থান করছেন অসংখ্য তরুণ-তরুণীর।

এমনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা মীর মুশফিকুর রহমান কিরণ। জীবনের নানা মায়াজাল, নানা যাতনা ভুলে তারুণ্যের উদ্যম আর প্রজ্ঞা আজ তার চলার পথের পাথেয় হয়েছে। তারই সাক্ষ্য তার নিজের চেষ্টা ও মেধায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান Orso clothing। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কিরণ স্বপ্ন দেখেন তিনি একদিন বাংলাদেশের সেরা ট্যাক্সদাতা হবেন।

মহাকালের রথের চাকা থামে না কখনো, চলে সে এগিয়ে, চলছে এখনো। বদলায় যুগ, কাল। জীবনধারা বদলে যায়, সংস্কৃতি বদলে যায়। বিজ্ঞানের অনাবিষ্কৃত জগতের রহস্য সন্ধানে জগতের সবচেয়ে বড় রহস্য মানুষ সর্বদা ন্যস্ত এবং মহা ব্যস্ত। নিজেদের প্রয়োজনে আনন্দের নানা উপকরণ মানুষ নামক রহস্যময় সৃষ্টি নিজেরাই করেছে সৃষ্টি। অনাসৃষ্টির নানা উপকরণের করণ এবং কারণ তাদেরই আবিষ্কার।

মানুষ তার জীবন ধারণের প্রান্তে ঘটনার ঘনঘটায় মৌলিক চাহিদার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধিকল্পে জন্ম দিয়েছে কাপড়ের যা দিয়ে আমরা আমাদেরকে আবরিত করি। শুদ্ধ আধুনিক ভাষায় যাকে আমরা ‘পোশাক’ বলে ডাকি। যুগে যুগে পোশাকের আকারে, প্রকারে, সীমানায়, মাধ্যমে এসেছে আবর্তন, এসেছে বিবর্তন।

যুগের সেই বিবর্তনে, সময়ের চাহিদায় এই যুগে এসে পোশাক অর্থাৎ ইংরেজিতে আর স্মার্ট করে যাকে আমরা এপারেল বলি, গার্মেন্টস বলি, এগুলো নতুন আঙ্গিকে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। পোশাক, এপারেল, বা গার্মেন্টস এখন ফ্যাশনে রূপ নিয়ে বিভিন্ন মাত্রা বিভিন্ন ধারা যুক্ত হয়ে ফ্যাশনকে নতুন চেহারা দান করেছে বর্তমান সময়। এরই সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তরুণ উদ্যমী উদ্যোক্তা মীর মুশফিকুর রহমান কিরণ চেষ্টা ও মেধায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান Orso clothing।

শুরুর গোল জানতে চাইলে Orso clothing এর স্বপ্নদ্রষ্টা কিরণ গল্প বলে যান, আমার মূল ব্যবসা হচ্ছে বাইং হাউজের ব্যবসা। আমার অফিসে আমার বিভিন্ন বন্ধুরা আসতো কারও বিভিন্ন ব্রান্ডের টি-শার্ট বা জিন্স এর আবদার থাকতো। তো দেখা যেত অফিসের ভেতরে আমরা সেই ব্যাপারটা নিয়ে কমফোর্ট ছিলাম না। তো দেখা গেছে কোনো এক ঈদে আমার একদল বন্ধু এসে অনেক বেশি পরিমাণের জামা-কাপড় নেয়। আগে হত কি, আমার কাছের বন্ধুরা এই cloths গুলো এমনিই নিয়ে যেত।

কিন্তু এবার দেখলাম তারা cloths গুলো টাকা দিয়েই নিল। সে রাতে তারা প্রায় ৪৮ হাজার টাকার কেনাকাটা করে। তখন আমার এক বন্ধু সেতু এই পরিস্থিতি দেখে আমাকে ব্যবসার পাশাপাশি একটা শো রুম দিতে বলে। এই ব্যাপারে গল্প করতে করতে একটা চা খেতে একটা দোকানে আসি আর সেই চায়ের দোকানের পাশেই টুলেট ঝুলানো একটা দোকান দেখতে পাই। আর দেখেই পছন্দ হয়ে যায়। সেখানেই ওরস এর শো রুম আলোর মুখ দেখে। তো এভাবেই শুরু হয়ে যায় আমার Orso এর পথচলা।

ORSO অন্যদের থেকে কেন আলাদা এটি নিরূপণ করতে বললে তিনি বলেন, যদি ভালো করে খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন সব বিষয়েই আমরা অন্যদের থেকে আলাদা। আমাদের আসলে মূল ক্রেতা হচ্ছেন যুবক থেকে মাঝ বয়সের মানুষেরা। দেখা যাচ্ছে আমরা আগে তাদের চাহিদাগুলোকে বুঝার চেষ্টা করি। তারপর আমরা বাজারে পণ্য আনি। আমি যদি আমার কাস্টমার সার্ভিসের কথা বলি তাহলে আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে অনেক সহজে মিশতে পারি।

আমার ক্রেতারা আমার শো-রুমে নিজেদের মত ঘুরে ফিরে পণ্য পছন্দ করে পণ্য ক্রয় করে। এ ব্যাপারে আমরা ক্রেতাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করি না। আর আমরা কাস্টমার সার্ভিসের কথা মাথায় রেখে আরও একটি নতুন বিষয় সংযোজন করেছি, সেটি হচ্ছে, কেউ যদি কোনো পণ্য কিনে বাসায় নিয়ে যায় এবং বাসায় যাবার পর পণ্য যদি পছন্দ না হয় বা কোনো কারণে ভাল না লাগে তাহলে সে নির্দ্বিধায় সেটিকে পরিবর্তন করতে পারবে তাও আবার সময়সীমা ৩০ দিন।

আর এই এত বড় সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবর্তনের অফারটি বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেয় কি না আমার সন্দেহ আছে। আর আমার এই কাস্টমার সার্ভিসের জন্যই দেশের জাতীয় ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় থেকে থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের নায়করাও আমার নিয়মিত ক্রেতা। দেখা গিয়েছে নায়ক সিয়াম আহমেদ তার কিছু চলচ্চিত্রেও আমার পণ্য গুলোকে তার সিনেমায় কস্টিউম হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর দামের ব্যাপারে যদি বলি তাহলে অন্যান্য ব্রান্ডের পণ্যের তুলনায় আমার পণ্যের মান পুরোটাই একই রেখে আমরা অর্ধেক দামে পণ্য দিচ্ছি।

আজ থেকে ১০ বছর পর Orso কে কোথায় দেখতে চান, এমন প্রশ্ন জনাব কিরণের দিকে ছুড়ে দিলে তিনি জানান, সত্যি কথা বলতে orso কোনো শব্দ না এটা আমার সন্তানের মতো। একটা সন্তানকে মানুষ যে ভাবে লালন করে আমিও ঠিক তেমনিভাবে গত ৪ বছর ধরে orso লালন পালন করেছি। আর আমি চাইবো এই সন্তান যেন সুসন্তান হয়ে বড় হয়ে উঠে এবং সবাই যেন আমার এই সন্তানকে ভালো বলে সেটা আমি চাইবো। আর আমি নিজেকে ১০ বছর পরে বাংলাদেশের সেরা ১০ কর দাতাদের কাতারে দেখতে চাই।

তরুণ যে সকল ছেলে মেয়ে উদ্যোক্তা হতে চাই তাদের জন্য পরামর্শ চাইলে তিনি যুক্ত করেন,

এই ব্যাপারে আমার জীবনে একটা গল্প আছে, তাহলে সেটাই বলি। আমি আমার ব্যবসা জীবন শুরু করার আগে একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম তখন সেই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মিটিং এ আমাকেও উপস্থিত থাকতে হতো। তার মধ্যে একবার এক বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন আমি তার কাছে জানতে চাই, আমি মাত্র গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি এবং আমি ব্যবসা করতে চাই কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা নাই।

তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন Every good relationship is an investment for every business. সো একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক অর্থাৎ পজিটিভ ওয়েতে নেটওয়ার্কিং করা, সাহস, স্বপ্ন, আর দিনকে রাত ও রাতকে দিন করে দেওয়ার মতো ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্রিয়েটিভিটিকে ফুটিয়ে তোলা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড