• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জীবন্ত যে জীবন, একজন তাজবীর সজীব 

  সাঈদ মাহাদী

২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪২
জীবন্ত যে জীবন, একজন তাজবীর সজীব 
তাজবীর সজীব (ফাইল ছবি)

কি লিখলে লেখা সঠিক হবে বোঝা দায়। কারণ যাকে নিয়ে আমার এ লেখা, তুলনামূলক কম বয়সে তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অর্জন। যেগুলোর সম্মিলিত ওজন বেশ বেশি।

তিনি একাধারে সংগঠক, উদ্যোক্তা, লেখক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক, সাপ্পাই চেইন লিডার, ডিজিটাল মার্কেটিং লিডার।

৯টি ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হাত থেকে ৯টি জাতীয় পর্যায়ের এওয়ার্ড প্রাপ্তি তার অর্জনের ঝুলি বাড়িয়েছে।

শিক্ষা জীবনে তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ এর ডিএমসি, বুয়েটের ডিসিই থেকে অধ্যয়ন তার একাডেমিক পড়ালেখাকে করেছে সমৃদ্ধ।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি ছাড়াও ৪টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তার এমবিএ রয়েছে। গুগলের ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা থেকে ৪টি কষ্টসাধ্য সার্টিফিকেট কোর্স তার অর্জনে পালক যুক্ত করেছে।

এছাড়াও দেশ বিদেশের নানাবিধ স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন।

তিনি শুধু পড়েছেন ব্যাপারটি এমন নয় তিনি ৪টি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সময়ে শিক্ষকতা করেছেন। এবং ১৬ বছর যাবত সহস্রাধিক কলেজ শিক্ষার্থীদের তিনি সফট স্কিল ট্রেইনিং দিয়েছেন তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিকভাবে।

হাজার হাজার কর্পোরেট সার্ভিস হোল্ডারদেরকে তিনি ডিজিটাল মার্কেটিং এবং সাপ্লাই চেইন নিয়ে ট্রেইনিং দিয়েছেন।

তিনি নটর ডেম কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ায় কলজের পক্ষ থেকে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রীর হাত থেকে ‘অনারেবল ম্যানশন’ সন্মাননা অর্জন করেন। এটি তার জীবনের সকল অর্জনের মধ্যে অন্যতম সেরা বলে তিনি দাবি করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, যে কলেজে ভর্তি হওয়ায় কঠিন সেখানে তিনি এত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে সেরা হয়েছেন, এটি তার জীবনের চলার পথকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তাজবীর সজীব নামে তার ১২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও ৫টি বই ২০২৩ এর বইমেলায় আলোর মুখ দেখার অপেক্ষায়।

তার গল্প অল্পতে শেষ হবার নয়। তাই অল্প করেই সেরে ফালা যাক তার জীবনের আরও কিছু কথন।

তার ডাক নাম সজীব হলেও তিনি এখন তাজবীর নামেই শুনতে পছন্দ করেন। কারণ অজানা, ‘কারণ’ তাকে জিজ্ঞেস করলেও তিনি বলতে রাজি হননি।

সার্টিফিকেটে মোঃ তাজবীর হোসাইন হলেও সাংবাদিকতা, লেখালিখি এবং সংগঠনের সকলের নিকট তিনি তাজবীর সজীব নামেই পরিচিত।

যা বলছিলাম। অল্প করে তার জীবনের গল্প বলা বেশ কঠিন। জীবনের প্রতিটি স্তরে স্তরে যে ঝড় ঝঞ্ঝা, প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব বাধা বিপত্তি পেরোনোর গল্প, বেশ বড়। ঝড়ে পোড়া, ঝরে পরতে পরতে আলোর বিচ্ছুরণ হওয়ার সে গল্পগুলো আজ থাক।

বিখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার কয়েক বাড়ি পরেই নানাবাড়িতে তার জন্ম। শৈশবে কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম, নাটক, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

ক্লাস সেভেনে থাকতে সেখানে একটি শিশু সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পরেন। এরপর কুষ্টিয়াতেই বসন্ত পাড়ি দিতে দিতে প্রথম আলো বন্ধুসভা, CDL ইয়ুথ ফোরাম ফোরাম, জিলা স্কুল ডিবেটিং ক্লাব, আনন্দ রেস ক্লাব, দর্পণ থিয়েটারসহ নানাবিধ সংগঠনের সঙ্গে লিডিং পজিশনে যুক্ত হোন।

ইউনিসেফের চাইল্ড প্রোগ্রাম Mass media communication (MMC) তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেই। সেই ছোটবেলাতেই ইউনিসেফের অধীনে শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সাহচর্য ছোট সজিবকে, কাদা মাটি সজীবকে পুরাদস্তুর সাংবাদিকতার বীজ বপন করে দেই।

তিনি জানান- তিনি কখনো সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চাননি, যেহেতু বেলা শুরুতেই তার সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি, এ অব্ধি তিনি ১ ডজনের বেশি মূলধারার গণমাধ্যমে কাজ করেছেন একাধিক গণমাধ্যমের তার হাতে গড়া, একাধিক গণমাধ্যমের জনপ্রিয়তা আনয়নে তার ভূমিকা রয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। তিনি একটি ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং বেশ কিছু ই-কমার্স উদ্যোগের ডিজিটাল মার্কেটিং এডভাইজার হিসেবেও কাজ করছেন। তিনি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় শতাধিক তরুণ উদ্যোক্তাকে বিনা পারিশ্রমিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনা পারিশ্রমিকে তাজবীর সজীব শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে ট্রেইনিং দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানেও তিনি কর্মীদের ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

১৪ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও নিয়ে “ইফেকটিভ মেথড অব ডিজিটাল মার্কেটিং" নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার এই বইটি সর্বাধিক বিক্রিত হিসেবে দেশে স্বীকৃত।

অনেক কথায় লেখা যায়, অনেক গল্পই আঁকা যায়, লেখনীর ভাষায় তাকে নিয়ে, কিন্তু বিশেষ সংখ্যার বিশেষ পাতায় তার জীবনের গল্প আঁটানো ভার। তাই আজ থাক, এখানেই থাক, তার নিজেকে আলোকিত করে সেই আলোর ছটা বিশ্বলোকে ছড়ানোর অভিপ্রায় সফল হোক এই কামনা।

শেষ হয়েও শেষ হলো না, তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার জীবনের লক্ষ্যে কি? তার উত্তর, গুড সোল হওয়া, ভালো মানুষ হওয়া, বোধোদয় সম্পূর্ণ মানুষ হওয়া, সুস্থ, সুন্দর, সুখী হওয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড